সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মালে: ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সুনয়না (INS Sunayna) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে (Male) পৌঁছে সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিকের সূচনা করল। ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ এই জাহাজের আগমন ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ওশান শিপ (Indian Ocean Ship বা IOS) ‘সাগর’ (SAGAR) উদ্যোগের অধীনে এই মোতায়েন করা হয়েছে। মালে বন্দরে পৌঁছানোর পর মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (Maldives National Defence Force বা MNDF) -এর তরফে জাহাজটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই অভ্যর্থনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, আইএনএস সুনয়না-তে একটি বহুজাতিক ক্রু রয়েছে, যেখানে ১৬টি বন্ধুত্বপূর্ণ বিদেশি দেশের (Friendly Foreign Countries বা FFCs) সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এমনকী মালদ্বীপেরও দুইজন প্রতিরক্ষা কর্মী এই ক্রুর অংশ হিসেবে জাহাজে রয়েছেন। এই বহুজাতিক অংশগ্রহণ সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

যাত্রাপথে জাহাজের ক্রুরা নানা ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ছিল নৌচালনা দক্ষতা (seamanship), ক্ষুদ্র অস্ত্র ব্যবহার (small arms firing) এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ (damage control) সংক্রান্ত মহড়া। এই প্রশিক্ষণগুলি যৌথ প্রস্তুতি ও কার্যকর সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। ভারতের তরফে এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, ‘এই ধরনের যৌথ মহড়া ও সফর পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।’ উল্লেখ্য, মালে পৌঁছানোর পর মালদ্বীপে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার জি. বালাসুব্রহ্মণ্যম (G. Balasubramanian) জাহাজে গিয়ে ক্রুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
এই সফরের সময় পেশাদার ও সামাজিক স্তরে একাধিক কর্মসূচী আয়োজন করা হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করে। আইএনএস সুনয়নার সফর শেষ হওয়ার সময় মালদ্বীপ কোস্ট গার্ডের সঙ্গে একটি প্যাসেজ এক্সারসাইজ (Passage Exercise বা PASSEX) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যক্ষমতা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই অভিযান শুরু হয়েছিল ২ এপ্রিল ২০২৬ -এ মুম্বাই (Mumbai) থেকে, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ (Sanjay Seth) আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটিকে যাত্রার সূচনা করেন। এই উদ্যোগ ভারতের ‘Neighbourhood First’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। এছাড়াও, ‘মহাসাগর’ (MAHASAGAR বা Mutual and Holistic Advancement for Security and Growth Across Regions) ধারণার অংশ হিসেবেও এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল লক্ষ্য হল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সহযোগিতার সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বহুজাতিক অংশগ্রহণ, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত সফরের মাধ্যমে ভারত তার সামুদ্রিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষিতে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ‘One Ocean, One Mission’ ধারণার প্রতিফলনও এই অভিযানে দেখা যাচ্ছে। এই ধারণা অনুযায়ী, সমুদ্রকে একটি যৌথ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তার সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। আইএনএস সুনয়নার এই সফর তাই কেবল সামরিক কার্যক্রম নয়, তা কূটনৈতিক, কৌশলগত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার এক বহুমাত্রিক উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : From Silent Era to Modern Times: IFFD Exhibition Celebrates Indian Cinema




