Delhi unauthorized colonies regularisation PM UDAY scheme | দিল্লির অবৈধ কলোনি বৈধকরণে বড় সিদ্ধান্ত, ৪৫ লক্ষ মানুষের জীবনে প্রভাব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে দিল্লির অবৈধ কলোনিগুলিকে বৈধ করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Delhi unauthorized colonies regularisation)। ‘যেখানে আছে, যেমন আছে’ ভিত্তিতে (as is where is basis) কলোনিগুলিকে নিয়মিত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শহরের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল (Manohar Lal) এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লির প্রায় ৪৫ লক্ষ বাসিন্দা সরাসরি উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা নিজেদের বাড়িতে বসবাস করেও আইনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta) বলেন, ‘এই উদ্যোগ মানুষের জীবনে স্বস্তি ও মর্যাদার নতুন অধ্যায় যোগ করছে।’

আরও পড়ুন : Karmayogi Sadhana 2026 webinar | কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহে প্রযুক্তির ঝলক, এআই থেকে সেমিকন্ডাক্টর, ৩ এপ্রিলের ওয়েবিনারে ভবিষ্যৎ ভারতের রূপরেখা

আরও পড়ুন : Kisan Credit Card Scheme India | কৃষকদের আর্থিক শক্তি বাড়াতে ‘কিষাণ ক্রেডিট কার্ড’ বিপ্লব, ৭.৭২ কোটির বেশি কৃষক পাচ্ছেন সস্তা ঋণ, কৃষি উন্নয়নে বড় ভরসা KCC

এই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ২০১৯ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী-উদয় যোজনা (PM-UDAY Scheme)। সেই সময় কেন্দ্র সরকার ‘দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে অবৈধ কলোনির বাসিন্দাদের সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃতি’ সংক্রান্ত বিধি জারি করে। ওই পরিকল্পনার আওতায় ১,৭৩১টি অবৈধ কলোনির বাসিন্দাদের সম্পত্তির অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১,৭৩১টি কলোনির মধ্যে ১,৫১১টি কলোনিকে কোনও অনুমোদিত লেআউট পরিকল্পনা ছাড়াই নিয়মিত করা হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে যে অবস্থায় নির্মাণ রয়েছে, সেই অবস্থাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর ফলে বহু বাসিন্দা দ্রুত আইনি অধিকার পেতে পারেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল বলেন, ‘এই পদক্ষেপ মানুষকে তাদের সম্পত্তি নথিভুক্ত করতে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেবে এবং তারা আইনসঙ্গতভাবে নিজেদের বাড়ি নির্মাণ বা সংস্কার করতে পারবে।’ তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা নগর উন্নয়নের নতুন ধাপের সূচনা করছে।

এই প্রকল্পের আওতায় সম্পত্তির মালিকানা বা হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন নথি গ্রহণযোগ্য হবে। যেমন জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (General Power of Attorney বা GPA), বিক্রয় চুক্তি, অর্থপ্রদানের প্রমাণ এবং দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র। সরকারি জমিতে নির্মিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রান্সফার ডিড (Conveyance Deed বা CD) দেওয়া হবে এবং বেসরকারি জমির ক্ষেত্রে অথরিটি স্লিপ (Authorization Slip বা AS) প্রদান করা হবে। কিন্তু, কিছু এলাকা এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন সংরক্ষিত বনাঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত এলাকা, যমুনার বন্যাপ্রবণ অঞ্চল (Yamuna Floodplain), প্রধান সড়কপথ, উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চল। এছাড়া ৬৯টি উন্নত অবৈধ কলোনিও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করতে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (Municipal Corporation of Delhi বা MCD) -এর ‘স্বগম’ পোর্টাল (Swagam Portal) -এর মাধ্যমে আবেদন জমা নেওয়া হবে। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সেই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমে জিআইএস (Geographic Information System বা GIS) জরিপ সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে নথির ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর সংক্রান্ত নথি প্রদান করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বিকাশের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন রাস্তার প্রস্থ বজায় রাখতে জমির একটি অংশ ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত সীমার বেশি নির্মাণ হলে অতিরিক্ত ফি ধার্য করা হবে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪০,০০০টি ট্রান্সফার ডিড বা অথরিটি স্লিপ ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই অনুমোদিত লেআউট পরিকল্পনার অভাবে বাসিন্দারা নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমতি পাননি। নতুন সিদ্ধান্ত সেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বহু পরিবার তাদের নিজেদের ঘরে থেকেও আইনি অধিকার পায়নি। এই উদ্যোগ সেই সমস্যার সমাধান করছে এবং মানুষকে মূলধারার নগর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করছে।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শুধু সম্পত্তির অধিকার নয়, নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নেও গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন কলোনিগুলিতে অবকাঠামো উন্নয়নেও সহায়তা করবে। উল্লেখ্য, দিল্লির মতো একটি বড় শহরে অবৈধ কলোনির সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে শহর পরিচালনা ও উন্নয়ন আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SIR India voter list, West Bengal voter deletion | ভারতে এসআইআর আপডেট: তামিলনাড়ুতে সর্বাধিক ভোটার বাদ, পশ্চিমবঙ্গেও বড় ধাক্কা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন