India Russia oil import | রুশ তেল আমদানিতে কারও অনুমতি নয়, জাতীয় স্বার্থই প্রথম, স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্র

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বিশ্বের যে কোনও দেশ থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে তেল কিনতে পারে এবং এর জন্য অন্য কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দেওয়ার খবর সামনে আসার পর বিরোধী শিবিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তারই জবাব দিয়েছে নতুন দিল্লি। কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ভারত তার জাতীয় স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সেই কারণেই অপরিশোধিত তেলের উৎসকে বহুমুখী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ সরকারের দাবি, গত কয়েক বছরে ভারত তার তেল আমদানির উৎস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ২৭টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হত, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টি দেশে।

আরও পড়ুন : India T20 World Cup 2026 Champions | বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের রাজত্ব! নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চাম্পিয়ন ভারত

এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি বলে দাবি কেন্দ্রের। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়লেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প রুট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য একাধিক উৎস ও পরিবহন রুট নিশ্চিত করা হয়েছে।’ সম্প্রতি খবর প্রকাশ্যে আসে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে ভারতকে ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যাতে রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখা যায়। এই খবর সামনে আসতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে, ভারত কী রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য মার্কিন অনুমতির উপর নির্ভর করছে? এই বিতর্কের জবাবেই কেন্দ্রীয় সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ‘ভারত তার জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করে নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী। কোনও দেশের অনুমতির ভিত্তিতে নয়।’ সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং সরবরাহের স্থিতিশীলতা, এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও ভারত রাশিয়া (Russia) থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। বর্তমানে রাশিয়াই ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়েছে। ইউক্রেন সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ‘ভারত সবসময় এমন জায়গা থেকে তেল কেনার চেষ্টা করে যেখানে দাম তুলনামূলক কম এবং সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। এতে দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের উপর জ্বালানির চাপ কমানো সম্ভব হয়।’

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে ভারতের কৌশলগত ভান্ডারে প্রায় ২৫ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল এবং বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রয়েছে। এই মজুত ব্যবহার করে আগামী সাত থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, রুশ তেল কেনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম একটি পোস্টে ভারতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয়রা খুবই দক্ষ কৌশলী। আমরা রুশ তেল কেনার বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেল কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে।’ তবে দিল্লির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত তার জ্বালানি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও দেশের চাপ বা অনুমতির উপর নির্ভর করে না। সরকারের বক্তব্য, ‘ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।’ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ এবং কম খরচে আমদানি নিশ্চিত করা। সেই কারণে ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিচ্ছে। তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে কেন্দ্রের এই স্পষ্ট বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Russia oil import decision, Donald Trump India oil claim | রাশিয়ার তেল নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না: ট্রাম্পের দাবির পরে দিল্লির বার্তা ‘১৪০ কোটির জ্বালানি নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন