Humayun Kabir, Mamata Abhishek Rift | ব্রিগেডের লক্ষভিড়ের ডাক দিয়ে মমতা-অভিষেক ফাটলের বার্তা? হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক কৌশলে নতুন সমীকরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরে নিজের দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (Janata Unnayan Party) গড়ে তিনি যে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন হিসাব কষতে চাইছেন, তা আরও এক বার স্পষ্ট করে দিলেন কলকাতায় দাঁড়িয়ে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, এই ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর মধ্যে বিভাজনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন হুমায়ুন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, আগামী নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর দল এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের গুরুত্ব অপরিসীম হবে। তাঁর দাবি, বিজেপি (BJP) ১০০ আসনের বেশি পাবে না এবং তৃণমূল তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সরকার গঠনের চাবিকাঠি থাকবে জনতা উন্নয়ন পার্টির হাতেই। এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে। এর আগেই হুমায়ুন প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘অভিষেক দাঁড়ালে প্রার্থী দেব না, কিন্তু মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেব।’ মঙ্গলবার ফের সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি মমতার তথাকথিত ‘মন্দির রাজনীতি’কে নিশানা করেন। তাঁর কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করে ধর্মীয় প্রকল্পের শিলান্যাস করছেন, যা কার্যত সরকারি বোঝা বাড়াচ্ছে। হুমায়ুনের ভাষায়, ‘মন্দির হোক, ১০টা হোক, কিন্তু সরকারি টাকায় নয়। রামমন্দির তো সরকারি অর্থে হয়নি।’

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha pregnancy news, Sonakshi Sinha Dabangg Tour exit | অন্তঃসত্ত্বা সোনাক্ষী সিনহা? সলমনের ‘দাবাং ট্যুর’ থেকে বাদ পড়তেই বলিউডে তুঙ্গে জল্পনা

হুমায়ুন কবীর আরও এক ধাপ এগিয়ে ঘোষণা করেন, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি ছেড়ে সন্ন্যাস নিয়ে মন্দিরে যান এবং ঘোষণা করেন যে তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন না, তবে তিনিও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেবেন এবং ভোটে লড়বেন না। এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মমতা-অভিষেক সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর কৌশল হিসেবেই দেখছে। নিজের দলকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, জনতা উন্নয়ন পার্টির ‘প্রেস সচিব’ হিসেবে কামাল হোসেনকে (Kamal Hossain) নিয়োগ করা হয়েছে এবং এবার থেকে দলের যাবতীয় বিবৃতি কলকাতা থেকেই প্রকাশ করা হবে। তাঁর মতে, একটি রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দলের জন্য কলকাতা-কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

সবচেয়ে বড় চমক, আগামী জানুয়ারিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Brigade Parade Ground) জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রথম মহাসমাবেশ করার ঘোষণা। হুমায়ুনের প্রত্যয়, ওই সভায় অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে। জানুয়ারি মাসের ২৫ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ব্রিগেড যেহেতু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন এলাকা, তাই অনুমতির জন্য সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যস্তরের নেতারা যোগাযোগ করছেন বলেও দাবি তাঁর। ওই সভাতেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সামনে আনা হবে। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রিগেড সভার ঘোষণা আসলে হুমায়ুন কবীরের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতেই এই লক্ষভিড়ের ডাক। তবে বাস্তবে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
অন্যদিকে, হুমায়ুনের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলক নরম অবস্থান। এই পার্থক্য নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের সম্ভাবনাকে তিনি কাজে লাগাতে চাইছেন? বিশেষ করে, ভবানীপুর বা অভিষেকের সম্ভাব্য কেন্দ্র নিয়ে মন্তব্য সেই ইঙ্গিতই দেয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ দিকে, হুমায়ুন কবীরের পরিবারেও রাজনৈতিক টানাপড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ (Ghulam Nabi Azad) তৃণমূল ত্যাগের ঘোষণা করেছেন। বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গোলাম জানান, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তাঁর বাবা দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রকাশ্যে কথা বলছিলেন, তা তাঁর পছন্দ হয়নি। তিনি বাবাকে দল ছেড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পরামর্শও দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজেকে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি করে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন গোলাম। উল্লেখ্য যে, হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য, ব্রিগেড সভার ঘোষণা এবং মমতা-অভিষেক প্রসঙ্গে কৌশলী অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, বাস্তবে হুমায়ুনের এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের ভোটের অঙ্কে।

হুমায়ুন কবীর। ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui, Humayun Kabir | হুমায়ুনের জোট দাবিতে জল ঢাললেন নওশাদ, আলিমুদ্দিনে বৈঠকের পর আইএসএফের অবস্থান স্পষ্ট

Sasraya News
Author: Sasraya News