সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জোট-সমীকরণ নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনায় স্পষ্ট ‘না’ বলে দিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ (Indian Secular Front, ISF) -এর চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়ে কোনও কথাবার্তাই হয়নি বলে সরাসরি জানিয়ে দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। শনিবার বিকেলে কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য সদর দফতরে বাম নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের দলের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দেন। নওশাদের কথায়, হুমায়ুন কবীর যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ একতরফা এবং ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এই ধরনের কোনও প্রস্তাব নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেননি। আইএসএফের রাজ্য কমিটির কোনও নেতার সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’ নওশাদ আরও জানান, যদি আদৌ এমন কোনও আলোচনা হতো, তা হলে দলের রাজ্য নেতৃত্ব তাঁর কাছে বিষয়টি তুলে ধরত। কিন্তু তেমন কিছু না হওয়ায় এই জোট-সংক্রান্ত খবর সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে একটি সভা থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠনের ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে জোট করে লড়াই করবেন। ওই সভায় হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘১৮২টি আসনে লড়াই করে কী ফল আনব? একটা কথা বলে দিচ্ছি, মিরাকল রেজাল্ট হবে।’ পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, বাংলার রাজনীতিতে আগামিদিনে তিনি ও আইএসএফ একজোট হচ্ছেন এবং মিম যোগ দিলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।
তাঁর এই বক্তব্যই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দেয়। কিন্তু সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, আইএসএফ কোনওভাবেই এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং দলগত স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত হয়নি। ফলে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক প্রচার বলেই মনে করছেন আইএসএফ নেতৃত্বের একাংশ।
এদিকে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা আসনে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen, AIMIM বা মিম) -এর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মিমের পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতা ইমরান সোলাঙ্কি (Imran Solanki) জানিয়েছেন, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi) বাংলার রাজনীতিতে আগ্রহী। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর ও ওয়েইসিকে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।
কিন্তু এই সম্ভাব্য জোটে আইএসএফ থাকবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন নওশাদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইএসএফ আপাতত অন্য পথে হাঁটছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট আলোচনা নতুন করে শুরু করেছে আইএসএফ। কয়েক মাস আগেই নওশাদ একযোগে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose) এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে (Subhankar Sarkar) ইমেল মারফত জোট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার আবেদন জানিয়েছিলেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে এখনও স্পষ্ট সাড়া না মিললেও, বামফ্রন্টের তরফে ইতিবাচক বার্তা পেয়েই শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে যান নওশাদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim) এবং শ্রীদীপ ভট্টাচার্য (Srideep Bhattacharya) -এর। বৈঠক শেষে নওশাদ জানান, ‘জোট আলোচনা সবে শুরু হয়েছে।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, আগামী দিনে কোন সমীকরণ তৈরি হবে, তা এখনই চূড়ান্ত বলা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চা নামে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফ একসঙ্গে লড়াই করেছিল। সেই নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে একমাত্র ভাঙড় আসনে জয়ী হন নওশাদ সিদ্দিকী। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জোট আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সেই মোর্চাকে আর একত্রে দেখা যায়নি। তবু মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সমর্থনে কংগ্রেস প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরী (Isha Khan Choudhury) জয়ী হন, যা বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, আইএসএফ, হুমায়ুন কবীরের দল এবং মিম, এই সব শক্তিকে এক মঞ্চে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। তবে নওশাদ সিদ্দিকীর সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়ে আপাতত কোনও আলোচনা নেই। ফলে জল্পনার বাজারে আপাতত খানিকটা হলেও ছেদ পড়ল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gangasagar Mela West Bengal | গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে রাজ্যের মহাযজ্ঞ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে মাঠে নামল প্রশাসন




