সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) ঘিরে প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করাই এবছরের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই গত সোমবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মেলা শুরুর আগেই সমস্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করতে হবে, কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পর থেকেই পূর্ত দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর-সহ একাধিক দফতর সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী অংশ নেন। তাঁদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও থাকার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এবার আগাম প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক ও জলপথ, এই দুই ক্ষেত্রেই বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাবুঘাট থেকে কাকদ্বীপ লট-৮ এবং সাগরের কচুবেড়িয়া থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত যে সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত হয়, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তার মেরামত ও সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাস্তার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি কোথাও কোথাও নতুন করে পিচ ঢালাই করা হচ্ছে, যাতে মেলার সময় ভারী যানবাহন চলাচলেও সমস্যা না হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে রাস্তার মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।’
শুধু মূল রাস্তা নয়, বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। সাগরতট সংলগ্ন এলাকায় ভিড় সামাল দিতে কিছু ছোট ও বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে গঙ্গাসাগর–বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ (Gangasagar–Bakkhali Development Authority)। মেলার দিনগুলিতে কোনও একটি পথে চাপ বাড়লে যাতে দ্রুত বিকল্প পথে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনাই নেওয়া হয়েছে। জলপথেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। লট-৮, বেণুবন ও কচুবেড়িয়ার জেটি ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে একাধিক অস্থায়ী জেটি, যা শুধুমাত্র মেলার সময় ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এবছর ভিড়ের চাপ আগের বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে, সেই কারণেই আগাম জেটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেরিঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে কপিলমুনি মন্দিরের (Kapil Muni Temple) কাছে নতুন একটি বাস স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। এই বাস স্ট্যান্ড চালু হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের পরিবহণ ব্যবস্থাপনা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা (Diamond Harbour Police District) থেকে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের (NH-117) কিছু অংশ মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজও বর্তমানে জোরকদমে চলছে।গঙ্গাসাগর মেলার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের (Public Health Engineering Department)। পানীয় জল, শৌচালয়, নিকাশি ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব মূলত এই দফতরের উপরেই বর্তায়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ওই দফতরের আধিকারিকদের একটি দল গঙ্গাসাগরে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁরা সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
এ ছাড়াও সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা (Bankim Hazra) তাঁর দফতর থেকে মেলা সংক্রান্ত কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ। স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন পর্ষদ ও বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ এগোচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিক, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা দফায় দফায় মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে যাচ্ছেন, যাতে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা যায় এবং কোথাও কোনও ঘাটতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, যাতায়াত, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, ‘গঙ্গাসাগর মেলা শুধু রাজ্যের নয়, দেশের গর্ব। তাই কোনও ফাঁকফোকর রাখা চলবে না।’ প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) ঘিরে রাজ্য সরকার যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে, তা এবছর পুণ্যার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা এনে দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হয় কি না, এবং বাস্তবে সেই পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে রূপায়িত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi West Bengal rally | আবহাওয়ার ধাক্কায় তাহেরপুরে পৌঁছতে পারলেন না, কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ১৬ মিনিট বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




