সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুপতি/নতুন দিল্লি: বড় সিরিজ় বা বিশ্বকাপের আগে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নেওয়া ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তা যেন এক রীতিতেই পরিণত হয়েছে। কখনও কালীঘাট, কখনও কামাখ্যা, কখনও বা পুরীর জগন্নাথ- ভারতীয় দলের একাধিক তারকা ও কোচ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে মন্দির দর্শনে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তিরুপতির শ্রী বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পুজো দিলেন ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী দেবিশা শেট্টি (Devisha Shetty)। বৈকুণ্ঠ একাদশীর পুণ্য তিথিতে তাঁদের এই দর্শন ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিল না।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে মানসিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চয়ের জন্য তিরুপতিতে প্রভু বেঙ্কটেশ্বরের আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। বৈকুণ্ঠ একাদশী উপলক্ষ্যে তিরুপতির মন্দিরে এদিন বিপুল ভিড় ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই গোলাপি রঙের শেরওয়ানি পরিহিত সূর্যকুমার যাদব ও হলুদ শাড়িতে দেবিশা শেট্টিকে দেখা যায়। মন্দির চত্বরে তাঁদের উপস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে নজর কাড়ে। উল্লেখ্য যে, ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক আসছেন, এই খবর আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। তবু ভক্তদের উচ্ছ্বাস সামলানো সহজ ছিল না। একাধিক যুবক ও সমর্থক সূর্য ও দেবিশার সঙ্গে নিজস্বী তোলার আবদার জানান। ব্যস্ততা ও নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেও সূর্যকুমার যাদবকে দেখা যায় হাসিমুখে সেই আবদার মেটাতে। কোথাও বিরক্তি নয়, শান্ত ও নম্র আচরণেই সকলের সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। পুজো শেষে দম্পতি নীরবে মন্দির ত্যাগ করেন।
কঠিন আন্তর্জাতিক মরসুমের মাঝেই সূর্যের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কিছু দিন আগেই ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে জয় পেয়েছে। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী মাসে নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়। তার পরই বিশ্বকাপের মঞ্চ। ঘরের মাঠে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার বিরল সুযোগ রয়েছে সূর্যকুমারের সামনে। সেই চাপ ও প্রত্যাশার মধ্যেই ঈশ্বরের শরণ নেওয়াকে অনেকেই মানসিক প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শুধু সূর্যকুমার যাদব নন, বর্তমান ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরও (Gautam Gambhir) সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তীর্থক্ষেত্রে পুজো দিয়েছেন। কলকাতার কালীঘাট, গুয়াহাটির কামাখ্যা ও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে তাঁকে দেখা গিয়েছে। পুরীতে গম্ভীরের সঙ্গে ছিলেন সূর্য নিজেও। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, নতুন কোচ-অধিনায়ক যুগল বড় মঞ্চের আগে মানসিক দৃঢ়তা ও ঐক্যের বার্তাই দিতে চাইছেন।
ঈশ্বরের আশীর্বাদের পাশাপাশি সূর্যকুমারের সামনে রয়েছে নিজের ফর্মে ফেরার বড় চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টিতে গত এক বছরে ভারতের ফলাফল যথেষ্ট ভালো হলেও সূর্যের ব্যক্তিগত ব্যাটিং ফর্ম ততটা উজ্জ্বল নয়। ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে খোদ অধিনায়কও অকপট। এক সাক্ষাৎকারে সূর্য স্বীকার করেছেন, ‘ব্যাটার সূর্যকুমার যাদবকে খুঁজছি।’ তাঁর কথায়, নেটে নিয়মিত অনুশীলন করছেন, নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দলের অন্দরেও যদিও সূর্যের উপর আস্থা অটুট। সতীর্থরা মনে করছেন, বড় মঞ্চের খেলোয়াড় সূর্যকুমার যাদব ঠিকই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফর্মে ফিরবেন। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জানুয়ারিতে বিজয় হাজারে ট্রফি (Vijay Hazare Trophy) খেলতে নামবেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফেরানোই এখন তাঁর লক্ষ্য। বস্তুত, তিরুপতির পুজো সূর্যকুমারের কাছে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার এক ধাপ। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট, অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাশার পাহাড়, এই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও কঠোর পরিশ্রম, দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে, ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব কবে আবার নিজের পরিচিত বিধ্বংসী রূপে ফিরবেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suryakumar Yadav captain Mumbai | ফর্মে ফিরতে মরিয়া সূর্যকুমার যাদব; দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে মুম্বইয়ের নেতৃত্বে মাঠে নামছেন ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’



