সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। বুধবার নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি রেশন কার্ড, অরুণোদয় আঁচনি এবং মহিলা উদ্যোমিতা আঁচনির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর এই বক্তব্যের বাংলা ভাবানুবাদ ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, এই প্রকল্পগুলির প্রকৃত মূল্য বোঝেন সেই সব মা-বোনেরা, যাঁদের জীবনে এগুলি বাস্তব পরিবর্তন এনেছে, বিরোধীরা নয়।

মুখ্যমন্ত্রীর হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘এখন রেশন কার্ডের আসল গুরুত্ব কী, অরুণোদয় প্রকল্পের টাকার প্রকৃত অর্থ কী, কিংবা মহিলা উদ্যোমিতা প্রকল্প থেকে পাওয়া সাহস ও আত্মবিশ্বাস কেমন, এগুলো সেই মানুষগুলিই বোঝেন, যাঁরা এই সুবিধাগুলি পাচ্ছেন। বিরোধীরা এই অনুভূতিগুলো বুঝতে পারেন না। আজ এমন মা-বোনেদের মুখে যে হাসি ফুটে উঠেছে, সেখানেই আমি প্রকৃত সুখ আর তৃপ্তি খুঁজে পাই।’ এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী কেবল প্রশাসনিক সাফল্যের কথা বলছেন না, তা সাধারণ মানুষের আবেগ, অনুভূতি এবং দৈনন্দিন লড়াইয়ের কথাও সামনে আনছেন। তাঁর মতে, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হল উপভোক্তাদের মুখের হাসি, কাগুজে পরিসংখ্যান নয়।
অসম সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অরুণোদয় আঁচনি (Orunodoi Scheme)। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবারের মহিলা সদস্যরা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই টাকার অঙ্কের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সেই আত্মবিশ্বাস, যা একজন নারী নিজের পরিবার ও সমাজে ফিরে পান। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প নারীদের শুধু উপভোক্তা নয়, সিদ্ধান্তগ্রহণের অংশীদার করে তুলছে। রেশন কার্ড প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শহুরে রাজনীতি বা বিরোধী নেতাদের আলোচনায় রেশন কার্ড হয়তো একটি নথি মাত্র, কিন্তু গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলির কাছে এটি বেঁচে থাকার অন্যতম ভরসা। নিয়মিত খাদ্যশস্য পাওয়া মানেই সংসারে নিশ্চিন্ততা। এই বাস্তবতাই বিরোধীদের সমালোচনার জবাব বলে তিনি মনে করছেন।
মহিলা উদ্যোমিতা আঁচনি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট আশাবাদ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মহিলা ছোট ব্যবসা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী কিংবা নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তুলছেন। সরকারের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের সাহস জুগিয়েছে, নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) মতে, এই আত্মবিশ্বাসই সামাজিক পরিবর্তনের আসল চাবিকাঠি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতি কড়া বার্তাও রয়েছে। তিনি কার্যত বলতে চেয়েছেন, বিরোধীরা প্রকল্পের সমালোচনা করলেও মাঠে-ময়দানে গিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করেন না। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাই জানেন এর প্রকৃত মূল্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্টের পর বহু উপভোক্তা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ জানিয়েছেন, অরুণোদয় প্রকল্পের টাকা দিয়ে সংসারের জরুরি খরচ সামলাতে পারছেন, কেউ আবার বলেছেন, রেশন কার্ডের সুবাদে খাদ্য নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না। এই প্রতিক্রিয়াগুলিকেই সরকার তাদের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। সমাজকর্মীদের একাংশের মতে, এই ধরনের প্রকল্প নারীর সামাজিক অবস্থান বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকারি স্বীকৃতি নারীদের আত্মমর্যাদা বাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা ভাবানুবাদে সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মন্তব্য প্রশাসনিক সাফল্যের পাশাপাশি আবেগের জায়গাতেও ছুঁয়ে গিয়েছে মানুষকে। তাঁর কথায়, মা-বোনেদের মুখে ফুটে ওঠা হাসিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অসমের রাজনীতিতে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা ভাবানুবাদ রাজ্যজুড়ে নতুন করে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma, Nirmala Sitharaman Meeting | নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বৈঠক, অসম উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও জোরালো কেন্দ্রীয় সমর্থনের বার্তা




