বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লির (Delhi) ভয়াবহ বায়ুদূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে প্রশাসন। বুধবার রাজধানীর শ্রমমন্ত্রী কপিল মিশ্র (Kapil Mishra) ঘোষণা করলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে চালু হওয়া GRAP III ও GRAP IV বিধিনিষেধের কারণে যেসব নির্মাণ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home) ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মন্ত্রী।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কপিল মিশ্র বলেন, দূষণের কারণে GRAP III টানা ১৬ দিন ধরে কার্যকর রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যেসব শ্রমিক নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার ফলে উপার্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, ‘GRAP III চালু থাকার সময় যেসব শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ‘GRAP IV যতদিন কার্যকর থাকবে, সেই সময়ের জন্যও একইভাবে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ মন্ত্রী জানান, এই সুবিধা শুধুমাত্র সরকারের কাছে নথিভুক্ত (Registered) শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে শ্রমিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং সরকার চাইছে, যত বেশি সম্ভব শ্রমিক এই তালিকার আওতায় আসুন। প্রশাসনের একাংশের মতে, এতে করে ভবিষ্যতে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
তবে এই নির্দেশ সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। হাসপাতাল, দূষণ মোকাবিলায় যুক্ত বিভিন্ন দফতর, দমকল বিভাগ (Fire Department) এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবেন। মন্ত্রীর কথায়, ‘জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিল্লিতে দূষণ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। শীতের শুরুতেই বায়ুর মান বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যাওয়ায় প্রশাসন GRAP বা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (Graded Response Action Plan) কার্যকর করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, তেমনই যান চলাচল, শিল্পকারখানা ও অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের জীবনে। এই পরিস্থিতিতে কপিল মিশ্রের ঘোষণা অনেকের কাছেই স্বস্তির খবর। শ্রমিক সংগঠনগুলির একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এক নির্মাণ শ্রমিকের কথায়, ‘দূষণের জন্য কাজ বন্ধ হওয়া আমাদের হাতে নেই। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে। সরকারের এই সাহায্য কিছুটা হলেও ভরসা দেবে।’
সাংবাদিক বৈঠকে কপিল মিশ্র বিরোধী দল আম আদমি পার্টিকেও (Aam Aadmi Party) তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দূষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক লাভ তুলতে রাস্তায় নেমেছে AAP। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ওদের মুখ্যমন্ত্রী এই মরশুম এলেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতেন। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় নেমে কাজ করছেন। ওরা নোংরা রাজনীতি করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩০ বছরের পুরনো সমস্যাকে পাঁচ মাসে মুছে ফেলা যায় না। দূষণ হয়েছে বলে যদি কেউ দোষ দেয়, তা হলে সেটা সম্পূর্ণ ভুল।’
ওয়ার্ক ফ্রম হোম নির্দেশ নিয়েও প্রশাসন কড়া অবস্থানে রয়েছে। দিল্লি সরকারের মতে, অফিসে কর্মীর সংখ্যা কমানো গেলে যান চলাচল কমবে এবং দূষণের মাত্রাও কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে হলেও বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। কিন্তু, দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাতেও রূপ নিচ্ছে। একদিকে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজধানীবাসীর।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma, Nirmala Sitharaman Meeting | নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বৈঠক, অসম উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও জোরালো কেন্দ্রীয় সমর্থনের বার্তা




