সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু: জাতীয় টিকাকরণ দিবসকে সামনে রেখে কর্ণাটকে ব্যাপক স্বাস্থ্য অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর গোটা রাজ্য জুড়ে একযোগে বসবে ৩৩ হাজার ২৫৮টিরও বেশি টিকাকরণ বুথ। কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও (Dinesh Gundu Rao) জানিয়েছেন, এই মহাযজ্ঞের লক্ষ্য প্রায় ৬২ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। শিশুদের প্রাণঘাতী অথচ প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে রাজ্য সরকার এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় টিকাকরণ দিবস কেবল একটি দিন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি। কর্ণাটকে আমরা চাই, কোনও শিশুই টিকার বাইরে না থাকে।’ তাঁর কথায়, নিয়মিত টিকাকরণ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই টিকাকরণ অভিযানে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বস্তি অঞ্চল পর্যন্ত বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের কাছে পৌঁছতে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ টিমও গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এইবার আগাম পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে কোনও জায়গায় টিকা বা কর্মীর ঘাটতি না হয়। দীনেশ গুন্ডু রাও জানান, ‘এই অভিযানে শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও যুক্ত রয়েছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এত বড় কর্মসূচি সফল করা সম্ভব।’ তাঁর মতে, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হয়।
জাতীয় টিকাকরণ দিবস উপলক্ষ্যে যে সব টিকা দেওয়া হবে, তার মধ্যে রয়েছে পোলিও, হামের মতো রোগ প্রতিরোধী টিকা, পাশাপাশি রুটিন ইমিউনাইজেশনের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ডোজ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাকরণে ফাঁক থেকে গেলে ভবিষ্যতে বড় আকারের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই শিশুদের টিকার সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘করোনাকাল পরবর্তী সময়ে অনেক পরিবার নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেনি। ফলে কিছু শিশু টিকার নির্ধারিত ডোজ থেকে বাদ পড়েছে। এই জাতীয় টিকাকরণ দিবস সেই ঘাটতি পূরণের সুযোগ এনে দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত ডেটা আপডেট করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ফলো-আপ সহজ হয়।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, টিকাকরণ বুথগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষেবা দেওয়া হবে। শিশু ও অভিভাবকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল, বসার ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হবে। কোনও শিশুর শরীরে টিকা নেওয়ার পর সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত থাকবে।দীনেশ গুন্ডু রাও বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা। আমরা চাই, কর্ণাটক শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম মডেল রাজ্য হয়ে উঠুক।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নয়।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কর্ণাটকের এই উদ্যোগ জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। দেশে এখনও অপুষ্টি ও সংক্রামক রোগ শিশু মৃত্যুর বড় কারণ। টিকাকরণ সেই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধানগুলির একটি। এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের অভিযান অন্য রাজ্যগুলিকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। স্থানীয় স্তরেও ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু হয়েছে। মাইকিং, পোস্টার, সোশ্যাল মিডিয়া এবং গ্রাম সভার মাধ্যমে অভিভাবকদের টিকাকরণের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করছেন। এক আশা কর্মী জানান, ‘অনেক মা-বাবা এখনও ভয় পান বা ভুল তথ্যের কারণে টিকা দিতে চান না। আমরা তাঁদের বোঝাচ্ছি যে টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।’ উল্লেখ্য, জাতীয় টিকাকরণ দিবসকে ঘিরে কর্ণাটকের এই উদ্যোগ শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য আন্দোলনের অংশ। ২১ ডিসেম্বরের এই অভিযান সফল হলে লক্ষ লক্ষ শিশু সুস্থ জীবনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে, এমনটাই আশা প্রশাসনের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Nishan of Ethiopia | ইথিওপিয়ার মাটিতে ইতিহাসের স্বীকৃতি! ‘নিশান অব ইথিওপিয়া’ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতার বার্তা




