সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে আগেই ট্রফি নিশ্চিত করেছিল ভারত। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে পর পর হেরে সিরিজ শেষ করতে হয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দলকে। তবুও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ নন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। তাঁর মতে, ক্রিকেটে জয় এবং পরাজয় খেলারই অঙ্গ। দু’টি ম্যাচে হার মানেই গোটা দলের সাফল্যকে কাঠগড়ায় তোলা যায় না। একদিকে কঠিন সফর, সীমিত প্রস্তুতির সময় আর একের পর এক ম্যাচের চাপ সামলে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা প্রাপ্য। সিরিজ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর জানিয়ে দিলেন, তাঁর কোচিং দর্শনে ভয়কে কোনও জায়গা দেওয়া হবে না। তাঁর অভিধানে ‘ভয়’ বলে কোনও শব্দ নেই। আগামী এক দিনের সিরিজেও তাঁরা একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান।

অন্যদিকে, ভারত (India) ও নিউ জিল্যান্ডের (New Zealand) মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা হয়েছিল ভারতের দাপটের সঙ্গে। প্রথম তিনটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের দখলে নেয় ভারতীয় দল। পরবর্তী দু’টি ম্যাচে অবশ্য ছবিটা বদল যায়। পর পর দুই ম্যাচে জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। ফলে সিরিজের শেষ পর্বে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রথম তিন ম্যাচের সাফল্যের পর শেষ দু’টি ম্যাচে কেন ছন্দ ধরে রাখা গেল না, সেই প্রশ্নও ওঠে। তবে এই হারকে বড় করে দেখতে নারাজ গম্ভীর। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের শক্তি ও ক্রিকেটের স্বাভাবিক অনিশ্চয়তা মাথায় রেখেই প্রতিটি ম্যাচের মূল্যায়ন করা উচিত।
সিরিজ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘ভয় বলে কোনও শব্দ আমার অভিধানে নেই।’ তাঁর বক্তব্য, দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে হবে যেখানে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিছিয়ে আসার মানসিকতা থাকবে না। ফলাফল সব সময় প্রত্যাশামতো হবে না। কিন্তু সেই আশঙ্কায় নিজেদের খেলার ধরন বদলে ফেলা উচিত নয়। তাঁর কোচিংয়ে ভারতীয় দল আগ্রাসী ও সাহসী ক্রিকেটের পথেই এগোবে। শেষ দুই ম্যাচে পরাজয়ের পরেও এই অবস্থান থেকেও প্রধান কোচ সরে আসেননি। ভারতের সাম্প্রতিক ক্রিকেট সূচীর দিকে তাকালে দলের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে সিরিজ শেষ হওয়ার পর খুব বেশি বিরতি না নিয়েই নিউ জ়িল্যান্ড সফরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল সামলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য হাতে সময়ও ছিল অল্প। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৫ ঘণ্টার বিমানযাত্রার পর মাত্র এক দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিল দল। তার পরেই শুরু হয়ে যায় পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম তিনটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন ভারতীয় দলের প্রধন কোচ।
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly, Delhi Capitals | অমিত মিশ্রকে স্পিন কোচ করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করে গম্ভীর বলেন, ‘১৫ ঘণ্টা বিমানযাত্রার পর মাত্র এক দিন অনুশীলন করে ছেলেরা যেভাবে পর পর তিনটি ম্যাচ জিতেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। কঠিন পরিস্থিতি এবং চাপ সামলে ওরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে।’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, সফরের ধকল, প্রস্তুতির সময় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ক্রিকেটারেরা সেই পরীক্ষায় প্রথম পর্বে যথেষ্ট ভাল ফল করেছেন। তাই শেষ দুই ম্যাচের ফল দিয়ে তিনি গোটা সফরের মূল্যায়ন করতে চান না। প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের পর ভারতীয় দল কি নিউ জ়িল্যান্ডকে কিছুটা হালকা করে নিয়েছিল? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে সেই সম্ভাবনা মানতে চাননি গম্ভীর। তাঁর মতে, নিউ জিল্যান্ড কোনও সাধারণ প্রতিপক্ষ নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলটির ধারাবাহিকতা এবং বড় মঞ্চে পারফরম্যান্সের নজির রয়েছে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল তারা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হওয়ার কথা। ভারতীয় কোচের বক্তব্য, দুই দলই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং ম্যাচগুলিও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। ক্রিকেটে সব সময় এক দলের জয় হবে, এমন প্রত্যাশা করা যায় না।
গম্ভীরের কথায়, ‘নিউ জ়িল্যান্ড খুব ভাল দল। গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। সব ম্যাচই ভাল হয়েছে। ক্রিকেটে হার-জিত থাকেই। দু’টি ম্যাচ হারলেই সব শেষ হয়ে গেল, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যে দলের প্রতি আস্থার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানও উঠে এসেছে। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ভারতের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কোচ মনে করছেন, একটি বা দু’টি ম্যাচের ফলকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক নয়। বরং কোথায় উন্নতির জায়গা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী ম্যাচগুলির প্রস্তুতিতে মন দেওয়া প্রয়োজন। এদিকে, ভারতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঋষভ পন্থকে (Rishabh Pant) নিয়েও সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে। ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে তাঁর না খেলা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পন্থের কোনও চোট রয়েছে কি না, তিনি আসন্ন টেস্ট সিরিজ়ে খেলতে পারবেন কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকেরা। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য দিতে পারেননি গম্ভীর। তিনি জানান, পন্থকে নিয়ে তখনও তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও খবর নেই। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলে তা জানানো হবে। ফলে পন্থের শারীরিক অবস্থা ও পরবর্তী সিরিজ়ে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি পর্ব শেষ হওয়ার পর ভারতীয় দলের সামনে এবার এক দিনের ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ। ২০ ওভারের ক্রিকেটের দ্রুত গতির লড়াই থেকে বেরিয়ে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে মানিয়ে নিতে হবে ক্রিকেটারদের। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাটিং পরিকল্পনা, বোলিংয়ের ব্যবহার এবং ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে কৌশল নির্ধারণে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে দলকে। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ঝুঁকি নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, এক দিনের ক্রিকেটে সেই আগ্রাসন বজায় রেখেও ইনিংসের দৈর্ঘ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই নতুন ফরম্যাটে দলের সামনে আলাদা পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
কিন্তু, ফরম্যাট বদলালেও দলের মানসিকতায় বদল আনতে চান না গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, জয়-পরাজয়ের চাপে দলের স্বাভাবিক আগ্রাসন কমিয়ে আনার পক্ষপাতী নন তিনি। বরং মাঠে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ দুই ম্যাচে হারের পরেও ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রেখেছেন ভারতের কোচ। তাঁর মতে, একটি সিরিজে সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়াও জরুরি। তবে ব্যর্থতার আশঙ্কায় নিজেদের স্বাভাবিক খেলা থেকে সরে আসা চলবে না। ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দলের খেলার ধরন, কোচের কৌশল এবং ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। গম্ভীরের এই মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিতে পারে। কারণ, তাঁর বক্তব্যে ফলাফলের চেয়ে দলের মানসিকতা ও মাঠের লড়াইকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতলেও শেষ দুই ম্যাচে হারের কারণ খুঁজে দেখা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই পরাজয়কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরি করতে রাজি নন ভারতীয় কোচ। এবার এক দিনের সিরিজে তাঁর দল কতটা আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে পারে, লক্ষ্য থাকবে সেদিকেই।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yami Gautam fitness laddu | ফিটনেসের জন্য ইয়ামি গৌতম খান পুষ্টিগুণে ঠাঁসা ঘরোয়া লাড্ডু! আপনিও খেয়ে দেখতে চান?



