Australia Test Cricket, Australia Experienced Bowlers | রোহিত-কোহলিদের পথ নয়, অভিজ্ঞতাতেই বাজি! গম্ভীরের তারুণ্যের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা পাঁচ ‘বুড়ো’ বোলার

SHARE:

সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়ে ভারতীয় টেস্ট দলকে সাজানোর পথে হাঁটছেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। একের পর এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিদায়ের পরে শুভমন গিলের (Shubman Gill) নেতৃত্বে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। কিন্তু ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া (Australia)। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে সাফল্য পেতে তারুণ্যের চেয়ে অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। আগামী ১২ মাসে একের পর এক কঠিন টেস্ট সিরিজ় খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। সেই লড়াইয়ে দলের পাঁচ প্রবীণ পেস ও স্পিন বোলারের উপরেই বড়সড় দায়িত্ব দিতে চলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (Cricket Australia)। বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড এবং ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সামনে। এই চার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সাফল্যই তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের রাস্তা আরও মজবুত করবে। আপাতত পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। ফলে আগামী এক বছরে তাদের লাল বলের ক্রিকেটের সূচি যেমন কঠিন, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। তার পরে রয়েছে অ্যাশেজ় সিরিজও। দীর্ঘ বিরতির পরে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে চলা অস্ট্রেলিয়া তাই প্রথম থেকেই অভিজ্ঞদের উপর নির্ভর করতে চাইছে।

আরও পড়ুন : India South Korea relations | ২০৩০-এর মধ্যে ভারতে ৫৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার! জাহাজ, সেমিকন্ডাক্টরের পর নজরে বাংলা

ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। রবিচন্দ্রন আশ্বিন (Ravichandran Ashwin), বিরাট কোহলি (Virat Kohli), রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) এবং অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane) মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara) ও মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) ও এখন আর ভারতীয় টেস্ট দলের নিয়মিত অংশ নন। ফলে শুভমন গিল, যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal), ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)-সহ নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ঘিরে দল গড়ছে ভারত। এই পরিবর্তনের সময়েই ভারতীয় দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ এসেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। পর পর সিরিজ়ে প্রত্যাশিত ফল না আসায় ফাইনালে পৌঁছনোর অঙ্ক কঠিন হয়েছে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের অবস্থান তুলনামূলক ভাবে শক্ত করেছে। সেই কারণে আগামী টেস্ট সিরিজ়গুলিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ার এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্যাট কামিন্স (Pat Cummins), জশ হেজ়লউড (Josh Hazlewood), নেথান লায়ন (Nathan Lyon), মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) ও স্কট বোলান্ড (Scott Boland)। পাঁচ জনের বয়সই তিরিশের বেশি। তাঁদের প্রত্যেকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচে বহু বার বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন তাঁরা। গত অ্যাশেজ সিরিজে অবশ্য এই পাঁচ ক্রিকেটারের সামনে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল চোট। ৩৩ বছরের প্যাট কামিন্স পুরো সিরিজ় খেলতে পারেননি। তিনি মাত্র একটি টেস্টে মাঠে নামতে পেরেছিলেন। জশ হেজ়লউডও চোটের কারণে পুরো সিরিজ়ে ছিলেন না। ৩৫ বছরের এই পেসার অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও চোট তাঁকে বেশ কিছু ম্যাচ থেকে দূরে রেখেছিল। অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের প্রধান ভরসা নেথান লায়নও গত অ্যাশেজ়ে পুরো সিরিজ শেষ করতে পারেননি। ৩৮ বছরের এই অফস্পিনার মাঝপথে চোটের কারণে ছিটকে যান। ফলে মিচেল স্টার্ক এবং স্কট বোলান্ডের উপর বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে। ৩৬ বছরের স্টার্ক এবং ৩৭ বছরের বোলান্ড সেই চাপ সামলে পুরো সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এবার পরিস্থিতি বদলেছে। পাঁচ ক্রিকেটারই সুস্থ ও ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। তাই তাঁদের নিয়েই পরবর্তী টেস্ট মরসুমের পরিকল্পনা করছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও পাঁচ জনকে একসঙ্গে মাঠে নামানোর সুযোগ সব ম্যাচে থাকবে না। পিচের চরিত্র, প্রতিপক্ষ এবং দলীয় ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে বোলিং আক্রমণ সাজাতে হবে। সেই ক্ষেত্রে স্কট বোলান্ডকে অনেক সময় বাইরে বসতে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি (George Bailey) এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দলের অভ্যন্তরে ‘দ্য ওল্ড গ্রুপ’ নামে উল্লেখ করেছেন। বয়স তাঁদের কাছে সমস্যা নয়, একইভাবে দীর্ঘ টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাই এখন দলের বড় সম্পদ বলে মনে করছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকমণ্ডলী। বেইলির বক্তব্যেও সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের খেলা। এখানে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অনেক। পরিস্থিতি বুঝে নিজের বোলিং বা কৌশল বদলে নেওয়ার দক্ষতা দীর্ঘদিনের ক্রিকেট থেকেই আসে। আমাদের এই ক্রিকেটারেরা অতীতে প্রচুর সাফল্য এনে দিয়েছেন। তাই তাঁদের উপরেই আস্থা রাখছি।’

টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পার্থক্য বোঝাতেই বেইলির এই মন্তব্য। পাঁচ দিনের ম্যাচে শুধু গতি বা শক্তি দিয়ে সাফল্য পাওয়া যায় না। কখন আক্রমণাত্মক হতে হবে, কখন ধৈর্য ধরে বল করতে হবে, কখন ফিল্ডিং বদলানো দরকার, এই সিদ্ধান্তগুলি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অভিজ্ঞতা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার সামনে আগামী এক বছরে যে সূচি রয়েছে, তাতে এই অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে স্পিনের গুরুত্ব আলাদা হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজ়িল্যান্ডের পরিবেশে পেসারদের ভূমিকা বড় হয়ে উঠতে পারে। আর ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ে ব্যাটিং ও বোলিং, দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ধরে চাপ তৈরি করার ক্ষমতা দরকার। তাই পাঁচ অভিজ্ঞ বোলারকে ধরে রাখার সিদ্ধান্তকে শুধুই বয়সের হিসাব দিয়ে বিচার করছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া এখন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ। কয়েকটি সিরিজ়ে ফল খারাপ হলেই হিসাব বদলে যেতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে অভিজ্ঞ বোলারদের কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য। অন্য দিকে, ভারতের তরুণ দলকে নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। গম্ভীরের কোচিংয়ে নতুন ক্রিকেটারদের দায়িত্ব বাড়ছে। অভিজ্ঞতার জায়গায় তারুণ্য, দীর্ঘ কেরিয়ারের বদলে নতুন উদ্যম, ভারতের দলগঠনের দর্শন এখন অনেকটাই সেই দিকে এগোচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ঠিক তার বিপরীত পথে হাঁটছে। ফলে আগামী দিনে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই হলে শুধু ক্রিকেটীয় দক্ষতা নয়, দুই ভিন্ন দলগঠনের নীতিরও পরীক্ষা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ অভিজ্ঞ বোলারের মধ্যে কামিন্স নেতৃত্বের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। স্টার্ক বহু বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বাঁহাতি পেসার। হেজ়লউডের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ, লায়নের দীর্ঘ স্পেল এবং বোলান্ডের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট বোলিংকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তাই বয়স বাড়লেও তাঁদের জায়গা নিয়ে আপাতত খুব বেশি প্রশ্ন তুলতে চাইছে না নির্বাচকমণ্ডলী। তথাপি, পাঁচ ক্রিকেটারকে সুস্থ রাখা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। টানা টেস্ট সিরিজ়, ভ্রমণ এবং দীর্ঘ স্পেল তাঁদের শরীরে চাপ ফেলতে পারে। গত অ্যাশেজ়ে চোটের অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো এ বার তাঁদের ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ়ে সেরা বোলিং আক্রমণ নামানোই হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা।

আগামী ১২ মাস তাই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক দিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের লক্ষ্য, অন্য দিকে অ্যাশেজ়ের মতো বড় সিরিজ়। সেই কঠিন সূচির আগে অস্ট্রেলিয়া তরুণদের পুরোপুরি পিছনে সরিয়ে দিচ্ছে না, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির জন্য অভিজ্ঞ পাঁচ বোলারের উপরেই ভরসা রাখছে। ভারত যেখানে রোহিত-কোহলি-আশ্বিনদের যুগ পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের হাতে টেস্ট দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সেখানে পুরনো ঘোড়াদেরই আরও এক বার দৌড় করাতে চাইছে। আগামী কয়েকটি টেস্ট সিরিজ়ই বলে দেবে, লাল বলের ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার এই বাজি কতটা কার্যকর হয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma dream Indian cricket | ভারতকে ক্রিকেটের শীর্ষে দেখতে চান রোহিত শর্মা, মুম্বাইয়ে তরুণদের সাফল্যের মন্ত্র দিলেন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন