সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঝাঁসি, উত্তরপ্রদেশ : উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে (Jhansi) একটি জীবন্ত ইঁদুরকে বেঁধে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ভিডিওতে একটি ইঁদুরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লোহার গেটের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার পর তার গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। আগুনের তাপে প্রাণীটি ছটফট করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ঝাঁসি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি একজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রাণীর প্রতি এমন আচরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি নেটমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঝাঁসির কাসাই মান্ডি (Kasai Mandi) এলাকার। অভিযুক্তদের নাম জুনাইদ কুরেশি, জিশান কুরেশি, আসিফ কুরেশি ও শফিক। অভিযোগ, তাঁরা মিলে একটি জীবন্ত ইঁদুরকে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে সেটিকে একটি লোহার গেটের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে তার গায়ে পেট্রল ঢালা হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণীটির অসহায় অবস্থায় ছটফট করার দৃশ্যও ভিডিওতে (যদিও সাশ্রয় নিউজ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও বেড়েছে, কারণ পুরো বিষয়টি শুধু ঘটানোই হয়নি, তা রেকর্ড করে অন্যদের দেখানোর জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত পুলিশের নজরে আসে। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য দেখে অনেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান। প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর ঝাঁসি কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভিডিওটি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া স্থান, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরেই চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে চতুর্থ অভিযুক্ত এখনও অধরা। তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের কাসাই মান্ডি এলাকার বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, কে বা কারা ইঁদুরটিকে বেঁধেছিল, কারা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়েছিল ও ভিডিওটি কে রেকর্ড করেছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) প্রাসঙ্গিক ধারাতেও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্যও পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে একটি জীবন্ত প্রাণীকে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভের মাত্রা বেড়েছে। ইঁদুর সাধারণত মানুষের বসতবাড়ি বা খাবারের জায়গায় দেখা গেলে অনেকেই সেটিকে ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু কোনও প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণ বা দূরে সরানোর প্রয়োজন থাকলেও তাকে এভাবে যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কারণেই ঝাঁসির এই ঘটনা সামনে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ভিডিওটি যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের অনেকেই প্রাণীটির উপর চালানো অত্যাচারের নিন্দা করেছেন। কারও কারও বক্তব্য, বিনোদন বা কৌতূহলের জন্য কোনও অসহায় প্রাণীকে এভাবে যন্ত্রণার মধ্যে ঠেলে দেওয়া অমানবিক। আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেন প্রাণীটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেটমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা।
আরও পড়ুন : S Jaishankar, International Peace Talks | দুই সংঘাত থামাতে উদ্যোগী ভারত, কী বললেন এস জয়শঙ্কর?
এ ধরনের ঘটনা প্রাণী কল্যাণ এবং মানুষের দায়িত্ববোধের প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। গৃহপালিত প্রাণী হোক বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কোনও জীব, তাদের প্রতি অকারণ হিংসা বন্ধ করা প্রয়োজন। কোনও প্রাণী মানুষের বসতি বা পরিবেশের জন্য সমস্যা তৈরি করলে তার সমাধানে আইনসম্মত ও মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়। কিন্তু শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা নিছক মজা পাওয়ার জন্য প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঝাঁসির ঘটনায় এই বিষয়টিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এখনও চলছে। ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। চারজনের মধ্যে যাঁরা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত দিক খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তাঁর ভূমিকা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে এলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
এই ঘটনার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সামাজিক মাধ্যম কীভাবে অপরাধের তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করছে। কোনও ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এলে তা দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কখনও সেই দৃশ্যের সূত্র ধরে তদন্তের পথও খুলে যায়। ঝাঁসির ক্ষেত্রেও ভাইরাল ভিডিও পুলিশের নজর আকর্ষণ করেছে এবং তার ভিত্তিতে দ্রুত মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এমন হিংসাত্মক দৃশ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ ও পলাতক অভিযুক্তের গ্রেফতারির দিকে নজর রয়েছে। জীবন্ত ইঁদুরকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে যে তিনজন ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া এগোয়, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। ঝাঁসির এই ঘটনা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ বন্ধ করা এবং এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এল।
ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Yogi Adityanath government job rules | হিংসার পথে সরকার বদলের ডাক দিলেই চাকরি নয়! যোগী সরকারের নয়া বিধিতে বিতর্ক



