Delhi Guwahati Bullet Train, Siliguri Bullet Train Project | দিল্লি থেকে গুয়াহাটি বুলেট ট্রেন, বড় সুবিধা বাংলার!

SHARE:

দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত প্রস্তাবিত ১৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বুলেট ট্রেন করিডোর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি, ১ অক্টোবর ২০২৬:  উত্তর ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন (Delhi Guwahati Bullet Train) করিডোর এবার গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি আর এই রেলপথের শেষ গন্তব্য থাকবে না। তা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই শহর হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাইস্পিড রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি ও সেখান থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। পর্যটন, ব্যবসা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন : Google Earth Hickman Crater | গুগল আর্থে ৮৫০ ফুটের রহস্যময় বৃত্ত! পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল উল্কাপাতের চিহ্ন, বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

এত দিন প্রস্তাবিত নর্দান বুলেট ট্রেন করিডোরের (Northern Bullet Train Corridor) পরিকল্পনায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলপথ তৈরির কথা আলোচনায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনার পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি পেরিয়ে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত দ্রুতগতির রেলপথ নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উত্তর ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগও আরও সহজ হতে পারে। প্রস্তাবিত করিডোরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার হতে পারে বলে প্রাথমিক পরিকল্পনায় উঠে এসেছে। দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশ, বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে এই রেলপথ। তার পর শিলিগুড়ি অতিক্রম করে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত পৌঁছনোর পরিকল্পনা বলে উল্লেখ।

সম্ভাব্য রুটে আগরা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, বারাণসী এবং পাটনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উঠে এসেছে। তবে কোন কোন শহরে বুলেট ট্রেনের স্টেশন তৈরি হবে, কোথা দিয়ে রেলপথ যাবে ও কোন এলাকায় নির্মাণকাজ হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা ও রুটের অ্যালাইনমেন্ট প্রকাশিত হলে গোটা পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। এই সম্প্রসারণের কথা সামনে এনেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের পরিকল্পনায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত করিডোর নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রের কাছে এই রেলপথ গুয়াহাটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানান। সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Vaishnaw) সঙ্গে আলোচনা ও লিখিত অনুরোধের পর সম্প্রসারণের অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : Madan Mitra statement, Abhishek Banerjee controversy | ‘আমার জেলযাত্রার নেপথ্যে অভিষেক’ : বিস্ফোরক অনুব্রত, একই সুরে মদন, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্থিরতা

বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে যাত্রার সময় কমে আসা। বর্তমানে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি যেতে ট্রেনে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল পরিষেবা চালু হলে সেই যাত্রা কমে প্রায় ছয় ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে বলে পরিকল্পনায় অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি থেকে গুয়াহাটি পৌঁছতে আট ঘণ্টারও কম সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই সময়সীমা নির্ভর করবে চূড়ান্ত রুট, স্টেশনের সংখ্যা, ট্রেনের গতি ও পরিষেবার পরিচালন পদ্ধতির উপর। তবু পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। শিলিগুড়ি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবার মাধ্যমে এই শহরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে অসম ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। এবার বুলেট ট্রেন করিডোর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে শিলিগুড়ির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। শহরটি শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশপথ হিসেবেই নয়, বরং দ্রুতগতির রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

শিলিগুড়ি ও গুয়াহাটির মধ্যে যাতায়াত সহজ হলে দুই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পও উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), ডুয়ার্স (Dooars) ও জলপাইগুড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রতি বছর বহু পর্যটক আসেন। অন্যদিকে, অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান (Kaziranga National Park), গুয়াহাটি, কামাখ্যা মন্দির (Kamakhya Temple) এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। দ্রুতগতির রেল পরিষেবা চালু হলে একই সফরে উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঘুরে দেখার সুযোগ বাড়তে পারে। পর্যটকদের যাতায়াতের সময় কমলে হোটেল, পরিবহণ, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় পরিষেবার ব্যবসাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে, ব্যবসা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। উত্তরবঙ্গের চা, কৃষিজ পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিষেবার সঙ্গে অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাজারের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইভাবে অসমের বিভিন্ন পণ্য পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর ভারতের বাজারে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে নতুন পরিবহণ পরিকাঠামো ভবিষ্যতে সহায়ক হতে পারে। যদিও বুলেট ট্রেন মূলত যাত্রী পরিবহণের জন্য পরিকল্পিত, তবু দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসায়িক সফর, শিল্প সংস্থার যোগাযোগ ও বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রের কাজের গতি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন : Uniform Civil Code Assam, UCC India latest news | বহুগামিতায় কড়া নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তিতে সমান অধিকার, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে বড় পদক্ষেপ

কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এত দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামোগত কাজ প্রয়োজন হবে। রেললাইন, স্টেশন, সেতু, সুড়ঙ্গ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। নির্মাণকাজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্টেশনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক পরিষেবা, পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটন সংক্রান্ত কাজে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় উন্নত যোগাযোগ পরিকাঠামো তৈরি হলে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আগ্রহ বাড়তে পারে। কিন্তু, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। রেলপথের নির্দিষ্ট অ্যালাইনমেন্ট, জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, নির্মাণের ব্যয়, স্টেশনের অবস্থান ও কাজ শুরুর সময়সূচী এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোর নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মতো একাধিক রাজ্যের মধ্য দিয়ে রেলপথ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। ফলে অনুমোদনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশের দিকে লক্ষ্য থাকবে।

ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুতগতির প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে এই করিডরের সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশের রাজধানী থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর গুয়াহাটিকে দ্রুতগতির রেলপথে যুক্ত করা গেলে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল ও অসমের মধ্যে যোগাযোগের পরিসর বাড়বে। এখন মূল অপেক্ষা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, নির্মাণের সময়সীমা এবং বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপের। ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পেলে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি যাত্রার ধরন বদলে যেতে পারে। পাশাপাশি শিলিগুড়ির অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত গুরুত্বও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর সুযোগ পাবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত এই বুলেট ট্রেন করিডোর আগামী দিনে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Assam Visit 2026 | অসমে উন্নয়নের মেগা ঝড়! ৪৭,৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর-পূর্বে রেল-সড়ক-গ্যাস অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন