সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ডোমজুড় : নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল হাওড়ার (Howrah) ডোমজুড় (Domjur) থানার অন্তর্গত রাঘবপুর (Raghavpur) এলাকায়। সোমবার রাত থেকে গোটা এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ অভিযুক্তের ব্যবহৃত ঠিকাদারি সংস্থার গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। নামানো হয় র্যাফ (RAF)। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ডোমজুড় থানার অধীন রাঘবপুর এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। ওই কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার এক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি স্থানীয় এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করেছেন। সোমবার রাতে এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ঘিরে প্রথমে অভিযুক্ত কর্মীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি ছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। একসময় গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তার কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থার একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা শুরু হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নামানো হয় র্যাফ বাহিনীও। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়। তবে তাতেও প্রথমে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি ছিল, অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। কিন্তু তখনও মূল অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে জনতার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করে।সারারাত ধরে চলে পুলিশি অভিযান। অবশেষে মঙ্গলবার অভিযুক্তের সন্ধান পায় ডোমজুড় থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়াতেই এলাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরে। যদিও পুলিশি নজরদারি এখনও জারি রয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের (Howrah City Police) এসিপি (দক্ষিণ) নন্দদুলাল ঘোষ (Nandadulal Ghosh) ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি যাতে আবার অশান্ত না হয়, তার জন্য এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের কাজ চললেও পর্যাপ্ত নজরদারি বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। ঠিকাদারি সংস্থার কর্মীদের আচরণ নিয়েও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি এবং ভাঙচুরের বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারা আগুন ধরিয়েছে, কারা ভাঙচুরে যুক্ত ছিল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও অপরাধ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই বেআইনি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগে যুক্তদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হতে পারে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নাবালিকার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি রাখা হবে না। ডোমজুড় ও আশপাশের এলাকায় আপাতত অতিরিক্ত পুলিশি টহল চলছে। উল্লেখ্য যে, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ডোমজুড়ের রাঘবপুর এলাকায় যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় তা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। তবে এই ঘটনা আবারও সমাজে শিশু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকদের একাংশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mission Sudarshan Chakra | উড়ুপিতে মোদীর কণ্ঠে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শত্রুর দুঃসাহস দেখালেই ভস্মীভূত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী




