পার্বতী কাশ্যপ, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে যখন দেশজুড়ে দীপের আলো ঝলমল করে, তখনই হিন্দু (সনাতন) ধর্মাবলম্বীদের জীবনে আসে অন্যতম শুভ উৎসব, দীপাবলি (Diwali 2025)। এই দিনটি শুধু আলোর উৎসব নয়, তা অন্ধকার দূর করে শুভ সময়ের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। এই দিনেই পালিত হয় দীপান্বিতা অমাবস্যা (Dipanwita Amavasya), যেদিন মা কালী (Maa Kali) ও মা লক্ষ্মীর (Maa Lakshmi) পূজার মধ্য দিয়ে মানুষ জীবনের দুঃখ ও অশুভ শক্তিকে বিদায় জানায়। হিন্দু (সনাতন) শাস্ত্রে বলা আছে, দীপাবলির সপ্তাহে যদি কিছু বিশেষ জিনিস চোখে পড়ে, তবে তা অত্যন্ত শুভ সংকেত। বিশ্বাস করা হয়, সেই মুহূর্তে মা লক্ষ্মী আপনার জীবনের দিকে আশীর্বাদী দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন। আলোকিত ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিচ্ছেন নিজ হাতে। চলুন জেনে নিই, দীপাবলির সময় কোন চারটি জিনিস দেখা মানেই জীবনে সৌভাগ্যের সূচনা।
আরও পড়ুন : Numerology | জন্ম তারিখে লুকিয়ে ভবিষ্যৎ! ২৭ তারিখে জন্মানো মানুষের ভাগ্য নিয়ে সংখ্যাতত্ত্ব কী বলছে?
প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় পেঁচা (Owl)-এর কথা। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী পেঁচা হল মা লক্ষ্মীর বাহন। অর্থাৎ দেবীর আশীর্বাদের প্রতীক। যদি দীপাবলির সপ্তাহে আপনি পেঁচা দেখতে পান, তা হলে বুঝে নিতে হবে দেবী আপনাকে তাঁর কৃপায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। অর্থনৈতিক উন্নতি, ব্যবসায় মুনাফা কিংবা চাকরির স্থায়িত্ব সব ক্ষেত্রেই আসতে পারে সাফল্যের আলো। অনেক পুরোহিত ও জ্যোতিষী বলেন, ‘লক্ষ্মী যেখানে পেঁচা পাঠান, সেখানে আর অভাব থাকে না।’ তাই দীপাবলির আগে বা পরে পেঁচা দেখা মানেই সুখের সময় শুরু হতে চলেছে। দ্বিতীয় শুভ সংকেত পদ্মফুল (Lotus)। পদ্মফুল দেবী লক্ষ্মীর সবচেয়ে প্রিয় ফুল। তাই এই সময় যদি কোনও পুকুরে বা জলাশয়ে পদ্মফুল ফুটে থাকতে দেখেন, তা এক শুভ লক্ষণ। এটি সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক। প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘যেখানে পদ্ম ফোটে, সেখানে লক্ষ্মী স্থির হন।’ অর্থাৎ আপনার পরিবারে আসতে পারে ধনসম্পদ, মান-সম্মান ও আত্মিক শান্তি। তবে দোকানে বিক্রির জন্য রাখা পদ্ম দেখা এই ইঙ্গিত দেয় না; প্রাকৃতিকভাবে পদ্ম ফুটে থাকা জলাশয়ে দেখা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।
তৃতীয় প্রতীকটি কিছুটা আশ্চর্যের। তা হল কাক (Crow)। সাধারণত আমরা কাককে অশুভ পাখি বলেই জানি। কিন্তু দীপাবলির সময় তার অর্থ একেবারে আলাদা। পুরাণ মতে, কাক পূর্বপুরুষদের দূত। দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে পিতৃলোকের আত্মারা কাকের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাঠান। তাই যদি দীপাবলির সময় কাক আপনার আশপাশে দেখা দেয় বা কা কা করে ডাকে, তবে সেটি শুভ সংকেত, পূর্বপুরুষরা আপনাকে আশীর্বাদ জানাচ্ছেন, জীবনের কঠিন সময় শেষ হয়ে আসছে। অনেক আধ্যাত্মিক গুরু বলেন, ‘যে ঘরের ছাদে দীপাবলির কাক আসে, সেই ঘরে আনন্দ থামে না।’
চতুর্থ ও শেষটি আরও এক বিস্ময়কর প্রাণী, টিকটিকি (Lizard)। সাধারণত টিকটিকির উপস্থিতি আমরা গৃহস্থালির ঝামেলা হিসেবেই দেখি। কিন্তু শাস্ত্রমতে দীপাবলির সময় টিকটিকি দেখা মানে শুভ সময়ের আগমন। অনেক পুরাণ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ‘টিকটিকি ভবিষ্যতের বার্তা দেয়।’ যদি দীপাবলির দিনে ঘরের দেওয়ালে টিকটিকি দেখতে পান, বিশেষ করে প্রদীপ জ্বালানোর সময়, তবে সেটি দেবীর আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।উল্লেখ্য যে, আলো আর অন্ধকারের এই লড়াইয়ের সময়, এই ছোট ছোট প্রতীকগুলিই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অশুভ কখনও স্থায়ী নয়। শুভ সময় ফিরবেই। মা লক্ষ্মীর কৃপায় জীবনের দরিদ্রতা, মানসিক অশান্তি, এমনকি সম্পর্কের টানাপোড়েনও কেটে যেতে পারে।
দীপাবলির অর্থ কেবল ঘর সাজানো নয়, মনকেও আলোকিত করা। মা কালী ও মা লক্ষ্মীর পূজার মাধ্যমে মানুষ যখন অন্ধকারকে দূর করে, তখন প্রকৃত অর্থে শুভ সময়ের সূচনা হয়। তাই যদি আপনি এই দীপাবলিতে পেঁচা, পদ্মফুল, কাক বা টিকটিকি দেখতে পান, তবে আনন্দিত হোন। কারণ তা-ই হয়ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, আপনার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দীপাবলি ২০২৫ (Diwali 2025) হোক আলোর, শান্তির ও সৌভাগ্যের বার্তা বহনকারী। অন্ধকার দূরে সরিয়ে প্রতিটি ঘরে ও মনে জ্বলে উঠুক আশার দীপ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Numerology| জন্ম সংখ্যা ১ ও ২৮ তারিখে জন্মালে কেমন কাটবে জীবন?




