সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ‘২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইছে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন–
দেবব্রত সরকার
(আজ বারোতম কিস্তি)

রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ টালমাটাল কেন? ভোটের আগে উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা
রাজ্যের রাজনীতি যেন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকার দুর্নীতি, দলীয় দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক সংকটের মুখে; অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP) ক্রমশ মাঠে প্রভাব বাড়াচ্ছে, কিন্তু ভিতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। এর মধ্যে বামফ্রন্ট (Left Front) ও কংগ্রেস (Congress) নিজেদের জায়গা খুঁজে পেতে মরিয়া। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ক্রমে হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা ও পালাবদলের মঞ্চ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন , “বাংলার রাজনীতি এখন এক রূপান্তরের যুগে। এখানে শুধু দল নয়, মানুষের রাজনৈতিক মানসিকতাও বদলাচ্ছে।”
রাজ্যের এই টালমাটাল অবস্থার মূল কারণ বহুমুখী ইতিহাস, নেতৃত্ব, দুর্নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, আঞ্চলিক বৈষম্য, এমনকি সামাজিক মনস্তত্ত্ব পর্যন্ত জড়িয়ে আছে এই অস্থিরতার সঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সচেতন রাজ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ১৯৬৭ সালের খাদ্য আন্দোলন, ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্টের (Left Front) ক্ষমতায় আসা সবই ইতিহাসে একেকটি মাইলফলক। টানা ৩৪ বছর বাম শাসন (1977–2011) রাজ্যে এক স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলে, কিন্তু একই সঙ্গে পরিবর্তনের স্রোতকেও রোধ করে।এক সময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল বাম রাজনীতির দুর্গ, যেখানে ৩৪ বছরের ধারাবাহিক শাসন এক স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সেই স্থিতাবস্থার ভেতরেই জমেছিল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে পরিবর্তন” ঘটায়। তখন মানুষ ভেবেছিল, এই বদলেই রাজ্যে আসবে নতুন দিগন্ত। রাজনীতিতে বড় পালাবদল ঘটে। এই বদল ছিল “অভ্যাসভাঙা” ভোটের প্রতিক্রিয়া একদলীয় দীর্ঘ শাসনের ক্লান্তি থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। সেই ভাবেই বদলে গিয়েছিল ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে ইতিহাস তৈরি করে ছিল।
কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল, “পরিবর্তন” শব্দটি হারিয়ে গেল ক্ষমতার রাজনীতির ঘূর্ণিতে। চাকরি দুর্নীতি, SSC নিয়োগ কেলেঙ্কারি, শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা-এসব ইস্যু সাধারণ মানুষের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। বিজেপি এই সুযোগে মাঠে নেমেছে “দুর্নীতি মুক্ত বাংলা” স্লোগানে। তৃণমূলের এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “আমরা বুঝেছি, শুধু আবেগ নয়, মানুষের কাছে এখন কাজের রিপোর্ট কার্ডই মুখ্য।” অন্যদিকে বিজেপির এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, “বঙ্গবাসী এখন বিকল্প খুঁজছে। আমরা সেই বিকল্প হতে চাই।”

রাজনীতির উত্তেজনা আরও বেড়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছেন, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উন্নয়নের টাকা আটকে দিচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লির দাবি রাজ্য প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। এই tug-of-war প্রশাসনের গতি শ্লথ করছে এবং রাজনীতিকে করছে সংঘাতমুখী। রাজ্যের বেকার যুব সমাজও এখন রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম এবং শিল্পের অভাব বিজেপিকে দিয়েছে “চাকরির রাজনীতি” ইস্যু। অপরদিকে তৃণমূল বলছে, “রাজ্যে ১০ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে” যদিও বিরোধীরা সেই দাবি খারিজ করছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী সুরক্ষা ও শিল্পায়ন এখন বাংলার ভোটের মূল শব্দ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কে এই ইস্যুগুলি নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে পারবে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।
পাশাপাশি সংগঠনগত টানাপোড়েনও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ। তৃণমূলের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বনাম পুরনো প্রজন্মের দূরত্ব, আর বিজেপিতে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ও সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব — দুই পক্ষেই অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, “রাজ্যে এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ভোটাররা সরকারে ক্লান্ত, আবার বিকল্পেও নিশ্চিত নয়। এই দোদুল্যমান মনোভাবই রাজনীতিকে টালমাটাল করছে।” রাজ্যজুড়ে জনজীবনের সমস্যা কৃষক অসন্তোষ, নারীর উপর অপরাধ, পরিকাঠামোর দুর্বলতা ও আঞ্চলিক বৈষম্য সব মিলিয়ে জনমত ক্রমে বাস্তব ইস্যুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। মানুষ এখন জানতে চাইছে, “কে কী করবে, কবে করবে, কীভাবে করবে।” দীর্ঘদিনের আবেগনির্ভর রাজনীতি থেকে এখন ভোটাররা চাইছেন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। এটাই রাজনীতির প্রকৃত রূপান্তর। আজ রাজ্যের ভোটারদের মানসিকতা দাঁড়িয়েছে তিন ভাগে – একদল তৃণমূলের উন্নয়ন প্রকল্পের উপর আস্থা রাখছে,অন্যদল বিজেপির “পরিবর্তন” ডাককে সুযোগ হিসেবে দেখছে,আর তৃতীয়দল বিশেষত তরুণরা কোনও রাজনৈতিক ব্র্যান্ডে নয় কাজের ভিত্তিতে দল বেছে নিচ্ছে। বাংলার রাজনীতি এখন এক বাস্তবতার সন্ধানে রয়েছে কে দেবে সেই বাস্তবতা যেখানে দল নয়, মানুষের দাবি সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে ।” রাজনীতির এই পরিবর্তনের ঢেউ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। টুইটার (Twitter), ইউটিউব (YouTube), ফেসবুক (Facebook) এসব প্ল্যাটফর্ম এখন হয়ে উঠেছে ডিজিটাল রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র। একটি ভুল মন্তব্য, বা একটি ভাইরাল ভিডিও মুহূর্তে দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে ভোট-পরিস্থিতি।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি রাজ্য শিল্পায়ন, শিক্ষা সংস্কার ও কর্মসংস্থানের পরিষ্কার রূপরেখা তৈরি করতে না পারে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। অন্যদিকে, যদি কোনও দল বাস্তবসম্মত উন্নয়ন রোডম্যাপ দিতে পারে, তবে ২০২৬ সালের ভোটে বড় চমক আসতে পারে। রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল চিত্র আসলে এক নতুন রূপান্তরের ইঙ্গিত। বাম থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি এই ঘূর্ণি এখনও থামেনি। এখন প্রশ্ন একটাই-২০২৬-এ বাংলার রাজনীতির “নতুন মুখ” কে হবেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে জনগণের হাতেই।

বিশেষ ভাবে মনে করা হচ্ছে যে, রাজনীতির মোড় ঘোরাতে ‘জনজীবনের সাতটি ইস্যু’ এগিয়ে কে? বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস!
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রাজনৈতিক চোখ পাল্টাচ্ছে রাজ্যে এখন শুধুই আবেগ বা দলবদ্ধ নস্টালজিয়া ভোটারদের আকৃষ্ট করে না। অনেকে বলছেন, ২০২৬ আসল ট্রায়াল বছর হবে কে আসবে রাজ্যের সিংহাসনে? সেই প্রশ্ন ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি আজ আলোচনার কেন্দ্রে। রাজ্যের ভোটব্যাঙ্ক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ধুলো ঝেড়ে ওঠার লড়াই চলছে বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস এই চার বাহু একে অপরকে কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
গত এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক আধাআধি ধারা গড়ে উঠেছে – ২০১১ সালে বামের শাসন কালের অবসান ও তৃণমূলের উত্থান এবং সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার যুগ। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল (Trinamool Congress) ২১৩টি আসন পায়, আর বিজেপি (Bharatiya Janata Party) উঠে আসে প্রধান বিরোধী দলের আসনে, ৭৭ আসনে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ৪৫.৭৬% ভোট পায় আর বিজেপি পায় ৩৮.৭৩% ভোটভাগের দিক থেকে বিজেপির অগ্রগতি স্পষ্ট। কিন্তু, আর এক জরুরি বাস্তবতা রয়েছে কেবল ভোট সংখ্যা বৃদ্ধি বা লড়াইয়ের উত্তাপ দিয়ে চলবে না, ব্যাপক জনমত ও সমর্থন গড়ে তুলতে হবে “জনজীবনের ইস্যু” বলে চিহ্নিত সাতটি ক্ষেত্রকে কৃষি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি, নারী সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার ও শিল্পায়ন। এই সাতটি বিন্দু যদি কোন দল সরে দাঁড়ায় শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনায়, তাহলে ভোটমাঠে অনেক চেনা চিত্র বদলে যেতে পারে।
কৃষি, বিশেষ করে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে, এখনও ভোটব্যাঙ্কের চাবিকাঠি। আজও হাজার হাজার কৃষক উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদর নিয়ে হাহাকার করছেন। কেন্দ্র থেকে কিষাণ সম্মান নিধি (PM-Kisan Samman Nidhi) ইত্যাদি প্রকল্প থাকলেও, রাজ্যে সেচ, জমি উন্নয়ন, চাষী ঋণ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ঘাটতি জনগণের কাছে প্রকট। বিজেপি যদি এই ফাঁকগুলি সনাক্ত করে মাঠপর্যায়ে কৃষক সমিতি, সরাসরি বীজ ও সার বিতরণ ব্যবস্থা, কৃষি বিপণন রূপায়ন করে তাহলে তারা গ্রামীণ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
যুব সমাজের দিনের শেষে দরকার চাকরি। উচ্চশিক্ষিত যুবকেরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে রীতিমত চাকরির মধ্যেই বিচলিত। সরকারি নিয়োগ ধীরগতি ও দুর্নীতির একাদ্ধিক -পুরনো অভিযোগ রয়েছে। বেসরকারি শিল্পও অনেক সময় অবিকশিত। বিজেপি যদি স্পষ্ট কর্মসংস্থান মডেল তুলে ধরতে পারে কর ছাড়, উদ্যোক্তাবৃত্তি প্রকল্প, মাইক্রো ও মোটা শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহ তাহলে যুব ভোটে তারা প্রবল আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে করোনা মহামারি অনেক চিহ্ন রেখে গেছে। শহরের বড় হাসপাতাল ছাড়াও গাঁ-গঞ্জে চিকিৎসার অভাব স্পষ্ট। নতুন প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারির অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ ও জনস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা যদি বিজেপি জোরদার করে, তাহলে তারা “সেবা রাজনীতি” গড়ার সম্ভাবনা পাবে।
প্রযুক্তি আজ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রশাসনের দক্ষতা ও নাগরিক সেবা এখন ডিজিটাল ব্যাসেই মূল্যায়িত হবে। পশ্চিমবঙ্গে ই-গভর্ন্যান্স, স্কুল-কলেজে ডিজিটাল ক্লাসরুম, গ্রামীণ ইন্টারনেট সংযোগ এখনও অদূরদর্শিতার সীমায়। যদি বিজেপি এই ফাঁক পূরণে সক্রিয় হয়, তাহলে তারা আধুনিক উন্নয়নপ্রিয় ভোটাধিকারীদের হৃদয় ছুবে। মধ্যবিত্ত ও তরুণদের কাছে এটি এক বড় বার্তা হবে।
নারীদের প্রতি সুরক্ষা এখন রাজনীতির নয়া প্রশ্ন। আপরাধ, বিচার প্রক্রিয়া, পুলিশের পদক্ষেপ-এসব নিয়ে জনরোষ বেড়ে চলছে। সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার রূপরেখা যদি বিজেপি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে, তাহলে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব তৈরি হতে পারে।
শিক্ষা আগামীর সমৃদ্ধির বীজ বোনে। কিন্তু বর্তমান অবকাঠামো, অনিয়ম ও পাঠ্যক্রমের পুরাতনতা কোলে অধরা সম্ভাবনা রোজকার সংবাদ। স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক পাঠ্যক্রম, অনলাইন শিক্ষাব্রিজ যদি বিজেপি দিচ্ছে দাবি করে, তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে উঠতে পারে।

ইতিমধ্যে, শিল্পায়ন হলো রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী বিপ্লবের মূল ভিত্তি। ২০১১–২০১৯ সালের মধ্যেই শিল্পপ্রবণ এলাকার সঙ্গে জটিল রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের উদাহরণে। আজও শিল্প বিনিয়োগে নির্ভরযোগ্যতা ফেরানো জরুরি। ভূমি নীতি, পরিবেশ স্বচ্ছতা ও স্টার্টআপ হাব গঠন এই কৌশলগুলি যদি বিজেপি সামনে তুলে ধরতে পারে, তারা রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন বার্তা দিতে সক্ষম হবে।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে (২০২৩) তৃণমূল একপ্রকার ঝড় তুলেছে তারা সমস্ত জেলা পরিষদ ও ব্লক স্তরে দখল করে নিয়েছে।বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, মূল লড়াই এখন তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যে বাম ও কংগ্রেস প্রভাব অনেকটাই সীমাবদ্ধ এখানেই আসল প্রশ্ন ২০২৬ এ কে উঠবে সেই মুখ? তৃণমূল কি সেই নেতা ও ইস্যু ছলিয়ে রাখতে পারবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের (Mamata Banerjee) ব্যক্তিত্ব ও সংহতি এখনও শক্তিশালী। কিন্তু যদি ভোটার বুঝে যায়, “কে কী করবে” আরও বেশি প্রভাব পড়বে নীতি ও অঙ্গীকারে।
বিজেপি দিক থেকে, তাঁরা এখনই কেবল “বিকল্প” হিসেবে দেখা হচ্ছে কিন্তু যদি তারা জনজীবনের প্রশ্নগুলিতে স্পষ্ট ও বাস্তব পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে তাহলে ২০২৬ এ তারা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সূচনা ঘটাতে পারে। কংগ্রেস ও সিপিএম (CPM) যদি ঐ মিথকে পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাদেরকে যুবপন্থী ও ইস্যুর দিক থেকে নতুন চিন্তা করতে হবে শুধু পুরনো বাম-আন্দোলনী ছবি নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। রাজনীতির মোড় এখন ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের জটিলতা ও তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার দিকে ঘোরাচ্ছে। রাজ্যবাসী আজ প্রশ্ন করছে -“কে সত্যিকার অর্থে আমার দুঃখ-সুখ বুঝবে, কে দিক পরিবর্তন আনবে?” ২০২৬ এ সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে — বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম নাকি কংগ্রেস?
(চলবে)
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত




