সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, সোমবার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ঘিরেই আলোচনায় উঠে এল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার। একদিকে গ্র্যাপ-৪ (GRAP-IV) বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর হওয়ার ফলে মাত্র চার দিনে লক্ষাধিক পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল (PUC) সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারত-নিউজিল্যান্ড (India–New Zealand) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা (Manjinder Singh Sirsa) সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গত চার দিনে গ্র্যাপ-৪ বিধিনিষেধ কড়া ভাবে প্রয়োগ করার ফলেই এই বিপুল সংখ্যক পিইউসি সার্টিফিকেট ইস্যু সম্ভব হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর গভীর রাত পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩৩২টি নতুন পিইউসি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার গাড়ি নির্ধারিত নির্গমন পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রীর কথায়, ‘এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দিল্লিতে এখনও বহু যানবাহন দূষণ ছড়াচ্ছে। নিয়ম না মানলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।’ সিরসা আরও জানান, গ্র্যাপ-৪ চালু থাকার সময় রাজধানীজুড়ে দূষণকারী শিল্প, কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তাঁর সাফ বার্তা, ‘যে সব কারখানা ও শিল্প দূষণ ছড়াচ্ছে, তাদের আর কোনও নোটিস দেওয়া হবে না। সরাসরি সিল করে দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি যেসব শিল্প এখনও বাধ্যতামূলক অনলাইন কনসেন্ট ম্যানেজমেন্ট (OCM) ব্যবস্থায় আবেদন করেনি, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শুধু শিল্পক্ষেত্র নয়, বেসরকারি অফিসগুলিকেও গ্র্যাপ-৪ নির্দেশিকা মানতে কড়া ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী জানান, ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করা এবং ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম (work from home) নীতি মানা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘দূষণ কমানো সরকারের একার দায়িত্ব নয়। কর্পোরেট সংস্থা ও সাধারণ নাগরিক, সকলকেই নিয়ম মানতে হবে।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লির বিভিন্ন জেলায় ডেপুটি কমিশনার এবং দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (DPCC)-র আধিকারিকরা যৌথভাবে অবৈধ শিল্প বন্ধের অভিযান চালাচ্ছেন। পরিবেশ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরজুড়ে রাস্তা ধোয়ার কাজ, ধুলো নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য বায়োমাইনিংয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিরসা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দিল্লিকে ধুলো-মুক্ত করতে সব দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।’ প্রসঙ্গত, দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দিল্লির হারিয়ে যাওয়া জলাধার পুনরুদ্ধারের কাজও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী জানান, দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (DDA) এবং রাজস্ব দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে শহরের অন্তত ৫০ শতাংশ হারিয়ে যাওয়া জলাশয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জলাধার বাঁচানো মানে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জল সুরক্ষাও নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে গ্র্যাপ-৪-এর মতো কঠোর পদক্ষেপ সরকারের কৌশলকে তুলে ধরছে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে কঠোরতা যেমন রয়েছে, এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দিল্লির দূষণ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক অভিযান জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য গণপরিবহন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, সোমবারের দিনটি পরিবেশ- রাজধানীর বাতাস পরিষ্কার করার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয়তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi Chokes Under Toxic Smog as AQI Nears Severe Levels, Flights Cancelled




