Rajabazar murder | রাজাবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে খুন, আততায়ী উধাও

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : খাস কলকাতার ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সোমবার সকালে রাজাবাজারে (Rajabazar) ফলের দোকানের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হল এক যুবককে। আচমকা এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ হতে শুরু করে, ভিড় জমে যায় চারপাশে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তবে হামলার পরেই আততায়ী পালিয়ে যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত যুবকের নাম মেহবুব আলম (Mehbub Alam)। বয়স ৪১ বছর। তিনি নারকেলডাঙা (Narkeldanga) এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ফলবিক্রেতা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি রাজাবাজার এলাকায় নিজের ফলের দোকান খুলেছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় একজন যুবক হঠাৎ করে মেহবুবের দোকানে আসে। প্রথমে দু’জনের মধ্যে কথা হয়। ঠিক কী নিয়ে কথা হচ্ছিল, বা কোনও পুরনো বিবাদ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকাই ওই যুবক একটি ধারালো ছুরি বের করে মেহবুব আলমের উপর এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রকাশ্য রাস্তায়, সকলের চোখের সামনেই চলতে থাকে এই নৃশংস হামলা।হঠাৎ এমন আক্রমণে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মেহবুব। চারপাশে তখন চিৎকার, আতঙ্ক আর ছুটোছুটি। অনেকে ভয়ে পিছিয়ে যান, কেউ কেউ দূর থেকে দৃশ্যটি দেখেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হামলাকারী যুবক ঘটনাস্থল ছেড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সে কোন দিকে গিয়েছে, কীভাবে পালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার (Amherst Street Police Station) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় মেহবুব আলমকে উদ্ধার করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (Nil Ratan Sircar Medical College and Hospital – NRS )-এ নিয়ে যায়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গভীর আঘাতের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজাবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই রাস্তার অংশ ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের দোকানদার, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আততায়ীর পরিচয় ও গতিবিধি জানতে ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, হামলাকারী যুবক পরিচিত কেউ হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়িক বিবাদ না কি অন্য কোনও কারণে এই খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বভাবিকভাবেই, মেহবুব আলমের পরিবার এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের কোনও শত্রুতা ছিল না। একজন পরিশ্রমী ফলবিক্রেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন মেহবুব। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ব্যস্ত বাজার এলাকায় দিনের আলোয় খুন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) এক আধিকারিক জানান, ‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’ যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। অন্যদিকে, এই ঘটনায় ফের একবার শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে খুন হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এলাকায়। তবে আততায়ী ধরা না পড়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Kolkata crime news, stabbing incident Kolkata | প্রেম, সন্দেহ আর হিংসার ভয়াল পরিণতি: পোস্তায় বান্ধবীকে কুপিয়ে আত্মঘাতী যুবক, চাঞ্চল্য কলকাতায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন