Central Observers in Assembly Election | মনোনয়ন পর্ব থেকেই কড়া নজরদারি, বাংলায় ২৯৪ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কড়া প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। মনোনয়ন পর্ব থেকেই নজরদারি জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ভোট বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে পৃথক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে এই কৌশল কার্যকর করতে চলেছে কমিশন। ইতিমধ্যেই ১,৪৪৪ জন শীর্ষ পর্যায়ের আধিকারিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, অতীত অভিজ্ঞতায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকেই একাধিক অভিযোগ, অশান্তি এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে আগের বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব ঘিরে বিরোধীদের তরফে জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো, বাধা সৃষ্টি এবং হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার প্রাথমিক স্তর থেকেই কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : SIR West Bengal Supreme Court Order, Voter List Revision Bengal 2026 | এসআইআর বিতর্কে ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ: তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মোতায়েন থাকবে। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মনোনয়ন জমা, যাচাই, প্রত্যাহার পুরো প্রক্রিয়া তাঁদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘মনোনয়ন পর্ব থেকেই পূর্ণ নজরদারি থাকলে অভিযোগ কমবে এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে।’ এই পদক্ষেপ কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), কেরল (Kerala), অসম (Assam) এবং পুদুচেরিতেও (Puducherry) একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১,৪৪৪ জন আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং আইআরএস (IRS) আধিকারিককে গত কয়েকদিন ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি, মনোনয়ন সংক্রান্ত বিধি এবং আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই প্রশিক্ষণে।

আইপিএস আধিকারিকদের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে। তাঁদের মূল দায়িত্ব থাকবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারক করা এবং ভোট প্রক্রিয়ায় ভয়ভীতি বা হিংসার অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। আইএএস পর্যায়ের আধিকারিকরা জেনারেল অবজারভার হিসেবে সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। আর্থিক দিক নজরে রাখতে আইআরএস আধিকারিকদের ব্যয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে, যাতে ভোটে অবৈধ অর্থপ্রবাহ বা ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘনের ঘটনা রোধ করা যায়। কমিশনের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, মনোনয়ন পর্বে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গোটা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ আসে, প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বা মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। অতীত অভিজ্ঞতার নিরিখে কমিশন এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কেন্দ্রীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক কমিশন সূত্রের ভাষায়, ‘বিজ্ঞপ্তির দিন থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক থাকলে অভিযোগের অবকাশ কমবে।’

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্বাচনী বিধি সম্পর্কে আপডেট তথ্য দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন জমার সময় ভিডিও নজরদারি, ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ এবং অভিযোগ গ্রহণের দ্রুত পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের হাতে-কলমে দীক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি না তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, নির্বাচনের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় নজরদারি থাকলে প্রক্রিয়ার উপর জনআস্থা বাড়তে পারে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন পর্বে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসেছে। কমিশনের এই নতুন ফর্মুলা সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনার ফল। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও নিরপেক্ষ রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ‘মনোনয়ন থেকে গণনা, পুরো প্রক্রিয়া আইনানুগ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে রাজনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভোট বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে তাঁদের আগমন ঘটবে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই কৌশল কার্যকর হলে মনোনয়ন পর্যায়ে অনিয়ম বা হিংসার অভিযোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে ধারণা। প্রাথমিক স্তরেই নজরদারি জোরদার হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপও কঠোর নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে। এখন দেখার, এই উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কতটা সফল হয় এবং ভোট প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে।

ছবি : সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election Observer News | নবান্নের নীরবতার জবাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ, বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৫ আইএএস-আইপিএসকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ডেকে পাঠাল নির্বাচন কমিশন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন