সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জন্য রাজ্য ক্যাডারের ১৫ জন আইএএস (IAS) এবং ১০ জন আইপিএস (IPS) আধিকারিককে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করল কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক বার রাজ্যের কাছে নাম চাওয়া হলেও সাড়া না মেলায় এ বার সরাসরি পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রাজ্যগুলিতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অভিজ্ঞ আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি এমএল মীনা (M. L. Meena) স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে, আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে দ্বারকায় অবস্থিত ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’-এ। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সহ কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত বৈঠকে কোনও আধিকারিক গরহাজির থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের সিইও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চিঠি সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং ইমেল মারফত তাঁদের কাছ থেকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার লিখিত নিশ্চয়তাও সংগ্রহ করতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছ থেকেই আধিকারিকদের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও নাম পাঠানো হয়নি। একাধিক বার অনুস্মারক পাঠানো সত্ত্বেও নবান্নের পক্ষ থেকে সাড়া না মেলায় নির্বাচন কমিশন নিজেই উদ্যোগী হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন পরিচালনায় কোনও রকম বাধা না রাখতে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের মূল কাজ হল ভোট প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি রাখা, নির্বাচনী বিধিভঙ্গ রুখে দেওয়া এবং কমিশনের নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা। সেই কারণেই অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ আধিকারিকদের বেছে নেওয়া হয়।’
উল্লেখ্য, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা বারবার শিরোনামে এসেছে। বুথ দখল, ভোট পরবর্তী হিংসা, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, এই সব বিষয়েই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে কমিশনের এই তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নবান্নের নাম না পাঠানোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কৌশলগত হিসাব থাকতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই সরাসরি পদক্ষেপে রাজ্য-কেন্দ্র প্রশাসনিক সম্পর্কের টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হল বলেই মত অনেকের। যদিও সরকারি ভাবে এখনও রাজ্য সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশাবলি নিয়ে দিল্লির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নিয়েও দিকনির্দেশ দেওয়া হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Election Commission SIR West Bengal | নোটিস উপেক্ষা করে শুনানিতে অনুপস্থিত তিন লক্ষের বেশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় জোর জল্পনা




