সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আইনি টানাপোড়েনের পর তিন ভাষা নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)। সোমবার প্রকাশিত এই গাইডলাইনে জানানো হয়েছে, বর্তমান দশম শ্রেণির (Class 10) পড়ুয়াদের জন্য এই নীতি বাধ্যতামূলক নয়। পাশাপাশি নবম শ্রেণির (Class 9) পড়ুয়াদের জন্যও এককালীন ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের একাংশের উদ্বেগ কিছুটা কমাতে পারে। সিবিএসই-এর আকাডেমিক ডিরেক্টর প্রজ্ঞা এম সিং (Praggya M Singh) জানান, ‘বর্তমান দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিন ভাষা নীতি অনুসরণ করতে হবে না। একই সঙ্গে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বর্তমান ব্যাচ যখন দশমে উঠবে, তখন তাদের তৃতীয় ভাষায় বোর্ড পরীক্ষাও দিতে হবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার, বোর্ড তাৎক্ষণিক চাপ কমানোর দিকেই জোর দিচ্ছে। তবে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ছাড় নয়, বরং একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা আনা হয়েছে। প্রজ্ঞা সিং বলেন, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে থাকা পড়ুয়ারা আপাতত দুইটি বিদেশি ভাষা পড়তে পারবে, কিন্তু তাদের একটি ভারতীয় ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে যুক্ত করতে হবে।’ এই সিদ্ধান্তকে এককালীন শিথিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : Ashwini Vaishnaw announcement | ৬ ঘণ্টায় দিল্লি-শিলিগুড়ি! বাংলায় বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, গত মাসেই সিবিএসই ঘোষণা করেছিল যে ১ জুলাই থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হবে, যার মধ্যে অন্তত দুইটি ভারতীয় ভাষা থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বহু অভিভাবক ও পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হন, কারণ তাঁদের মতে এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সময় দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশিকা সেই চাপ কমানোরই প্রচেষ্টা। যদিও বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি (Class 6) থেকে ধাপে ধাপে তিন ভাষা নীতি চালু করা হবে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে গণিত (Mathematics) ও বিজ্ঞান (Science) বিষয়ে দুই স্তরের পাঠক্রম চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গণিত ও বিজ্ঞানে থাকবে দু’টি স্তর স্ট্যান্ডার্ড (Standard) এবং অ্যাডভান্সড (Advanced)। সব পড়ুয়াকে ৮০ নম্বরের একটি সাধারণ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তবে যারা বিষয়টি গভীরভাবে পড়তে চায়, তারা অতিরিক্ত একটি অ্যাডভান্সড স্তরের পরীক্ষা দিতে পারবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য, পড়ুয়াদের উচ্চতর ধারণাগত দক্ষতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা যাচাই করা।বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে থাকা পড়ুয়াদের জন্যই প্রথম এই নতুন পদ্ধতিতে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে ২০২৮ সালে। ফলে বর্তমান নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই পরিবর্তনগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এর আগে ১৫ মে সিবিএসই জানিয়েছিল, কোনও পড়ুয়া যদি বিদেশি ভাষা বেছে নিতে চায়, তাহলে তা তৃতীয় ভাষা হিসেবে পড়তে হবে, যখন সে দুইটি ভারতীয় ভাষা পড়বে। অথবা বিদেশি ভাষাকে চতুর্থ ভাষা হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। এই নির্দেশিকার পরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়, কারণ অনেক পড়ুয়ার কাছে একাধিক ভারতীয় ভাষা শেখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, নতুন গাইডলাইনে সেই অবস্থান কিছুটা নমনীয় করা হয়েছে। নবম শ্রেণির বর্তমান ব্যাচকে দুইটি বিদেশি ভাষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, একটি ভারতীয় ভাষা যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ভাষাগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পড়ুয়াদের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ মনে করছে, দ্রুত নীতি পরিবর্তনের ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, নতুন নির্দেশিকা অন্তত একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই নীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আরও সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সিবিএসই একদিকে নতুন শিক্ষানীতি (NEP) অনুযায়ী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতি ও ছাত্রছাত্রীদের সক্ষমতার কথাও বিবেচনায় রাখছে। এই ভারসাম্য বজায় রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এখন নজর রয়েছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার উপর। নতুন নির্দেশিকা কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে তা কীভাবে রূপ পায়, সেটাই আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী।
আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী



