সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড়সড় নীতি ঘোষণা করল দিল্লি সরকার। নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকল নীতি (EV Policy) অনুযায়ী, জাতীয় রাজধানীতে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এক্স-শোরুম মূল্যের সমস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর ১০০ শতাংশ রোড ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফী মুকুব করা হবে। সোমবার মন্ত্রিসভায় এই নীতি অনুমোদন পেয়েছে এবং ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)। প্রেস কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এই প্রকল্পে। লক্ষ্য, ২০৩০ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দিল্লিকে দূষণমুক্ত শহরে রূপান্তর করা। তাঁর কথায়, ‘এই নীতির মাধ্যমে পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হবে এবং ধাপে ধাপে প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহন থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তর ঘটানো হবে।’
নতুন নীতিতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে একাধিক আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক দুই চাকার যান কিনলে প্রথম বছরে ৩০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় বছরে ২০,০০০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে। একইভাবে বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান ক্রেতারা প্রথম বছরে ৫০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় বছরে ৪০,০০০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। বাণিজ্যিক পরিবহণ ক্ষেত্রেও এই নীতির প্রভাব পড়বে। এন১ ক্যাটাগরির (N1 category) বৈদ্যুতিক ট্রাক কিনলে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুরনো বিএস-৪ (BS-IV) বা তার নিচের মানের চার চাকার গাড়ি স্ক্র্যাপ করে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনলে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত সুবিধা মিলবে। নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধাপে ধাপে প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহনের ব্যবহার কমানো। জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দিল্লিতে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক অটোরিকশা নিবন্ধন করা হবে। তার পরবর্তী ধাপে, ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন পেট্রোল ও সিএনজি চালিত দুই চাকার গাড়ির নিবন্ধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই সময় থেকে কেবল বৈদ্যুতিক দুই চাকার যানবাহনই নিবন্ধনের অনুমতি পাবে।
সরকারি সূত্রে খবর, হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে কোনও ভর্তুকি দেওয়া হবে না। নীতিটি সম্পূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারে কেন্দ্রীভূত। এর ফলে বাজারে ইভি গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নীতির অংশ হিসেবে একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালও তৈরি করা হবে, যেখানে ইভি সংক্রান্ত সমস্ত প্রণোদনার জন্য আবেদন করা যাবে। এতে প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ এবং সহজ হবে বলে প্রশাসনের দাবি।
দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে পরিবহণ খাতকে দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন ইভি নীতির মাধ্যমে সেই সমস্যার মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবহণ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে ও দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমবে। একই সঙ্গে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নীতির ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা, সবাই এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য ৩০ লক্ষ টাকার নিচে গাড়িতে সম্পূর্ণ ট্যাক্স মুকুব একটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে। চার্জিং অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থায়িত্ব এবং পুরনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের গতি, এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আগামী দিনে। তবুও, দিল্লি সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : dating app scam India judge, Haryana judge fraud 52 lakh | ডেটিং অ্যাপে ‘প্রেম’, তারপর ৫২ লক্ষ উধাও! হরিয়ানার মহিলা বিচারককে টার্গেট করে প্রতারণা, দিল্লি থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত



