সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ আইন দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে বড়সড় রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে উদ্যোগী কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, লোকসভায় (Lok Sabha) আসনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর একাধিক প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ৫৪৩ আসনের পরিবর্তে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, একদিকে যেমন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, তেমনই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির উদ্বেগও প্রশমিত করা। সূত্রের খবর, নতুন সংবিধান সংশোধনী বিলের (Constitution Amendment Bill) খসড়া তৈরি হচ্ছে এই বিষয়টি মাথায় রেখে যে, জনসংখ্যাভিত্তিক পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে কেন্দ্র এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে, যেখানে আসন সংখ্যা বাড়লেও রাজ্যগুলির মধ্যে বর্তমান আসন বণ্টনের অনুপাত অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় এই সংক্রান্ত প্রথম বিলটি পেশ করা হলেও তা পাস হয়নি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটি এগোতে পারেনি। বর্তমানে শাসক জোট এনডিএ (NDA)-র হাতে প্রায় ৩০০ জন সাংসদ রয়েছে, যেখানে এই ধরনের সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন ৩৬০টি ভোট। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় করা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন খসড়ায় ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির মধ্যে আসন বণ্টনের যে অনুপাত রয়েছে, তা বজায় রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এটি একমাত্র প্রস্তাব নয়, একাধিক বিকল্প নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে পরিকল্পনা রয়েছে, লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় (State Assemblies) আসন সংখ্যা বাড়ানো হবে, যাতে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়। বর্তমান আইনে এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার সময়সীমা অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জনগণনার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে তবেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে, যার ফলে বাস্তবে তা ২০৩৪ সালের আগে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র চাইছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে। সেই কারণেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নতুন আসন কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হতে পারে, কারণ সর্বশেষ জনগণনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এর ফলে নতুন করে আসন নির্ধারণ এবং সংরক্ষণের হিসাব করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন নির্ধারণ হলে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। কারণ, উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। এই প্রেক্ষাপটে আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবকে একটি ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা সহজ হবে, তেমনই রাজ্যগুলির মধ্যে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বিল সংসদে পেশ করা হবে তখনই, যখন পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করা যাবে। কারণ আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। লোকসভায় সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় আলোচনা এবং প্রতিনিধিত্বের ধরন, সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নতুন খসড়া কতটা দ্রুত চূড়ান্ত হয় এবং তা সংসদে পাস করানোর জন্য সরকার কী ধরনের কৌশল নেয়, সেটাই আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Seychelles, India Seychelles relations | সেশেলসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদী, ভারত-সেশেলস সম্পর্কে নতুন গতি



