Census 2027 India digital, Om Birla census participation | ডিজিটাল যুগে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ‘স্ব-গণনা’ সম্পন্ন করে জনশুমারি ২০২৭-এ যোগ দিলেন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করে তুলতে জনশুমারি ২০২৭ (Census 2027) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। এই প্রক্রিয়ার সূচনালগ্নেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘স্ব-গণনা’ (Self Enumeration) সম্পন্ন করে অংশ নিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সরকারি বাসভবনে বসেই তিনি এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেন, যা দেশের নাগরিকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এই উদ্যোগকে ঘিরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় জনশুমারি প্রশাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করছে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এবার প্রথমবারের মতো গোটা গণনা প্রক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিফলন। তিনি জানান, ‘প্রথমবার নাগরিকরা নিজেরাই তাঁদের পরিবারের তথ্য সরাসরি নথিভুক্ত করতে পারছেন, যা একটি নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি।’

আরও পড়ুন : Swachhata Pakhwada 2026 India | স্বচ্ছতা পখওয়াড়া ২০২৬: শাস্ত্রী ভবনে শপথ, সেলফি ও সচেতনতার বার্তা, পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ার নতুন উদ্যোগ

এই স্ব-গণনার মাধ্যমে নাগরিকদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগে যেখানে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন, সেখানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রত্যেকে নিজের তথ্য নিজেই আপলোড করতে পারবেন। এর ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি নির্ভুল তথ্য বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) আরও উল্লেখ করেন, ‘ডিজিটাল গণনার এই পদক্ষেপ দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত।’ তাঁর মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য দেশের বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জনশুমারির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দেশের সকল নাগরিককে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, ‘জনশুমারি থেকে জনকল্যাণের পথ তৈরি হয়।’ তিনি সকলকে নিজের তথ্য নিজে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি অন্যদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করার কথা বলেন। এই উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের মহাপঞ্জিকারক ও জনশুমারি কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ (Mrityunjay Kumar Narayan)। তিনি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেন এবং প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। তাঁর উপস্থিতি এই ডিজিটাল উদ্যোগের প্রশাসনিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রসঙ্গত, জনশুমারি ২০২৭ -এ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রয়োগ দেশের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে। এতে করে বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে তথ্য সংগ্রহ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তর দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি, যাতে সবাই সহজে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো, সবক্ষেত্রেই এই তথ্য ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিজিটাল স্ব-গণনার এই পদক্ষেপ শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, তা নাগরিক অংশগ্রহণের একটি নতুন অধ্যায়। এতে করে দেশের মানুষ সরাসরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠবেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য যে, ভারতের মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় দেশে জনশুমারি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেই কাজকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করতে প্রযুক্তির ব্যবহার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার, এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে এবং তা দেশের উন্নয়নের পথে কতটা প্রভাব ফেলে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Paid holiday polling day India 2026, election commission voting leave rule | ভোটের দিন ছুটি বাধ্যতামূলক, মজুরি কাটা যাবে না, নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে স্বস্তি কর্মীদের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন