সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার বার্তা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের অধীন আইন কার্য বিভাগ স্বচ্ছতা পখওয়াড়া ২০২৬ (Swachhata Pakhwada 2026 India) উদযাপন করল উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এই কর্মসূচিতে বিভাগের আধিকারিক ও কর্মীরা একযোগে অংশ নিয়ে কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে চারপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্বকে আরও সুসংহত করার বার্তা দেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ (Swachh Bharat Abhiyan) -এর মূল ভাবনাকে আরও প্রসারিত করা। কর্মসূচির সূচনা হয় শাস্ত্রী ভবনের (Shastri Bhawan) সম্মেলন কক্ষে, যেখানে উপস্থিত সকলে একযোগে স্বচ্ছতার শপথ গ্রহণ করেন এবং ‘স্বচ্ছ ভারত’ সম্পর্কিত জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এই পর্বে অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ ভারত গঠনের লক্ষ্যকে পুনরায় সমর্থন জানান।
আইন কার্য বিভাগের সচিব ড. রাজীব মণি (Dr. Rajiv Mani) ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করান। তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হওয়া দরকার।’ তাঁর এই বক্তব্য কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং সকলে নিজেদের ভূমিকা আরও গুরুত্ব সহকারে উপলব্ধি করেন। এই পখওয়াড়ার অংশ হিসেবে দফতরের অভ্যন্তরে একটি স্বাক্ষর অভিযান চালানো হয়, যেখানে কর্মী ও দর্শনার্থীদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে যুক্ত হতে আহ্বান জানানো হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মূল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কর্মীদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন, যা সামগ্রিকভাবে উদ্যোগটিকে আরও বিস্তৃত করে তোলে। সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ সেলফি বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে পরিচ্ছন্নতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। এই আধুনিক উপায়টি কর্মীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং কর্মসূচীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। অনেকেই সৃজনশীল বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা অন্যদেরও উৎসাহিত করে।।এছাড়াও, একটি রঙোলি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিল্পের মাধ্যমে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা ভাবনা প্রকাশ পায়। অংশগ্রহণকারীরা নান্দনিক ডিজাইন ও বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই কর্মসূচি শুধু সচেতনতা বাড়ায়নি, বরং সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিষয়টিকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
পুরো কর্মসূচীতে আধিকারিক ও কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। তাঁদের এই আগ্রহ কর্মক্ষেত্রের বাইরেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে। কর্মীদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশাসনিক পরিসরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের পথে সহায়ক হতে পারে। আইন কার্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা ধারাবাহিকভাবে এমন কর্মসূচী চালিয়ে যাবে, যাতে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠে। বিভাগটি মনে করে, নিয়মিত প্রচার ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব এবং দেশের প্রতিটি স্তরে এর প্রভাব পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, প্রশাসনিক স্তরে পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য, এই বার্তাই সামনে এসেছে ‘স্বচ্ছতা পখওয়াড়া ২০২৬’-এর মাধ্যমে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : ISGF 2026 India | ভারতকে বিশ্ব ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদনের কেন্দ্র করার ডাক, আইএসজিএফ ২০২৬-এ বড় লক্ষ্য ঘোষণা করলেন হরি রঞ্জন রাও




