সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আত্মনির্ভরতার পথ ধরে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে হাতিয়ার করে গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। দেশের সামরিক শক্তি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সময়কালে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কীভাবে বায়ু, স্থল ও সমুদ্র এই তিন ক্ষেত্রেই ভারত নিজেদের সক্ষমতা দৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে গত দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন : মোদী ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বাণিজ্য সমঝোতার ইঙ্গিত, দ্রুত ‘ব্যালান্সড ডিল’-এর পথে এগোতে নির্দেশ
গত ১২ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের অগ্রগতি নিয়ে একটি ধারাবাহিক উপস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেছেন মোদী। সেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন, অস্ত্র নির্মাণ এবং সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ‘এই ধারাবাহিক উপস্থাপনা দেখায়, কীভাবে ভারত বায়ু, স্থল ও সমুদ্র, সব ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং আত্মনির্ভরতার পথে শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে।’ বিশেষত, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে দেশীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা বেড়েছে। আগে যেখানে বহু ক্ষেত্রে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হত, এখন সেখানে দেশেই উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধবিমান, মিসাইল, নৌবাহিনীর জাহাজ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের হার বেড়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি।
প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নও এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক। ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের ক্ষেত্রে ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এর ফলে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা যে কোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। মোদীর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আত্মনির্ভরতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রয়োজনীয়। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা এবং স্টার্টআপ সংস্থাগুলি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। এর ফলে শুধু সামরিক শক্তিই নয়, দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। তাঁর কথায়, ‘এই অগ্রগতি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি বহন করে।’ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন শুধু সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ার ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ঘটছে। ফলে প্রতিরক্ষা খাত দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে ভারত যে পথ অনুসরণ করছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। সামগ্রীকভাবে, গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা দেশের শক্তি ও সক্ষমতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দেশীয় উৎপাদনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন কাঠামো ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : El Nino impact India monsoon, Narendra Modi NITI Aayog meeting 2026 | এল নিনোর ছায়া, বর্ষায় ঘাটতির আশঙ্কা! নীতি আয়োগ বৈঠকে রাজ্যগুলিকে কড়া সতর্কবার্তা মোদীর



