North East India films MIFF 2026 | উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুস্বর এক মঞ্চে, MIFF 2026-এ বিশেষ বিভাগে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রকৃতির অনন্য চিত্র তুলে ধরছে একগুচ্ছ ছবি

SHARE:

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির বহুমাত্রিক রূপ এবার বিশেষভাবে জায়গা পেল ১৯তম মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Mumbai International Film Festival 2026 বা MIFF 2026)-এ। ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক উৎসবে একটি বিশেষ কিউরেটেড বিভাগ রাখা হয়েছে, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির শর্ট ফিকশন ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। আয়োজকদের বক্তব্য, ‘এই বিভাগে একাধিক কণ্ঠস্বর মিলিয়ে এক অঞ্চলের বাস্তবতা ও অনুভূতিকে তুলে ধরা হচ্ছে।’ এই বিশেষ প্রদর্শনীতে খাসি (Khasi), নাগামিজ (Nagamese), আও (Ao), কোকবরক (Kokborok), ভূটিয়া (Bhutia), অসমিয়া (Assamese), মণিপুরি (Manipuri) এবং মিজো (Mizo) ভাষায় নির্মিত ছবি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চলচ্চিত্রগুলিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক টানাপোড়েন, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : India 402 runs Gill Kishan : ৪০২ রানের পাহাড় গড়ল ভারত, শুভমন-ঈশানের জোড়া সেঞ্চুরিতে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান, তবু শেষের ধস নিয়ে প্রশ্ন

এই বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি ‘কা পাটেং’ (KA PATENG)। সংকিরাং এল. খংগুইর (Sankirang L. Khongwir) পরিচালিত এবং পনবিশাল চিদাম্বরনাথন (Ponvishal Chidambaranathan) প্রযোজিত এই খাসি ভাষার শর্ট ফিকশনটি একটি পরিবারের ভাঙন ও পুনর্মিলনের গল্প বলে। মায়ের মৃত্যুর পর বহু বছর পরে তিন ভাইবোন একসঙ্গে আসে, যেখানে প্রত্যেকের জীবনে লুকিয়ে থাকা অতীতের ক্ষত ও অজানা সত্য সামনে আসে। ছবির একটি সংলাপে বলা হয়েছে, ‘এক ছাদের নিচ থেকেও আমরা কত দূরে ছিলাম, সেটা আজ বুঝতে পারছি।’ নাগা সমাজের এক অনন্য ব্যক্তিত্বের জীবনকাহিনি উঠে এসেছে সঞ্জীব পরাশর (Sanjib Parasar) ও নীলাক্ষী মেধি (Nilakshi Medhi) পরিচালিত একটি তথ্যচিত্রে। লেন্তিনা আও (Lentina Ao)-এর জীবন ও কাজকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবি দেখায় কীভাবে ১৯৫৫ সালে একজন ধাত্রী হিসেবে কাজ শুরু করে তিনি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ছবিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রতিটি জীবনের গল্পই সংগ্রামের, আর সেই সংগ্রামই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’

ত্রিপুরার রিয়াং (Reang) সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত আরেকটি তথ্যচিত্রে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকারের মাধ্যমে ইতিহাস ও বিশ্বাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। সুজিত দেববর্মা (Sujit Debbarma) ও প্রণব জ্যোতি ডেকা (Pranab Jyoti Deka)-র পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে পোশাক শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং সমাজের আত্মপরিচয়ের বাহক। ছবির একটি অংশে বলা হয়, ‘আমাদের পোশাক আমাদের অতীতকে বহন করে।’ সিকিম (Sikkim)-এর প্রেক্ষাপটে নির্মিত সমতেন ভূটিয়া (Samten Bhutia)-এর তথ্যচিত্রটি দর্শকদের নিয়ে যায় হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এক অজানা ইতিহাসের সন্ধানে। কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga)-এর ছায়ায় থাকা এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, ভূগোল ও ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে এই ছবি। নির্মাতার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পর্যটনের বাইরেও এই ভূমির অনেক অজানা গল্প রয়েছে।’ অসমের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে ‘টিনস অফ ১৯৪২’ (Teens of 1942) তথ্যচিত্রে। সমীরণ ডেকা (Samiran Deka) পরিচালিত এই ছবিতে ভোলানাথ নাগারিয়া (Bholanath Nagaria) ও রাধা বরা (Radha Bora)-র মতো কিশোর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে বলা হয়েছে, ‘তাদের সাহস ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে।’

মিজোরাম (Mizoram)-এর প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি ‘ডাইবাওল’ (Daibawl)-কে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি শর্ট ফিকশনেও ঐতিহ্য ও আধুনিকতার দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। নেপোলিয়ন আরজেড থাঙ্গা (Napoleon RZ Thanga) পরিচালিত এই ছবিতে এক যুবকের গল্প বলা হয়েছে, যে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য পুরনো বিশ্বাস ও আধুনিক চিকিৎসার মধ্যে দোদুল্যমান। ছবির সংলাপে শোনা যায়, ‘পুরনো পথ কি আজও আমাদের বাঁচাতে পারে?’ মণিপুর (Manipur)-এর প্রতীকী প্রাণী সাঙ্গাই (Sangai) হরিণকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্রও এই বিভাগে বিশেষ আকর্ষণ। আকাঙ্ক্ষা সুদ সিংহ (Akanksha Sood Singh) পরিচালিত এই ছবিতে ভাসমান ঘাসভূমিতে এই বিরল প্রাণীর জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতার টানাপোড়েনও এতে উঠে এসেছে। ছবিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক এখানে খুবই সূক্ষ্ম।’

উৎসব কর্তৃপক্ষের মতে, এই বিশেষ বিভাগ শুধুমাত্র চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুমাত্রিক পরিচয়কে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবিগুলি ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে ধরা দিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dhurandhar 2 news, Delhi High Court film case | ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রকে রিপোর্ট

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন