Amol Muzumdar Women’s World Cup | ব্যাট হাতে স্বপ্ন অপূর্ণ, কিন্তু কোচ হিসেবে পূর্ণতা!দ্রোণাচার্য অমল মজুমদার

SHARE:

কিন্তু ম্যাচ শেষে এক অনন্য দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সরাসরি ছুটে গেলেন হরমন কোচ অমল মজুমদারের কাছে। তিনি গুরুর পায়ে হাত রেখে প্রণাম করলেন। অমল তাঁকে বুকে টেনে নিলেন, দু'জনের চোখে জল, মুখে গর্বের হাসি। সেই মুহূর্ত যেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস, একজন ব্যর্থ খেলোয়াড়ের হাতে তৈরি এক বিশ্বজয়ী দলের গল্প। অমল মজুমদার (Amol Muzumdar) ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অবমূল্যায়িত অধ্যায়।

স্নিগ্ধা বসু, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : যে মানুষ একসময় ভারতের নীল জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন, তিনি নিজে না খেলেও ভারতকে এনে দিলেন ক্রিকেট বিশ্বজয়ের গৌরব। ২০২৫ মহিলা বিশ্বকাপ (2025 Women’s Cricket World Cup) ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারতের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তে চোখের জল লুকোতে পারেননি কোচ অমল মজুমদার (Amol Muzumdar)। কারণ এই জয় শুধু হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur) বা তাঁর দলের নয়, এই জয় সেই কোচের, যিনি প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও একদিন জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছেও সুযোগ পাননি। গত রবিবারের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে ভারতের মেয়েরা ইতিহাস গড়েছে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান। জবাবে ২৪৬ রানে অলআউট হয় প্রোটিয়া বাহিনী। ব্যাটে ঝড় তোলেন শেফালি বর্মা (Shafali Verma), বল হাতে আগুন ঝরান দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma)। আর শেষ মুহূর্তে দীপ্তির বলে ধরা সেই ক্যাচ যা ভারতের হাতে তুলেছে ইতিহাসের প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ ট্রফি ধরেছিলেন অধিনায়িকা হরমনপ্রীত নিজেই।

কিন্তু ম্যাচ শেষে এক অনন্য দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সরাসরি ছুটে গেলেন হরমন কোচ অমল মজুমদারের কাছে। তিনি গুরুর পায়ে হাত রেখে প্রণাম করলেন। অমল তাঁকে বুকে টেনে নিলেন, দু'জনের চোখে জল, মুখে গর্বের হাসি। সেই মুহূর্ত যেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস, একজন ব্যর্থ খেলোয়াড়ের হাতে তৈরি এক বিশ্বজয়ী দলের গল্প। অমল মজুমদার (Amol Muzumdar) ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অবমূল্যায়িত অধ্যায়।
অমল মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু ম্যাচ শেষে এক অনন্য দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সরাসরি ছুটে গেলেন হরমন কোচ অমল মজুমদারের কাছে। তিনি গুরুর পায়ে হাত রেখে প্রণাম করলেন। অমল তাঁকে বুকে টেনে নিলেন, দু’জনের চোখে জল, মুখে গর্বের হাসি। সেই মুহূর্ত যেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস, একজন ব্যর্থ খেলোয়াড়ের হাতে তৈরি এক বিশ্বজয়ী দলের গল্প। অমল মজুমদার (Amol Muzumdar) ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অবমূল্যায়িত অধ্যায়। ১৭১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১১,১৬৭ রান, ৩০টি সেঞ্চুরি, কিন্তু জাতীয় দলে একবারও ডাক আসেনি। তাঁর সময়ের ভারতীয় মিডল অর্ডার ছিল কিংবদন্তিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid), সৌরভ গাঙ্গুলি (Sourav Ganguly), ভিভিএস লক্ষ্মণ (VVS Laxman)। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে সুযোগের পাওয়া হয়নি অমলের। মুম্বই ক্রিকেটের কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটার একসময় সচিন ও বিনোদ কাম্বলি (Vinod Kambli)-এর সঙ্গে খেলেছিলেন স্কুল ক্রিকেটে। সেই বিখ্যাত হ্যারিস শিল্ড ম্যাচে সচিন-কাম্বলির অবিশ্বাস্য ৬৬৪ রানের জুটি ইতিহাস তৈরি করেছিল। জানা যায়, তাঁদের আউট হওয়ার পরেই নামার কথা ছিল অমলের। কিন্তু দুই দিনের ব্যাটিংয়ের পরও সুযোগ পাননি, এই ঘটনাই যেন প্রতীক হয়ে থাকে তাঁর গোটা জীবনের গল্পের। ২০১৪ সালে ২১ বছরের দীর্ঘ ঘরোয়া কেরিয়ার শেষে অবসর নেন অমল। তারপর ২০২৩ সালে ভারতীয় মহিলা দলের কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পান। অল্প সময়েই দলের মধ্যে তৈরি করেন বিশ্বাস, শৃঙ্খলা, এবং দৃঢ় মানসিকতা। শুরুতে টানা তিনটি ম্যাচ হারের পরও তিনি হার মানেননি। দলের মনোবল ফেরান, আত্মবিশ্বাস জোগান। ফাইনালের পর হরমনপ্রীত বলেন, “এই জয় আমাদের নয়, কোচের। অমল স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে বিশ্বাস হারানো যায় না।”

কিন্তু ম্যাচ শেষে এক অনন্য দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সরাসরি ছুটে গেলেন হরমন কোচ অমল মজুমদারের কাছে। তিনি গুরুর পায়ে হাত রেখে প্রণাম করলেন। অমল তাঁকে বুকে টেনে নিলেন, দু'জনের চোখে জল, মুখে গর্বের হাসি। সেই মুহূর্ত যেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস, একজন ব্যর্থ খেলোয়াড়ের হাতে তৈরি এক বিশ্বজয়ী দলের গল্প। অমল মজুমদার (Amol Muzumdar) ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অবমূল্যায়িত অধ্যায়।
বিশ্বকাপ জয়ের পরে হরমনপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মান্ধানা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব জয়ের পর অমলের চোখেও গর্বের ঝিলিক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ। গর্বিত। এই জয় পুরো দলের প্রাপ্য। মেয়েরা নিজেদের পরিশ্রম, বিশ্বাস আর মানসিক শক্তি দিয়ে ইতিহাস লিখেছে। এটি শুধু একটি জয় নয়, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুরুর দিকে ব্যর্থতা ছিল, কিন্তু আমরা সেটাকে নিজেদের ভেতরে ঢুকতে দিইনি। প্রতিটি ম্যাচে নতুনভাবে শুরু করেছি। মেয়েরা দারুণ লড়েছে, আর আজ ফল মিলেছে।”

শেফালি বর্মার অসাধারণ পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন কোচ। তাঁর ভাষায়, “শেফালির জন্য একটাই শব্দ, জাদুকরি! সে ভয় পায় না, ভাবে না। শুধু খেলাটা উপভোগ করে। এমন প্রতিভা ভারতের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।” অন্যদিকে, বিশ্বজয়ের রাতে হরমনপ্রীত, স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana), জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues), দীপ্তি সবার মুখে ছিল এক নাম, “অমল স্যার।” কারণ তিনিই তৈরি করেছেন এই বিজয়ী দল। যিনি নিজের ব্যর্থতা থেকে শেখেন, এবং সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই গড়েন এক চ্যাম্পিয়ন ভারত। এক সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারতের হয়ে না খেলার দুঃখ আজও আছে,” তিনি আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “ভারতের জন্যই আমি জিতেছি।” এই জয় তাই শুধু ক্রিকেটীয় অর্জন নয়, মানবিক পরিণতির এক অসাধারণ প্রতীক। হরমনপ্রীতদের জয় যে শুধু ভারতের নয়, তা যেন প্রমাণ করে দিলেন অমল মুজুমদার। ব্যাট হাতে জাতীয় দলের হয়ে নাম না উঠলেও, কোচ হিসেবে তাঁর নাম এখন ইতিহাসে চিরস্থায়ী।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana wedding | বিশ্বজয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন ইনিংস! বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন স্মৃতি মান্ধানা, প্রেমিক পলাশ মুছলের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন ‘উইমেন ইন ব্লু’ তারকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment