Afghanistan Hospital Bombing: কাবুলে হাসপাতালে বোমাবর্ষণ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা, পাকিস্তানকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে কড়া বার্তা ভারতের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে আফগানিস্তানের (Afghanistan) রাজধানী কাবুলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলার ঘটনা। সোমবার গভীর রাতে একটি হাসপাতালে আকাশপথে বোমাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নতুন দিল্লির তরফে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই সামরিক অভিযান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না, এটি নিছক গণহত্যা।’ বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs)-এর তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিরীহ মানুষের উপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’ ভারতের মতে, এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত নয়, বরং গোটা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতাবস্থার জন্যও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কাবুলের একটি বৃহৎ হাসপাতাল, যেখানে প্রায় ২০০০ শয্যার ব্যবস্থা ছিল এবং বিশেষ করে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলত, সেই হাসপাতালকেই লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টা নাগাদ এই বিস্ফোরণ ঘটে। আকাশপথে বোমা ফেলে হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন : MSP procurement Telangana | তেলেঙ্গানার কৃষকদের জন্য বড় সুখবর, এমএসপি-তে ৮৯৪ কোটি টাকার ফসল কেনার অনুমোদন দিল কেন্দ্র, ঘোষণা শিবরাজ সিং চৌহানের

আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত (Hamdullah Fitrat) জানিয়েছেন, ‘হামলার জেরে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।’ নিহতদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই সংকটজনক বলে উল্লেখ। ভারতের তরফে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘এটি এক নৃশংস গণহত্যা, যাকে পাকিস্তান সামরিক অভিযান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।’ নয়াদিল্লির বক্তব্য, ‘যে হামলায় নিরীহ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীরা প্রাণ হারান, তাকে কোনওভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলা যায় না।’ একই সঙ্গে ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে আড়াল করতেই এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ‘এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বেপরোয়া নীতিরই প্রতিফলন’ এমনটাই মত ভারতের কূটনৈতিক মহলের।

এই হামলার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বর্তমানে পবিত্র রমজান (Ramadan) মাস চলছে, এমন একটি সময়ে হাসপাতালে হামলা চালানোকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রমজানের মতো পবিত্র সময়ে চিকিৎসাধীন মানুষের উপর হামলা চালানো মানবতার পরিপন্থী।’ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রকে যুদ্ধের সময়ও ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই জায়গায় হামলা চালানোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখা হতে পারে।

ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। যদিও পাকিস্তানের তরফে এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে তা বলাই বাহুল্য। আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও এই ঘটনায় আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধারকাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ভারত এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। ‘মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে একযোগে আওয়াজ তোলা জরুরি’ এমনটাই মত নতুন দিল্লির। উল্লেখ্য, কাবুলের এই হামলা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, এই ঘটনার তদন্ত কত দ্রুত এগোয় এবং আন্তর্জাতিক মহল কী পদক্ষেপ নেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :India Russia oil import | রুশ তেল আমদানিতে কারও অনুমতি নয়, জাতীয় স্বার্থই প্রথম, স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্র

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন