Kalyani JNM Hospital Clash: বহিরাগতের হামলা না চিকিৎসায় গাফিলতি? রণক্ষেত্র হাসপাতাল, কর্মবিরতিতে জুনিয়র ডাক্তাররা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কল্যাণী : নদীয়ার কল্যাণীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সোমবার গভীর রাতে জেএনএম হসপিটাল (JNM Hospital) চত্বরে ঘটে যাওয়া এক সংঘর্ষ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম এক রোগীর চিকিৎসা ঘিরে ‘গাফিলতি’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। জুনিয়র ডাক্তার ও রোগীর পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম এক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত ছিল এবং রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানা যায়। রোগীর পরিবারের দাবি, ‘রোগীকে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে অবস্থার অবনতি ঘটে।’ তাঁদের অভিযোগ, জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Assam Visit 2026 | অসমে উন্নয়নের মেগা ঝড়! ৪৭,৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর-পূর্বে রেল-সড়ক-গ্যাস অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই কর্তব্যরত জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর পরিবারের সদস্যদের বচসা শুরু হয়। ক্রমে সেই বচসা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে বহিরাগত কিছু লোকজনও যুক্ত হয়ে চিকিৎসকদের উপর হামলা চালান।’ অন্যদিকে রোগীর পরিবারের অভিযোগ, ‘চিকিৎসকরা উল্টে রোগীর স্ত্রী ও মহিলা আত্মীয়দের মারধর করেছেন এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে।’ এই দ্বিমুখী অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে উপস্থিত জুনিয়র ডাক্তার ও মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত জড়ো হন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে অন্তত দুইজন জুনিয়র চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণী থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে, যদিও উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এই ঘটনার প্রতিবাদে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। চিকিৎসক ময়ুখ জানান, ‘আমরা নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রোটোকল মেনেই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেছিলাম। রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আচমকা বহিরাগতদের একটি দল এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, সিসিটিভি ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফেরা সম্ভব নয়।’ জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, এই ধরনের হামলা নতুন নয় এবং বারবার নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ‘চিকিৎসা করতে এসে যদি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তা করতে হয়, তাহলে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়’ এমনটাই মত তাঁদের একাংশের।

অন্যদিকে, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘চিকিৎসার গাফিলতি ঢাকতেই উল্টে ডাক্তাররা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছেন।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের সুপার অতনু বিস্বাস জানিয়েছেন, ‘উভয় পক্ষের থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আপাতত আমাদের প্রধান লক্ষ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং রোগীদের পরিষেবা চালু রাখা।’ এই ঘটনায় স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কর্মবিরতির জেরে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্যান্য বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে খবর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিকিৎসক ও রোগীর পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর। ‘একদিকে রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই চিকিৎসকদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ’ এমনটাই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, কল্যাণীর এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। ‘চিকিৎসা কেন্দ্র কি নিরাপদ?’ এই প্রশ্ন এখন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে, তবে আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নজরে রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Mamata Banerjee statement, Kerala renamed Keralam | ‘কেরলম’ অনুমোদনের পর তীব্র সুর মমতার, ‘বিজেপি-সিপিএম যোগ এখন লিখিত’ : পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করেই ছাড়বেন দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন