CM Suvendu Adhikari on Gangasagar Train Service | Gangasagar Railway Line : গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ছুটবে ট্রেন? রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সরাসরি আবেদন শুভেন্দু অধিকারীর, ২০২৯-এর সেতু ঘিরে বাড়ল আশা

SHARE:

গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: গঙ্গাসাগর (Gangasagar) পর্যন্ত সরাসরি রেল পরিষেবা চালুর দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র গঙ্গাসাগরে পৌঁছতে বর্তমানে ট্রেন, সড়কপথ এবং জলপথের সাহায্য নিতে হয় যাত্রীদের। দীর্ঘ যাত্রাপথের কারণে বিশেষত বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Vaishnaw) কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে তিনি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষক দল পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা চালুর যে দাবি উঠে আসছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে নতুন ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : Instagram child abuse ads, Ashwini Vaishnaw IT Ministry | ইনস্টাগ্রামে শিশু নির্যাতন প্রচার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, মেটাকে তলব আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের

সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই অনুষ্ঠানেই গঙ্গাসাগরের রেল যোগাযোগ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলির সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে গঙ্গাসাগরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলে সরাসরি রেল পরিষেবা চালু হলে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন পৌঁছনোর দাবি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের বাসিন্দা, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের একাংশ সরাসরি রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। বর্তমানে গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য একাধিক পরিবহণের মাধ্যম ব্যবহার করতে হয়। কলকাতা থেকে ট্রেনে কাকদ্বীপ অথবা নামখানার দিকে যেতে হয়। এরপর সড়কপথে লট নম্বর আট ঘাটে পৌঁছে নদী পারাপারের জন্য লঞ্চ ধরতে হয়। মুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়ায় পৌঁছনোর পর আবার বাস, গাড়ি অথবা অন্য স্থানীয় যানবাহনে গন্তব্যের দিকে এগোতে হয়। যাত্রাপথের এই একাধিক ধাপের কারণে অনেক সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়।

শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন অনুযায়ী, গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা করা হলে প্রকল্পের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কোন পথে রেললাইন নিয়ে যাওয়া সম্ভব, কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কতটা কাজ করতে হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলেই যে প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। রেললাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমীক্ষা, আর্থিক বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় বাংলার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘অশ্বিনীজিকে অনুরোধ করব আপনি শ্রীনগর কাশ্মীর থেকে শুরু করে রামেশ্বরম পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। একটা দিতেই হবে আপনাকে বাংলার জন্য। গঙ্গাসাগরের জন্য রেললাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের বিশ্বাস, আস্থার প্রধান কেন্দ্র। সব তীর্থ একবার গঙ্গাসাগর বারবার।’

আরও পড়ুন : Ashwini Vaishnaw announcement | ৬ ঘণ্টায় দিল্লি-শিলিগুড়ি! বাংলায় বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে গঙ্গাসাগর রেল প্রকল্পের দাবিকে আরও একবার সামনে আনা হয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গাসাগরকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে রেল পরিষেবা সম্প্রসারণের পক্ষেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। রেল যোগাযোগ উন্নত হলে শুধু পুণ্যার্থীদের যাতায়াতই সহজ হবে না, স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পের সম্ভাব্য রুট, স্টেশনের অবস্থান, নির্মাণের সময়সীমা কিংবা ব্যয়ের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। গঙ্গাসাগর যাত্রার সমস্যা কমাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই সেতু তৈরি হলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাগরদ্বীপের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে নদী পারাপারের জন্য লঞ্চের উপর নির্ভর করতে হয় যাত্রীদের। ফলে জলযানের সময়সূচি, আবহাওয়া এবং যাত্রীসমাগমের মতো বিভিন্ন বিষয় যাত্রার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে সড়কপথে যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্মাণের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের উপর। সেতু নির্মাণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে উন্নতি ঘটতে পারে। তবে সেতু ও রেল প্রকল্প দুটি পৃথক পরিকাঠামোগত উদ্যোগ। একটি প্রকল্পের অগ্রগতি থেকে অন্যটির অনুমোদন বা নির্মাণের সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সাগরদ্বীপে আসেন। মকর সংক্রান্তির সময় গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে এই তীর্থক্ষেত্রে বিশেষ ভিড় হয়। ওই সময় যাত্রীদের যাতায়াত, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নদী পারাপারের ব্যবস্থা সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব হয়ে ওঠে। সরাসরি রেল পরিষেবা চালু হলে কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে যাত্রীদের যাত্রাপথের কিছু অংশ সহজ হতে পারে। পাশাপাশি দেশের অন্য রাজ্য থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের জন্যও সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অবশ্য রেললাইন কোথায় শেষ হবে এবং সেখান থেকে কপিল মুনি আশ্রম পর্যন্ত কী ধরনের পরিবহণের ব্যবস্থা থাকবে, তা প্রকল্পের পরিকল্পনার উপর নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, 64 MLAs | শুভেন্দুর ৬৪ বিধায়ক মন্তব্যে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা তৃণমূলের

বর্তমানে শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানাগামী ট্রেনে যাত্রা করে কাকদ্বীপ স্টেশনে নামা একটি প্রচলিত পথ। সেখান থেকে টোটো বা অন্য স্থানীয় যানবাহনে লট নম্বর আট ঘাটে পৌঁছতে হয়। এরপর লঞ্চে মুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়ায় গিয়ে আবার বাস কিংবা গাড়ি ধরে গঙ্গাসাগরের দিকে যেতে হয়। যাত্রাপথে একাধিকবার যানবাহন বদল করতে হওয়ায় লাগেজ নিয়ে যাতায়াত করা যাত্রীদের সমস্যা হতে পারে। ভিড়ের সময়ে অপেক্ষার সময়ও বেড়ে যেতে পারে। সরাসরি রেল পরিষেবা চালু হলে এই সমস্যার কতটা সমাধান হবে, তা নির্ভর করবে রেলপথের চূড়ান্ত অবস্থান এবং সাগরদ্বীপের সঙ্গে তার সংযোগের ধরনের উপর। এর আগে গঙ্গাসাগরে রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। আগামী বাজেটে এই প্রকল্প নিয়ে কোনও ঘোষণা হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে ঘোষণা হবে কি না, রেল মন্ত্রক প্রকল্পের সমীক্ষার নির্দেশ দেবে কি না, কিংবা কবে থেকে নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে, এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তাই গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ট্রেন চালুর বিষয়টিকে আপাতত দাবি ও সম্ভাবনার পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় গঙ্গাসাগর রেল প্রকল্প নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য, অন্যদিকে রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষার আবেদন, এই দুই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সাগরদ্বীপের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন নজর থাকবে রেল মন্ত্রক এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে তার দিকে। সমীক্ষার অনুমতি, প্রকল্পের রূপরেখা এবং অর্থ বরাদ্দের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিষেবা চালুর সময় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার দাবিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari Birsingha Tourism Centre | Vidyasagar Birthplace : বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহে বড় পরিকল্পনা, পর্যটন থেকে গবেষণা, ঘাটালের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন