Amit Shah Karnal March, BJP Loktantra Bachao Abhiyan | ৫ নভেম্বর থেকে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ অভিযান! কর্নালে পদযাত্রায় অমিত শাহ, দেশজুড়ে কর্মসূচীর পরিকল্পনা বিজেপির

SHARE:

হরিয়ানার কর্নালে ৫ নভেম্বর বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দেশজুড়ে জনসংযোগ কর্মসূচী জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলীয় প্রচারাভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচীর গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ৫ নভেম্বর হরিয়ানার কর্নালে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah)। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু একটি পদযাত্রাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগ, আলোচনা সভা, সংবাদ সম্মেলন ও যুব সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির জবাব দেওয়াও এই প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিজেপি।

আরও পড়ুন : S Jaishankar, International Peace Talks | দুই সংঘাত থামাতে উদ্যোগী ভারত, কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, হরিয়ানার কর্নালে ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা। সেক্টর ১২ থেকে যাত্রা শুরু করে মহাত্মা গান্ধী চকে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। হরিয়ানা বিজেপির সভাপতি অর্চনা গুপ্তা (Archana Gupta) কর্নালে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে কর্মসূচীর কথা জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পদযাত্রায় অমিত শাহের পাশাপাশি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি (Nayab Singh Saini) ও দলের অন্যান্য প্রথম সারির নেতারাও উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানে কারা চূড়ান্তভাবে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সূচির উপরেই নির্ভর করতে হবে। বিজেপির এই প্রচারাভিযানের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের কারণে। নির্বাচনী তালিকায় যোগ্য ভোটারের নাম থাকা, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নামের মতো তথ্য হালনাগাদ করা এবং ভোটদানের অধিকার সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ করা, এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বজায় রাখা ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ অভিযানকে জনসংযোগের বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে দল। প্রচারাভিযানটি দুই পর্যায়ে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানানো হয়েছে। প্রথম পর্যায় চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Naveen)-এর নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। প্রতিটি জেলা সদরে পদযাত্রায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন গণ্যমান্য নাগরিকের সঙ্গে আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। এই পরিসংখ্যানগুলি দলীয় কর্মসূচীর লক্ষ্যমাত্রা; বাস্তবে কত জন অংশ নেবেন, তা কর্মসূচী শেষ হওয়ার পরেই জানা যাবে।

আরও পড়ুন : India Women cricket score Pratika Rawal 100 not out | প্রতীকার দুরন্ত শতরান, শ্রী চরণীর চার উইকেট! জিম্বাবোয়েকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে এক দিনের সিরিজে দুর্দান্ত শুরু ভারতের

কর্নালের পদযাত্রাকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসূচীর রুট নির্ধারণ, দলীয় কর্মীদের অংশগ্রহণ, জনসমাগমের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হরিয়ানার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসার পরিকল্পনাও এই ধরনের বড় সমাবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিজেপির লক্ষ্য, কর্নালের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা। এই প্রচারের ক্ষেত্রে পদযাত্রার পাশাপাশি জনসভা ও সংবাদ সম্মেলনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরাসরি জনসংযোগের উপর জোর দিচ্ছে দল। বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচনী অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করতে চাইছে বিজেপি। যুব সম্মেলনের আয়োজনও এই কর্মসূচীর অংশ। এর ফলে তরুণ ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিজেপি সূত্রে দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির আপত্তির জবাব দেওয়া প্রয়োজন। দলের বক্তব্য, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তালিকা হালনাগাদের কাজ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হওয়া উচিৎ। অন্যদিকে, এই সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ও উদ্বেগও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে বিজেপির এই প্রচারাভিযানকে কেবল সাংগঠনিক কর্মসূচী হিসেবে দেখার পাশাপাশি চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতেও বিচার করা হচ্ছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপির বক্তব্য ও বিরোধীদের আপত্তি, দু’টি পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান। কোনও সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নিয়ম, তথ্য এবং বাস্তব প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া কিংবা তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ও সরকারি তথ্যের গুরুত্বও রয়েছে।

‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিজেপি যে দেশজুড়ে কর্মসূচীর পরিকল্পনা করেছে, তার দ্বিতীয় পর্যায় ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। প্রথম পর্যায়ের পর এই কর্মসূচি কতটা বিস্তৃত হয়, কোন কোন রাজ্যে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আর কারা অংশ নেন, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আপাতত কর্নালের ৫ নভেম্বরের পদযাত্রা এই প্রচারাভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উঠে এসেছে। অমিত শাহের উপস্থিতি হরিয়ানার দলীয় সংগঠনের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি কর্মীদের সক্রিয় করা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কর্নালের এই পদযাত্রায় অমিত শাহের যোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর একই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট খবর নেই বলেই উল্লেখ।

রাজনৈতিকভাবে এই অভিযান বিজেপির জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জনসমাগম ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া এই প্রচারের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করবে। কর্নালের পদযাত্রা দিয়ে শুরু হওয়া এই পর্যায়ের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক সাড়া ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yamuna water agreement, Haryana Rajasthan dispute, Amit Shah MoU | যমুনার জল নিয়ে ৩২ বছরের বিবাদে ইতি, হরিয়ানা-রাজস্থানের ঐতিহাসিক চুক্তি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন