Suvendu Adhikari, 64 MLAs | শুভেন্দুর ৬৪ বিধায়ক মন্তব্যে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা তৃণমূলের

SHARE:

বিধানসভায় ৬৪ বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল শিবির।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর পক্ষে ভোট দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এমনই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপান-উতোরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি কার দিকে ইঙ্গিত করে ৬৪ জন বিধায়কের কথা বললেন? বিরোধী শিবিরে কি কোনও ভাঙনের সম্ভাবনা দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী? নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেই তাঁর এই মন্তব্য? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরের দিকে ইঙ্গিত করে দলীয় নেত্রী আলিফা আহমেদ (Alifa Ahmed) ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছেন। অন্য দিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা আখরুজ্জামান (Akhrulzzaman) জানিয়েছেন, বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলেই রাজনৈতিক অবস্থান বোঝা যাবে।

আরও পড়ুন : SpaceX Starlink India | PM Narendra Modi Elon Musk : স্টারলিংক নিয়ে মোদী সরকারের নতুন পরিকল্পনা, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নজরদারির উদ্যোগ

বুধবার, বিজয়া দশমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত দিলীপ ঘোষ ও দিপালী ঘোষের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকে বেরোনোর পরেই সমাজমাধ্যমে চোরবাগানকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও বিরূপ প্রচারের প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার সম্ভাব্য শক্তিপরীক্ষার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের একাংশের বিধায়কের সমর্থনও তিনি পেতে পারেন। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সমাজমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া অপপ্রচার করতেই পারে। সজল ঘোষ কী জিতেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে? না কি সন্ধ্যায় ৭টার টকশো’র দৌলতে? আমি কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছি টকশো’র দৌলতে? যারা ওই টকশো’তে বসেন, তাঁরা জ্ঞানী, পণ্ডিত, অধ্যাপক। তিনি তো বলেছিলেন, বিজেপি দেড়শো আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট করান, আমি ২৭৫টি ভোট পাব। ওঁদের মধ্যে ৬৪ জন তো আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছেন।’ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি। কারণ, তিনি যে বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের কথা বলেছেন, তা রাজনৈতিক সমীকরণের নিরিখে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মন্তব্যে সরাসরি কোনও বিধায়কের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা কোন বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেছেন, তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল। ওই দলের নেতা তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বিজেপির বিরোধিতার পক্ষেই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিধায়ক। তাঁর দল ২০৯ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়েছে। আর আমরা প্রধান বিরোধী দল। ৬৪-৬৫ জন বিধায়ক নিয়ে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে ছিলাম। এখনও বিজেপির বিরুদ্ধেই রয়েছি। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলেই তা বোঝা যাবে। তাই তিনি কেন বা কোন ৬৪ জন বিধায়কের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা মুখ্যমন্ত্রীই বলতে পারবেন।’ আখরুজ্জামানের এই বক্তব্যে বিরোধী শিবিরের অবস্থান নিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক দাবি উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভায় বিরোধী দল হিসেবে তাঁদের ভূমিকা সরকারবিরোধী রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের ভিত্তিতে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয় বলেই তিনি মনে করছেন। তাঁর বক্তব্যে শক্তিপরীক্ষার প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, বিধানসভায় ভোটাভুটি হলে কোন বিধায়ক কোন পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, তা সংখ্যার নিরিখে বোঝা সম্ভব। কিন্তু তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে আক্রমণ শানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দলের রাজ্য মহিলা সংগঠনের নেত্রী তথা কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ এই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যে ৬৪ জন বিধায়কের কথা বলেছেন, তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিদ্রোহী বিধায়ক হতে পারেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের তরফে দলত্যাগী বিধায়কদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আলিফা আহমেদ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও তিনি যে বিধায়কসংখ্যার কথা বলেছেন, তা দেখে আমাদের মনে হচ্ছে, তিনি তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বেরিয়ে যাওয়া বিধায়কদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আর মমতাদির ছবি ও প্রতীক নিয়ে জিতে যে ভাবে ওই বিধায়কেরা পুলিশের ভয় কিংবা জেলযাত্রা থেকে বাঁচতে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা রাজ্যের মানুষ বুঝেছেন।’

আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Special | 27th July 2025, Issue 75 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ২৭ জুলাই ২০২৫, রবিবার | সংখ্যা ৭৫

তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে দলত্যাগের অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, যে সব বিধায়ক তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল শিবির। যদিও মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্দিষ্ট করে কোনও গোষ্ঠী বা বিধায়কের নাম উল্লেখ করেননি, ফলে তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রয়েছে। আলিফা আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো বাংলাতেও বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করতে চাইছে। তাঁর কথায়, ‘আসলে বিজেপি এ রাজ্যে কোনও বিরোধী দল রাখতে চায় না। সারা ভারতেই বিজেপির এই রাজনীতি চলছে। বাংলাতেও তা শুরু হয়েছে। তাই মনে রাখবেন, যাঁরা অকৃতজ্ঞের মতো দিদির আস্থার মর্যাদা দেননি, তাঁদের এ ভাবেই অসম্মানিত হতে হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের তরফে দলত্যাগী বিধায়কদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও জোরালো করা হয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ঘটনাটির প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। দুর্গাপুজোর সময় জনসমাগমের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা এবং সমাজমাধ্যমে সমালোচনা মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে চোরবাগানকাণ্ডের তদন্ত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা ঘটনার দায় নির্ধারণের বিষয়টি পৃথক গুরুত্ব বহন করছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে ওই ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা জরুরি। রাজ্যের বিধানসভায় প্রকৃতপক্ষে কোনও শক্তিপরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও ঘোষণা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর ২৭৫ ভোট পাওয়ার দাবি ও বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থনের কথা রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রে থাকলেও, এই বক্তব্যকে বাস্তব সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আখরুজ্জামান যেমন বিধানসভায় ভোটাভুটির কথা বলেছেন, তেমনই তৃণমূল শিবিরের নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে নির্দিষ্ট কোনও বিধায়কগোষ্ঠী মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

বিজয়া দশমীর দিন চোরবাগান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ৬৪ বিধায়ক সংক্রান্ত মন্তব্য তাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক দিকে বিরোধী শিবিরের সমর্থন পাওয়ার দাবি, অন্য দিকে তৃণমূলের তরফে দলত্যাগী বিধায়কদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা, এই দুয়ের সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের লক্ষ্য কারা, বিরোধী শিবিরে সত্যিই কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তার উত্তর মিলবে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপে। আপাতত ৬৪ বিধায়কের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যেই জমে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতির নতুন পর্ব।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IMF Raises India GDP Growth Forecast to 7% Amid Global Energy Concerns | ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে, পূর্বাভাস আইএমএফের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন