প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ বিনোদন ডেস্ক ★ মুম্বাই : প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরকোন্ডা (Vijay Deverakonda) ও রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna) -এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল দীর্ঘ দিনের। পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন দর্শকের মন জয় করেছে, তেমনই বাস্তব জীবনে তাঁদের সম্পর্কের নানা অধ্যায় নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। এবার রশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার নেপথ্যের গল্প শোনালেন বিজয়। ইতালিতে বেড়াতে গিয়ে তিনি প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু মনের মতো আংটি না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের উদয়পুরে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রথম দিনেই রশ্মিকাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন অভিনেতা। কর্ণ জোহরের (Karan Johar) জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ কর্ণ’ (Koffee with Karan) -এর নবম সিজ়নের আগামী পর্বে এই বিশেষ মুহূর্তের কথা জানাবেন বিজয়।

আরও পড়ুন : Durga Puja 2026, Shubho Bijoya | শুভ বিজয়া ২০২৬: বঙ্গে বিষাদের সুর, আবার অপেক্ষা আগামী বছরের
রোম্যান্টিক মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষেত্রে নিজের স্বভাবের কথা উল্লেখ করে বিজয় জানিয়েছেন, সাধারণত তিনি এ ধরনের আয়োজন নিয়ে খুব একটা ভাবনাচিন্তা করেন না। কিন্তু, নিজের স্বভাবের কারণে রশ্মিকার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত যেন স্মৃতিহীন হয়ে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন অভিনেতা। তাঁর কাছে বিষয়টি ছিল শুধু বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াই না, সেটি ছিল ভবিষ্যতে ফিরে দেখার মতো একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি করা। সেই ভাবনা থেকেই ইতালি সফরের সময় রশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রশ্মিকার বিজু। বিজয়ের কথায়, ‘আমি চাইনি, রশ্মিকার জীবনে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়াকে ঘিরে কোনও গল্পই না থাকুক।’ গত ডিসেম্বরে ইতালি ভ্রমণের স্মৃতি মনে করে অভিনেতা জানান, সেখানে রশ্মিকাকে প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পছন্দসই আংটি খুঁজে পাননি। ফলে তাঁর পরিকল্পনা আর এগোয়নি। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় রশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা যে থেমে গিয়েছিল, তা নয়। তিনি উপযুক্ত সময় ও পরিস্থিতির অপেক্ষায় ছিলেন। অভিনেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে, কাছের মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে কী ভাবে স্মরণীয় করে রাখা যায়, সেই ভাবনাই তাঁর কাছে প্রধান ছিল। নিজের স্বভাবের সঙ্গে রোম্যান্টিক আয়োজনের খুব একটা মিল না থাকলেও রশ্মিকার ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রমী হতে চেয়েছিলেন। কারণ, বিয়ের প্রস্তাবের স্মৃতি তাঁদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে বলেই মনে করেছিলেন বিজয়। তাই কোনও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে মুহূর্তটির আবেগ ও ব্যক্তিগত গুরুত্বকেই তিনি বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

ইতালিতে পরিকল্পনা সফল না হলেও শেষ পর্যন্ত উদয়পুরেই সেই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হন রশ্মিকা। কর্ণ জোহরের অনুষ্ঠানে বিজয় জানান, তাঁদের বিয়ের প্রথম দিন ছিল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই রশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। অর্থাৎ, বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই নিজের মনের কথা জানানোর জন্য একটি সময় বেছে নিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই মুহূর্তে বন্ধুদেরও পাশে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই প্রস্তাব দেওয়ার আগে বন্ধুদের এক জায়গায় জড়ো হতে বলেন। সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিজয় বলেন, ‘উদয়পুরে আমাদের বিয়ের প্রথম দিনেই আমি ওকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সে দিন ছিল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান।’ এর পরেই হাঁটু মুড়ে বসে রশ্মিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘আমি হাঁটু মুড়ে বসে ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। আমি চাইনি, জীবনের সেই বিশেষ মুহূর্তটা ওর কাছ থেকে কেড়ে নিতে।’ বিজয়ের এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে রশ্মিকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। বিয়ের আগে ২২ ফেব্রুয়ারি দু’জনেই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে সেই খবর ভাগ করে নেন।

তাঁদের বিয়েকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। দীর্ঘ দিন ধরে সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চললেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি এই জুটি। তাই বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে চর্চা আরও বেড়ে যায়। বিজয় ও রশ্মিকার সম্পর্কের সূত্রপাত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে ‘গীত গোবিন্দম্’ (Geetha Govindam) ছবিতে একসঙ্গে অভিনয়ের পর থেকেই। ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরের বছর ২০১৯ সালে ‘ডিয়ার কমরেড’ (Dear Comrade) ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। পর পর দুটি ছবিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে। পর্দায় তাঁদের সাবলীল রসায়ন ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জল্পনা তৈরি হলেও এত দিন সেই বিষয়ে দু’জনের তরফে খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। এর পর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ বজায় থাকে। যদিও একসঙ্গে উপস্থিতি বা পর্দার রসায়ন থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল না, তবু বিজয় ও রশ্মিকাকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের সম্পর্কের দীর্ঘ দিনের জল্পনার অবসান ঘটে।

এবার বিয়ের প্রস্তাবের অজানা কাহিনি সামনে আসায় বিজয়-রশ্মিকার প্রেমের গল্পে যুক্ত হল আরও একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি। ইতালিতে পছন্দের আংটি না পাওয়া, উদয়পুরে সঙ্গীতের অনুষ্ঠানের পর বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাঁটু গেড়ে বসা, এই ঘটনাগুলিই তাঁদের বিয়ের আগের মুহূর্তকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। নিজের স্বভাবের বাইরে গিয়ে রশ্মিকার জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন বিজয়। আর সেই ভাবনার বাস্তব রূপ পেয়েছিল তাঁদের বিয়ের প্রথম দিনেই। কর্ণ জোহরের অনুষ্ঠানে অভিনেতার এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এলে অনুরাগীরা যে তাঁদের সম্পর্কের আরও কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্ত জানতে পারবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rashmika Mandanna on MS Subbulakshmi biopic | সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রে রশ্মিকা, প্রথম দিনেই আবেগে আপ্লুত! বললেন, ‘যেন ঈশ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি’



