প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মুম্বাইয়ের ব্যস্ততা, ছবির প্রচার, শুটিং ও প্রতিদিনের তারকাখচিত জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে চাইছেন ইয়ামি গৌতম (Yami Gautam) ও আদিত্য ধর (Aditya Dhar)। বলিউডের পরিচিত এই তারকা দম্পতির নতুন ঠিকানা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মায়ানগরীর ব্যস্ত জীবন পিছনে ফেলে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) পাহাড়ঘেরা পরিবেশেই আরও বেশি সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

কাজের প্রয়োজনে মুম্বইয়ে যাতায়াত চলবে, তবে ব্যক্তিগত জীবনের কেন্দ্র হিসেবে পাহাড়কেই বেছে নিতে চাইছেন দু’জনে। ইয়ামির সঙ্গে হিমাচলের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। অভিনেত্রীর শৈশব এবং পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে এই পাহাড়ি রাজ্যের যোগ দীর্ঘদিনের। বিয়ের আগেই হিমাচলের মান্ডিতে (Mandi) তিনি প্রায় ২৫ একর জমির উপর একটি পুরনো বাড়ি কিনেছিলেন। প্রায় একশো বছরের পুরনো সেই বাড়িটি ইয়ামির কাছে শুধু একটি সম্পত্তি নয়, তাঁর পরিবারের স্মৃতি এবং শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

২০২১ সালের জুনে আদিত্য ধরের সঙ্গে ইয়ামির বিয়ে হয়। বলিউডের প্রচলিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদলে পাহাড়ের সেই পুরনো বাড়িতেই বিয়ের অনুষ্ঠান করেছিলেন তাঁরা। কাঠ এবং পাথরের তৈরি বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে সবুজ বাগান ও চাষের জমি। সেখানে আপেল, আলু ও আদার চাষ হয়। শহরের বহুতল, যানজট ও ক্যামেরার ঝলকের বদলে প্রকৃতির মধ্যে এমন জীবনযাপনই তাঁদের কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে।

তারকা হয়েও নিজের পাহাড়ি বাড়িটিকে বিলাসবহুল প্রাসাদে পরিণত করার চেষ্টা করেননি ইয়ামি ও আদিত্য। বাড়িটির পুরনো চরিত্র ও সরল পরিবেশ বজায় রাখার দিকেই তাঁদের আগ্রহ বেশি। চারপাশের বাগান, চাষের জমি, কাঠ-পাথরের নির্মাণ এবং পাহাড়ি আবহ ইত্যাদি মিলিয়ে জায়গাটি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে বেশ মানানসই বলেই মনে করা হচ্ছে।

মুম্বাইয়ের জীবনের সঙ্গে এই জীবনযাপনের পার্থক্য অনেকটাই। মায়ানগরীতে দিনের বড় অংশ কাটে কাজের ব্যস্ততায়। শুটিং, মিটিং, প্রচার, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ও সংবাদমাধ্যমের নজর, তারকাদের জীবনের সঙ্গে এগুলি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে হিমাচলের বাড়িতে সেই ব্যস্ততার অনেকটাই বাইরে রাখা সম্ভব। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও নিজেদের মতো করে দিনযাপন করার সুযোগই হয়ত এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। ইয়ামি ও আদিত্য দু’জনেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলেন না। সামাজিক মাধ্যমে কিংবা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি থাকলেও সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে সাধারণত বিস্তারিত আলোচনা করেন না তাঁরা। ফলে হিমাচলে তাঁদের বেশি সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ইয়ামির ক্ষেত্রে পাহাড়ের প্রতি টান বরাবরই পরিচিত। তাঁর শিকড়ের সঙ্গে হিমাচলের সম্পর্ক থাকায় সেখানে একটি নিজস্ব বাড়ি তৈরি করা তাঁর কাছে আবেগেরও বিষয়। বিয়ের জন্য সেই বাড়ি বেছে নেওয়াই তার প্রমাণ। সেই বাড়ির সঙ্গে তাঁর পরিবারের পুরনো স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় বিয়ের পর জায়গাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আদিত্য ধরের সঙ্গেও সেই পাহাড়ি বাড়ির সম্পর্ক এখন গভীর। বিয়ের পর দু’জনের যৌথ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলির একটি তৈরি হয়েছে সেখানেই। তাই ভবিষ্যতে সেই জায়গাকে নিজেদের প্রধান আবাস হিসেবে বেছে নেওয়া খুব অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নয়। বিশেষ করে দু’জনেরই কাজের ধরন এমন যে প্রয়োজন হলে মুম্বই বা দেশের অন্য শহরে যাতায়াত করতেই হয়।

আদিত্য ধর মূলত পরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবে বলিউডে পরিচিত। ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ (Uri: The Surgical Strike) -এর সাফল্যের পরে তাঁর পরিচিতি আরও বেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) নিয়েও তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। ছবির কাজের প্রয়োজনেই তাঁকে বিভিন্ন সময় মুম্বইয়ে থাকতে হয়েছে। তবে কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব প্রচারের বাইরে রাখার প্রবণতা তাঁর মধ্যে বরাবরই দেখা যায়। ইয়ামিও অভিনয়জগতের পরিচিত মুখ। ‘ভিকি ডোনর’ (Vicky Donor) থেকে শুরু করে ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’ (Bala), ‘দশভি’ (Dasvi), ‘ওহ মাই গড ২’ (OMG 2) -এর মতো একাধিক ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনয়জীবন তাঁকে মুম্বইকেন্দ্রিক রাখলেও ব্যক্তিগত জীবনে পাহাড়ের সঙ্গে যোগাযোগ কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি।

মুম্বাইয়ে থাকার সময় খার (Khar) এলাকায় একটি বড় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন ইয়ামি এবং আদিত্য। দীর্ঘদিন সেই বাড়িই ছিল তাঁদের শহুরে ঠিকানা। ‘ধুরন্ধর’ -এর সাফল্যের পরে সেই বাড়ি তাঁরা কিনে নিয়েছেন, এমন জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। তবে এখন হিমাচলকে কেন্দ্র করে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের পরিকল্পনার খবর সেই আলোচনাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, এর অর্থ এই নয় যে ইয়ামি বা আদিত্য বলিউড থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কাজের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আগের মতোই থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মুম্বইয়ে আসা-যাওয়া করবেন তাঁরা। অর্থাৎ কর্মজীবনের কেন্দ্র হিসেবে মুম্বই গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য পাহাড়ি পরিবেশকে বেছে নেওয়ার প্রবণতাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তারকাদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নতুন নয়। দীর্ঘদিন শহুরে ব্যস্ততায় থাকার পরে অনেকেই ব্যক্তিগত সময় এবং পরিবারের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি পরিবেশ বেছে নেন। ইয়ামি ও আদিত্যর ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা কাজ করছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তাঁদের হিমাচলের বাড়ির সঙ্গে ইয়ামির পুরনো সম্পর্ক থাকায় এই সিদ্ধান্তের পিছনে শুধুমাত্র শহরের কোলাহল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না।

এই বাড়ির সঙ্গে রয়েছে ইয়ামির শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ও তাঁর বিয়ের স্মরণীয় মুহূর্ত। ফলে মুম্বই ছেড়ে হিমাচলে থাকা মানে তাঁর কাছে নিজের শিকড়ের কাছাকাছি ফিরে যাওয়াও হতে পারে। পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো বাড়ি, চারপাশের চাষের জমি এবং বাগান তাঁদের জীবনযাপনে অন্য রকম ছন্দ আনতে পারে।

আর একটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়ামি ও আদিত্য দু’জনেই প্রচারের আলো নিয়ে যথেষ্ট সংযত। কাজের বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন খুব বেশি সামনে আসে না। তাই নিজেদের জীবনের পরবর্তী অধ্যায় কোথায় কাটাবেন, সেই সিদ্ধান্তও তাঁরা অনেকটা নীরবেই নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। হিমাচলের বাড়িতে আপেল, আলু এবং আদার চাষ হয়। এই কৃষিকাজের পরিবেশও মুম্বইয়ের তারকাজীবনের থেকে একেবারে আলাদা। শহরের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের পরিবর্তে এমন একটি বাড়িতে দিনের শুরু ও শেষ হলে জীবনযাত্রার ধরনও বদলে যায়। ইয়ামি ও আদিত্য সেই সরল পরিবেশকেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য বেছে নিচ্ছেন বলে খবর। বিয়ের পর প্রায় কয়েক বছর কেটে গেলেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করেননি দু’জনে। বরং কাজের জায়গাতেই তাঁদের দেখা গিয়েছে বেশি। ইয়ামি অভিনয়ের কাজে ব্যস্ত থেকেছেন, আদিত্যও পরিচালনা ও প্রযোজনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। তাঁদের যৌথ জীবনের বড় অংশই থেকেছে সংবাদমাধ্যমের নজরের বাইরে।

আরও পড়ুন : Aamir Khan Lalkara | ৬১-তে ২৫ বছরের যুবক আমির খান! ‘লালকারা’-র জন্য ফের বড় শারীরিক বদল
এখন যদি হিমাচলই তাঁদের প্রধান ঠিকানা হয়ে ওঠে, তা হলে সেটি তাঁদের জীবনযাপনের একটি বড় পরিবর্তন হবে। মুম্বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হবে না, কারণ সিনেমার কাজের প্রয়োজনে শহরে আসতেই হবে। কিন্তু কাজের বাইরে সময় কাটানোর জন্য পাহাড়ি বাড়ি হয়ে উঠতে পারে তাঁদের নিরাপদ ও ব্যক্তিগত আশ্রয়।

ইয়ামির কাছে এই সিদ্ধান্তের মধ্যে আবেগও রয়েছে। যে বাড়িতে তাঁর পরিবারের স্মৃতি, যে জায়গায় তাঁর বিয়ে হয়েছে, সেই জায়গাতেই যদি ভবিষ্যতের সংসারের বড় অংশ কাটে, তা হলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে থাকবে। আর আদিত্যের ক্ষেত্রেও এই বাড়ি এখন তাঁদের যৌথ জীবনের স্মৃতির অংশ।

সবচেয়ে বড় কথা, মুম্বাইয়ের চাকচিক্য ছেড়ে পাহাড়ে থাকা মানেই কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে আলাদা সীমারেখা তৈরি করাই হয়তো তাঁদের উদ্দেশ্য। ক্যামেরার সামনে ইয়ামি ও আদিত্যকে যতটা দেখা যায়, ক্যামেরার বাইরে নিজেদের জন্য ততটাই আলাদা একটি জগৎ তৈরি করতে চাইছেন তাঁরা। তাই হিমাচলকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেওয়ার খবর শুধু তারকা দম্পতির বাড়ি বদলের গল্প নয়।

এর মধ্যে রয়েছে শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার টান, ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা দূরে থাকার ইচ্ছা এবং নিজেদের মতো করে সংসার সাজানোর পরিকল্পনা। কাজের প্রয়োজনে মুম্বইয়ে তাঁদের যাতায়াত চলবে ঠিকই, কিন্তু পাহাড়ের কোলে ইয়ামি-আদিত্যর পুরনো বাড়িটিই যদি তাঁদের জীবনের প্রধান ঠিকানা হয়ে ওঠে, তা হলে বলিউডের অন্যতম পরিচিত এই দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনে সেটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yami Gautam motherhood experience | মা হওয়ার পর কাজে ফেরার কঠিন সিদ্ধান্ত, অনুতাপ আর অপরাধবোধের লড়াই : নিজের অভিজ্ঞতায় মাতৃত্বের বাস্তব ছবি তুলে ধরলেন ইয়ামি গৌতম




