সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: নতুন মরশুমের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার আগেই বড় ঘোষণা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। ২০২৭ সালের মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ২০২৭ শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শুধু দিনক্ষণ না, তার আগেই দল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সময়সূচীও জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পুরনো দল থেকে ক্রিকেটার ধরে রাখার তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। এরপর ২৮ অক্টোবর কোচিতে বসবে WPL ২০২৭-এর নিলামের আসর। অর্থাৎ আগামী মরশুমের দল গঠনের লড়াই শুরু হতে চলেছে সেপ্টেম্বর থেকেই। তাহলে মেয়েদের WPL নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়েই গেল!তেমনি বিসিসিআইয়ের ঘোষণায় পরিষ্কার হয়েছে, WPL-এর পঞ্চম মরশুমের জন্য এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিন আগে থেকেই নির্ধারিত।

১৪ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে WPL শুরু আর ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল। তার আগে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের স্কোয়াড থেকে কোন কোন ক্রিকেটারকে রেখে দেবে, সেই তালিকা জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তারপর ২৮ অক্টোবর কোচিতে ক্রিকেটারদের কেনাবেচার নিলাম। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির হাতে এখন প্রায় খুব বেশি সময় নেই। দলগুলিকে দ্রুত হিসাব কষে নিতে হবে কোন ক্রিকেটারকে রেখে নতুন মরশুমের পরিকল্পনা করা হবে এবং কোন জায়গায় নতুন মুখ নেওয়া প্রয়োজন। WPL ২০২৭-এর নিলামের ভেন্যু হিসেবে কোচিকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও আলাদা করে নজর কেড়েছে। গত কয়েক মরশুমে ভারতের মহিলা ক্রিকেটের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ক্রমশ বড় হয়েছে। সেই ধারায় এবারও নিলাম পর্বকে ঘিরে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নিলামের দিন কোনও দলের হাতে কত টাকা থাকবে, কোন পজিশনে ঘাটতি রয়েছে আর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে কাদের দিকে লক্ষ্য থাকবে, এসব হিসাব এখন থেকেই শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। রিটেনশন পর্বটি তাই নিলামের আগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলির একটি। পাঁচটি দল নিজেদের বর্তমান স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের ধরে রাখার সুযোগ পাবে। ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকা জমা পড়ার পরই অনেকটাই বোঝা যাবে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি পুরনো দলকে ধরে রাখতে চাইছে ও কোথায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে। নিলামের আগে ক্রিকেটার ধরে রাখার সিদ্ধান্তই দলের পরবর্তী কৌশলের ভিত তৈরি করবে।
২০২৭ সালের WPL শুরু হওয়ার আগেই তাই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের পরিচিত মুখদের নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur), স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana), জেমিমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues), দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma) -সহ জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারের WPL পারফরম্যান্সের দিকে বরাবরই সকলের লক্ষ্য থাকে। বিসিসিআইয়ের ২০২৫-২৬ মরশুমের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও হরমনপ্রীত ও স্মৃতির নাম গ্রেড ‘এ’ -তে রয়েছে। ফলে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের জন্য WPL-এর সময়সূচী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে আবার ২০২৭ সালের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে WPL -এর পরেই আরও বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অপেক্ষা করছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতে শুরু হবে প্রথম ICC মহিলাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (ICC Women’s Champions Trophy)। অর্থাৎ WPL শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামতে হবে ভারতের মহিলা ক্রিকেটারদের। WPL-এর ফাইনাল ৭ ফেব্রুয়ারি, আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচনা ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফলে দুই প্রতিযোগিতার মধ্যে ব্যবধান থাকছে মাত্র সাত দিনের। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই প্রথম মহিলাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রতিযোগিতাটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে হবে। চাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে ছয়টি দল। যথাক্রমে : ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। লিগ পর্বে ছয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল ম্যাচ।

সূত্রের খবর যে, প্রথমে এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল। পরে আয়োজক দেশ বদলে ভারতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ICC জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে প্রতিযোগিতার আয়োজক পরিবর্তন করা হয়েছে। আয়োজক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভারতকে নতুন আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় আর ICC বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদনও করে। ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ হবে মুম্বাই ও বডোদরায়। মুম্বাইয়ের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া (CCI) এবং বডোদরা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে নির্ধারিত ভেন্যু করা হয়েছে। ফলে WPL শেষ হওয়ার পর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সামনে দেশের মাটিতেই আরও একটি বড় প্রতিযোগিতা থাকবে। এই সূচী ভারতের ক্রিকেটারদের জন্য সময়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। WPL-এর প্রায় এক মাসের ব্যস্ততার পর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে। জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। একই সঙ্গে WPL-এর সময় নিজেদের ফিটনেস ও কর্মভার সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে WPL-এর পঞ্চম মরশুম ঘিরে আরও একটি বিষয় নজরে থাকবে। গত মরশুমের দলগুলি কতটা পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের WPL-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছিল। ফলে আগামী নিলামের আগে তাদের পাশাপাশি বাকি চার ফ্র্যাঞ্চাইজিও নিজেদের স্কোয়াড নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করবে। কারা থাকছেন, কারা ছাড়ছেন ও নিলামে কোন ক্রিকেটারদের নিয়ে লড়াই হবে, তার প্রথম বড় ইঙ্গিত মিলবে ২৮ সেপ্টেম্বরের রিটেনশন তালিকায়। উল্লেখ্য, নিলামের দিন ২৮ অক্টোবর কোচিতে বসার পর দল গঠনের ছবি আরও পরিষ্কার হবে। দেশীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়েও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির আগ্রহ থাকবে। তবে নিলামে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা, প্রতিটি দলের বাজেট ও স্কোয়াডে কোন জায়গা পূরণ করা প্রয়োজন এসব নির্ভর করবে রিটেনশনের পর দলের নতুন চেহারার ওপর। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর এই এক মাস WPL ২০২৭ -এর প্রস্তুতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দিকে, ভারতের মাটিতে প্রথম মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। মুম্বাই ও বডোদরায় ছয় দলের এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে। ভারতের সামনে থাকবে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ, আর দর্শকদের সামনে একই মাসে WPL-এর পর আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রিকেটের আরও একটি বড় আসর হাজির হবে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে পরপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন সামনে আসছে। প্রথমে ২৮ সেপ্টেম্বর WPL -এর রিটেনশন তালিকা, তারপর ২৮ অক্টোবর কোচিতে নিলাম, ১৪ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত WPL এবং তার মাত্র এক সপ্তাহ পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু প্রথম মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২৮ ফেব্রুয়ারির ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানাদের সামনে ২০২৭ সালের শুরুতেই টানা ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচী। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দল গড়ার লড়াই শুরু হবে সেপ্টেম্বরে, নিলামের উত্তেজনা থাকবে অক্টোবরে, আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মাঠে নামবে WPL। তার পরেই ভারতের মাটিতে প্রথম মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে তাই বছরের শুরুটাই হতে চলেছে ঘটনাবহুল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Asia Cup Trophy, Harmanpreet Kaur Mohsin Naqvi | এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি হাতে উঠল না ভারতের! নকভির হাত থেকে পুরস্কার নিলেন না হরমনপ্রীতেরা, ফের সেই একই ছবি




