সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ বার্সেলোনা: নতুন মরসুমের শুরুতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ছন্দে দেখা যাচ্ছিল না লামিনে ইয়ামালকে (Lamine Yamal)। কিন্তু সোমবার রাতে লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর (Rayo Vallecano) বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সে ফের নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরলেন বার্সেলোনার (FC Barcelona) তরুণ তারকা। জোড়া গোল করে দলকে ৫-২ ব্যবধানে জেতানোর পাশাপাশি একাধিক রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে ক্লাব ফুটবলে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সেই তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। রায়ো ভায়েকানোর বিরুদ্ধে ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামালের প্রথম গোল আসে ২১ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ যখন শেষের দিকে এগোচ্ছে, তখন ৯০ মিনিটে তিনি আবার জাল খুঁজে নেন। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই বার্সেলোনার হয়ে মোট গোলের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৫১-তে। দলের হয়ে রাফিনহা (Raphinha) করেন দু’টি গোল। একটি গোল আসে আত্মঘাতী হিসাবে। শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly : সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়: এক লড়াকু অধিনায়কের কাহিনি
ম্যাচের ফলের থেকেও ইয়ামালের ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। ৫০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার বয়সের হিসাবে তিনি পিছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপেকে (Kylian Mbappe)। ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ক্লাব ফুটবলে ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন। ইয়ামাল সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সেই। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland)। নরওয়ের স্ট্রাইকার ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ৫০ ক্লাব গোলের মাইলফলক পূর্ণ করেছিলেন। ফলে ইয়ামালের সামনে এখন এমবাপে এবং হালান্ডের মতো তারকাদের নজির ছাপিয়ে যাওয়ার নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে।
ইয়ামালের কৃতিত্ব অবশ্য শুধু ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সামগ্রিক রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বার্সেলোনার জার্সিতে ৫০ গোল করার ক্ষেত্রেও তিনি তৈরি করেছেন নতুন ইতিহাস। এই জায়গায় তাঁর আগে ছিলেন ক্লাবের একাধিক কিংবদন্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জোসেপ এস্কোলা (Josep Escolà) ও লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। ১৯৩৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন জোসেপ এস্কোলা। তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর ৩৫৬ দিন। দীর্ঘ ৯১ বছর ধরে বার্সেলোনার ইতিহাসে এই মাইলফলকের জন্য সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় সেই রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ছিল। পরে মেসিও এই তালিকায় জায়গা করে নেন। আর্জেন্টিনার মহাতারকা বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে।
ইয়ামাল সেই দুই তারকাকেই পিছনে ফেলে দিয়েছেন। ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করে ক্লাবের ইতিহাসে এই কীর্তি গড়ার সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন তিনি। অর্থাৎ এস্কোলার ৯১ বছরের পুরনো নজিরও এবার ইয়ামালের দখলে চলে গেল। ইয়ামালের এই উত্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ খুব অল্প বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কিশোর বয়সে সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেকের পর থেকেই তাঁর খেলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ তৈরি করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি ও নিজে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে বার্সেলোনার আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে।
স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও ইয়ামালের উত্থান একইভাবে দ্রুত হয়েছে। স্পেন ইউরোপীয় ফুটবলে সাফল্য পাওয়ার সময় থেকেই জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে ধারাবাহিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাও বেড়েছে। নতুন মরসুমের শুরুতে ইয়ামালের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন উঠেছিল। আগের মরসুমের মতো ধারাবাহিক ভাবে গোল বা সহায়তা করতে পারছিলেন না তিনি। তবে রায়ো ভায়েকানোর বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন। শুধু গোল নয়, তাঁর পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল একাধিক ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানও।
বার্সেলোনার হয়ে ৫১ গোলের মালিক হয়ে এখন ইয়ামালের সামনে আরও বড় মাইলফলক অপেক্ষা করছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই মেসির মতো ক্লাব কিংবদন্তির রেকর্ডের সঙ্গে একই তালিকায় উঠে আসা তাঁর কেরিয়ারের গতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে মেসির সঙ্গে তুলনার চাপ কতটা সামলাতে পারেন এবং আগামী দিনে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার। উল্লেখ্য, রায়ো ভায়েকানোর বিরুদ্ধে ম্যাচ তাই শুধু বার্সেলোনার তিন পয়েন্ট পাওয়ার রাত ছিল না। ইয়ামালের জন্য এটি হয়ে রইল রেকর্ড ভাঙার রাত। এমবাপের ৫০ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে কম বয়সে এই মাইলফলক অর্জন, পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে এস্কোলা ও মেসির নজির ছাপিয়ে যাওয়া, এক ম্যাচেই একাধিক কীর্তি গড়লেন স্পেনের তরুণ তারকা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi World Cup goals, Argentina vs Cape Verde match | মেসির ম্যাজিকে রোমাঞ্চকর জয়, বিশ্বকাপে টানা গোলের রেকর্ডে ইতিহাস : কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার




