DA arrears West Bengal 2008 2015, West Bengal DA arrears payment | বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে, কারা পাবেন নগদ? নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় বড় ঘোষণা

SHARE:

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচনায় থাকা ‘সাত বছরের বকেয়া’ নয়, সরকারি হিসাবের নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে এটি কার্যত আট বছরের বকেয়া ডিএ। নবান্নের অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় শুধু টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তই নয়, কোন শ্রেণির কর্মী কী ভাবে সেই অর্থ পাবেন, তার কাঠামোও জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী,

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচনায় থাকা ‘সাত বছরের বকেয়া’ নয়, সরকারি হিসাবের নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে এটি কার্যত আট বছরের বকেয়া ডিএ। নবান্নের অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় শুধু টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তই নয়, কোন শ্রেণির কর্মী কী ভাবে সেই অর্থ পাবেন, তার কাঠামোও জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ হিসাব করার সময় ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল ধরা হবে। এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার। মার্চে জারি করা সরকারি নির্দেশিকায় ২০১৬-২০১৯ পর্বের বকেয়া অর্থ দুই কিস্তিতে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এ বার তার আগের সময়ের বকেয়া নিয়েও অর্থ দফতর বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করল।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on 3.10 Lakh Banned Cough Syrup Bottles Destroyed at Eco Park | Suvendu Adhikari : ইকো পার্কে ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস! নেশার বিরুদ্ধে ফের বড় অভিযান, যুবসমাজ নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

নতুন নির্দেশিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সব কর্মীর হাতে একই ভাবে টাকা পৌঁছবে না। কর্মীর পদমর্যাদা ও চাকরির অবস্থার উপর নির্ভর করবে বকেয়া ডিএ কী ভাবে দেওয়া হবে। গ্রুপ ‘এ’, গ্রুপ ‘বি’ এবং গ্রুপ ‘সি’-র কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার টাকা তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অর্থাৎ এই তিন শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে টাকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে বা সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। অন্য দিকে গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা। তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একই বকেয়া ডিএ হলেও কর্মীর শ্রেণি অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার পদ্ধতিতে বড় পার্থক্য থাকছে। এই ব্যবস্থাই এখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় রয়েছে অবসরের দোরগোড়ায় থাকা কর্মীদের জন্য। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও কর্মী যদি অবসরের আগের তিন মাসের মধ্যে থাকেন ও তাঁর GPF -এর চূড়ান্ত অর্থ মেটানোর সময় এসে যায়, তা হলে সেই কর্মীর বকেয়া ডিএ আর GPF অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। পরিবর্তে সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্তির খুব কাছাকাছি থাকা কর্মীদের জন্য বকেয়া অর্থ পাওয়ার পদ্ধতি অন্য কর্মীদের তুলনায় আলাদা রাখা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। GPF -এ জমা পড়া বকেয়া ডিএ নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের বিধিনিষেধ। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওই অর্থ ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ভাবে তোলা যাবে না। তার আগে অবসর, পদত্যাগ বা মৃত্যুর মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অর্থের নিষ্পত্তি হতে পারে। অর্থাৎ গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-র কর্মীদের জন্য বকেয়া ডিএ জমা পড়লেও সেই টাকা অবিলম্বে ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে না।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে আগের ডিএ পরিশোধের কাঠামোটিও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দফতর ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দুই কিস্তিতে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। প্রথম কিস্তি মার্চ ২০২৬ এবং দ্বিতীয় কিস্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেওয়ার কথা ছিল। সেই সময় ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলাদা ব্যবস্থা জানানোর কথা বলা হয়েছিল। তারপরই সামনে এল নতুন নির্দেশিকা। অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮-২০১৫ সময়ের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানো হবে। হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরির রেকর্ড এবং আগের সময়ে দেওয়া ডিএ-র তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক কর্মীর জন্য একই অঙ্কের টাকা নির্ধারিত হবে না; প্রাপ্য অর্থ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন, চাকরির মেয়াদ এবং অনুমোদিত ডিএ-র হিসাবের উপর। এ ক্ষেত্রে একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০১৬ সালের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য বর্তমান HRMS ব্যবস্থায় ডিজিটাল ভাবে সংরক্ষিত ছিল না। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের কর্মীদের বেতন ও চাকরির তথ্যের একটি বড় অংশ পুরনো সার্ভিস বুকে ম্যানুয়াল ভাবে নথিভুক্ত ছিল। ফলে কর্মীভিত্তিক বকেয়া ডিএ নির্ধারণের জন্য সেই তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হয়েছে।

আরও পড়ুন : 1400 Fire Department Vacancies in West Bengal | CM Suvendu Adhikari : দমকল দফতরে কর্মী ঘাটতি মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত, ১৪০০ পদে নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

এই কারণেই ২০০৮-২০১৫ সময়ের বকেয়া ডিএ নিয়ে আলাদা প্রক্রিয়া তৈরি করতে হয়েছে। কর্মীদের সার্ভিস রেকর্ডের তথ্য যাচাই, প্রাপ্য অর্থের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে বিল প্রস্তুত করার কাজের সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত। অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান ও Drawing and Disbursing Officer বা DDO-র উপর হিসাব যাচাইয়ের দায়িত্বও রাখা হয়েছে। বকেয়া ডিএর পাশাপাশি চলতি মাসের বেতন ও বর্তমান ডিএ নিয়েও পুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য আলাদা ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাসের বেতন, পেনশন ও পারিবারিক পেনশন ১৫ অক্টোবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে রাজ্য সরকার। একই দিনে অক্টোবর থেকে কার্যকর সংশোধিত ডিএ এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সংশোধিত মহার্ঘ ত্রাণ বা DR দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এ বারের দুর্গাপুজোর আগে একাধিক আর্থিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। এক দিকে আগের সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া, অন্য দিকে চলতি বছরের সংশোধিত ডিএ ও নির্ধারিত সময়ের আগে অক্টোবরের বেতন, সবকটি বিষয়ই কর্মী মহলে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন : Annapurna Yojana Instead of Widow Pension | Suvendu Adhikari, West Bengal Government Scheme : বিধবা ভাতা নাকি অন্নপূর্ণা যোজনা? ১৫০০ না ৩০০০, পছন্দ জানাতে হবে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

কিন্তু, বকেয়া ডিএর টাকা কবে ঠিক কোন তারিখে প্রত্যেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে বা GPF-এ জমা হবে, তা নিয়ে কর্মীভিত্তিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০০৮-২০১৫ সময়ের তথ্য যাচাই করে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি নির্দেশিকায় অর্থ প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হলেও প্রত্যেক কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক আলাদা ভাবে হিসাব হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ বা DR নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মার্চের সরকারি নির্দেশিকায় ২০১৬-২০১৯ পর্বের বকেয়া DR পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা কর্মীদের GPF-ভিত্তিক কাঠামো থেকে আলাদা। মৃত কর্মী বা প্রাক্তন কর্মীদের ক্ষেত্রেও বকেয়া ডিএ নিষ্পত্তির জন্য আগেই আলাদা ব্যবস্থা করেছে অর্থ দফতর। তাঁদের ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি, পরিবার বা আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ নিয়ে নবান্নের নতুন সিদ্ধান্তে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় সামনে এল, বকেয়া অর্থ এক কিস্তিতে দেওয়া হবে, গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-র টাকা GPF -এ জমা পড়বে, গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ পাবেন এবং অবসরের আগের তিন মাসে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। GPF -এ জমা পড়া অর্থ ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ভাবে তোলা যাবে না। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা বকেয়া ডিএ নিয়ে তাই নতুন নির্দেশিকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে কত টাকা প্রাপ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট দফতর কবে সেই হিসাব সম্পন্ন করে অর্থ জমা দেবে, সেই দিকেই নজর থাকবে। সরকারি সিদ্ধান্তে অর্থপ্রদানের কাঠামো নির্ধারিত হলেও বাস্তবে টাকা পাওয়ার সময়সূচী নির্ভর করবে হিসাব যাচাই এবং দফতরভিত্তিক প্রক্রিয়ার উপর।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal One Lakh Recruitment 2026, Suvendu Adhikari Government | নবান্নে বড় নিয়োগের সিদ্ধান্ত! ৫৪ দফতরে এক লক্ষ চাকরি, পুলিশ-স্কুলেই নজরকাড়া নিয়োগ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন