1400 Fire Department Vacancies in West Bengal | CM Suvendu Adhikari : দমকল দফতরে কর্মী ঘাটতি মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত, ১৪০০ পদে নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

SHARE:

শহর থেকে জেলা, বাজার থেকে হোটেল, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে, বাড়ছে উদ্ধারকাজের চাপও। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের দমকল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার রেড রোডে একটি অনুষ্ঠানে দমকল দফতরের হাতে ২২৬টি নতুন ফায়ার টেন্ডার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ১,৪০০ শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শহর থেকে জেলা, বাজার থেকে হোটেল, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে, বাড়ছে উদ্ধারকাজের চাপও। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের দমকল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার রেড রোডে একটি অনুষ্ঠানে দমকল দফতরের হাতে ২২৬টি নতুন ফায়ার টেন্ডার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ১,৪০০ শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বর্তমান শূন্যপদ পূরণেই থামছে না পরিকল্পনা। আগামী এক বছরের মধ্যে দমকল দফতরে আরও ২,৫০০টি নতুন পদ তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, নতুন গাড়ি সংযোজন এবং কর্মী নিয়োগ, দুই দিক থেকেই দমকল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে এ দিনের অনুষ্ঠানে।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari | Cooch Behar meeting : কোচবিহারে পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, নজরে সীমান্ত ও নারী নিরাপত্তা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলা, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনো ও বিপদের মধ্যে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটেই দমকলের শূন্যপদ পূরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। রেড রোডের অনুষ্ঠানে নতুন ফায়ার টেন্ডারগুলি দমকল দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার সময় সাম্প্রতিক কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তারাপীঠ ও নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় আবাসিকদের উদ্ধারে দমকলকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দুই ঘটনায় বহু মানুষকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য থেকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারাপীঠের হোটেল থেকে অন্তত ৩০ জন এবং নিউ মার্কেট সংলগ্ন একটি হোটেল থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

দুই ঘটনাকেই অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, কয়েকটি জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে বেরিয়ে আসার পথ কার্যত বন্ধ ছিল। আগুনের তাপ বা শিখার পাশাপাশি ধোঁয়ার কারণে মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জতুগৃহ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। বেরোনোর রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে নয়, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।’ এই মন্তব্যের সূত্র ধরেই দমকলকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধারকাজের প্রসঙ্গও তিনি সামনে আনেন। আগুনের মধ্যে ঢুকে আটকে পড়া মানুষকে বার করে আনার কাজ কতটা বিপজ্জনক, তা উল্লেখ করে উদ্ধারকর্মীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠ এবং নিউ মার্কেটের হোটেলে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দমকলকর্মীদের ‘জীবনরক্ষা পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অর্থাৎ শুধু পরিকাঠামো বা নিয়োগ নয়, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সামনে থেকে কাজ করা কর্মীদের স্বীকৃতির বিষয়টিও এ দিনের অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন : Annapurna Yojana fourth installment, Annapurna Yojana September 2026 | অন্নপূর্ণার চতুর্থ কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা, দেড় কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অর্থ! বাংলায় ‘কাটমানি’ নিয়েও প্রধাএনরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষ

এর আগে তারাতলার একটি গোডাউন বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজে যুক্ত পুলিশকর্মীদের জীবনরক্ষা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই ধরনের স্বীকৃতি এবার দমকলকর্মীদেরও দেওয়া হবে। প্রশাসনের তরফে এই সিদ্ধান্তের ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময়ে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত কর্মীদের কাজ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে চলেছে। উল্লেখ্য, দমকলের কর্মী ঘাটতি মেটানোর জন্য যে নিয়োগের ঘোষণা হয়েছে, সেটিও এ দিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে দমকলের ১,৪০০টি শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে ফায়ার অপারেটর পদে। এই পদে ১,০০০ জন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৫টি ফায়ার ইঞ্জিন অপারেটর কাম ড্রাইভার এবং ৭৫টি সাব-অফিসার পদ পূরণ করা হবে। দমকলের কাজের ধরন বিবেচনা করলে এই তিন ধরনের পদই গুরুত্বপূর্ণ। আগুনের খবর পাওয়ার পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনো, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র পরিচালনা, উদ্ধার অভিযান এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে দমকলের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য।

এখানেই শেষ নয়। আগামী এক বছরের মধ্যে দমকল দফতরে আরও ২,৫০০টি নতুন পদ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ বর্তমান ১,৪০০ শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও কর্মী কাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন পদ তৈরি হলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, দমকলের মতো জরুরি পরিষেবা পরিচালনাকারী দফতরে কর্মীর সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণ, দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ। একটি বড় অগ্নিকাণ্ডে একই সময়ে একাধিক জায়গায় উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে হয়। শহরাঞ্চলে বহুতল, বাজার, হোটেল, গুদাম, কারখানা বা ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন লাগলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে নতুন ফায়ার টেন্ডারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দমকল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে আগের সরকারের আমলে দমকলের মতো জরুরি পরিষেবায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে স্থায়ী কর্মী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে ১,৪০০টি পদ পূরণের কথা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব এবং কাঠামো নিয়েও প্রশাসনিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ২২৬টি ফায়ার টেন্ডার দমকলের হাতে তুলে দেওয়ার ফলে রাজ্যের অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামোয় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন ক্ষমতার এই গাড়িগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। বড় আগুন, বহুতল ভবন, বাজার এলাকা কিংবা শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত ফায়ার টেন্ডার দ্রুত পাঠানো গেলে উদ্ধারকাজের গতি বাড়তে পারে। তবে শুধু নতুন গাড়ি বা কর্মী নিয়োগ করলেই অগ্নিনিরাপত্তার সব সমস্যা মিটবে না। ভবনের নকশা, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং বিপদের সময়ে মানুষের বেরিয়ে আসার সুযোগ, প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটের হোটেলকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীও মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দিকগুলির উপরই নজর দিয়েছেন। কোনও ভবনে মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় বিপদ দ্রুত বাড়তে পারে।

রাজ্য সরকারের এই ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে দমকল দফতরের কর্মী কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথম ধাপে ১,৪০০ শূন্যপদ পূরণ এবং পরের এক বছরে আরও ২,৫০০ নতুন পদ তৈরির ঘোষণা রয়েছে। তার সঙ্গে ২২৬টি নতুন ফায়ার টেন্ডার যুক্ত হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম, দুই ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার যে, নিয়োগ প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয়, শূন্যপদগুলিতে নিয়োগ কবে সম্পূর্ণ হয় ও নতুন পদ তৈরির ঘোষণার পর বাস্তবে সেই পদগুলিতে কী ভাবে কর্মী নেওয়া হয়, তার দিকে। পাশাপাশি তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দমকলকর্মীদের জীবনরক্ষা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। আগুনের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রস্তুতিতে নতুন গাড়ি, নতুন কর্মী এবং নতুন পদ, এই তিনটি সিদ্ধান্তই আগামী দিনের দমকল ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে চলেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন