সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই সুখবর রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য। অক্টোবর মাসের বেতন পাওয়ার জন্য মাসের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। পুজোর কথা মাথায় রেখে এবার আগেই মিটিয়ে দেওয়া হবে অক্টোবরের বেতন। একই সঙ্গে দেওয়া হবে পেনশন ও পারিবারিক পেনশনও। তার সঙ্গে যোগ হবে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে মহার্ঘ ভাতা-সহায়তা (DR)। অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এবছর দুর্গাপুজো অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে উৎসবের আগে হাতে টাকা পৌঁছে দিতে বেতন প্রদানের সময় এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, মজুরি প্রাপক, স্টাইপেন্ড ও সাম্মানিকভোগীদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অর্থ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অর্থ দফতরের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং ট্রেজারিগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগেভাগে শেষ করার কথা জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিবর্তন। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪ অগস্টের অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধিত মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ প্রযোজ্য হবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে। এত দিন এই হার ছিল ১৮ শতাংশ। ফলে নতুন করে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পর মোট ডিএ দাঁড়াচ্ছে ৩৮ শতাংশে।
শুধু কর্মরত সরকারি কর্মীরাই নন, এই পরিবর্তনের আওতায় রয়েছেন রাজ্য সরকারের পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরাও। তাঁদের ক্ষেত্রেও ১ অক্টোবর থেকে সংশোধিত মূল পেনশন বা পারিবারিক পেনশনের ৩৮ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর দেওয়ার কথা জানিয়েছে অর্থ দফতর। সরকারি নির্দেশে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা-সহ একাধিক ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে বর্ধিত ডিএ প্রযোজ্য করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর আগে সরকারি কর্মীদের হাতে একসঙ্গে দু’টি সুবিধা পৌঁছতে চলেছে, এক দিকে এগিয়ে আসছে অক্টোবরের বেতন পাওয়ার দিন, অন্য দিকে সেই বেতনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন হারে ডিএ। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ভাবে অক্টোবরের পেনশনের সঙ্গে বর্ধিত ডিআর যুক্ত হওয়ার কথা। ফলে উৎসবের আগে বেতন ও পেনশন প্রদানের সময়সূচি নিয়ে যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এবার অনেকটাই কমছে।
অর্থ দফতরের নির্দেশে শুধু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেই থেমে থাকেনি সরকার। সময়মতো টাকা পৌঁছনোর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও এগিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার বা ডিডিও-দের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল প্রস্তুত ও জমা দিতে হবে। ট্রেজারিগুলিকেও সেই বিল দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মী ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আগাম প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের অক্টোবরের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর ৪ অগস্ট অর্থ দফতর আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করে বর্ধিত ডিএ-র হার এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে।
সরকারি সূত্রে খবর, নতুন হারে ডিএ কার্যকর হওয়ার দিন ১ অক্টোবর ২০২৬। অর্থাৎ অক্টোবর মাস থেকেই ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ গণনা হবে। সেই মাসের বেতন যদি ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেওয়া হয়, তবে নতুন হারে প্রাপ্য ডিএ-ও একই সঙ্গে পাওয়ার কথা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও অক্টোবর থেকে ৩৮ শতাংশ ডিআর কার্যকর হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুর্গাপুজোর আগে কর্মরত সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের হাতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় আগে টাকা পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ নিয়মে মাসের শেষ কর্মদিবসে বেতন পাওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, পুজোর কারণে এবার সেখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে। উৎসবের সময় বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু, বর্ধিত ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে আলোচনার আর একটি দিকও রয়েছে। ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ যুক্ত হওয়ার ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ শতাংশ হচ্ছে। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ-র সঙ্গে রাজ্যের ব্যবধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে দাবি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও জুলাইয়ের ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, এই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের এবং ধাপে ধাপে সেই দিকে এগোনোর কথা ভাবা হচ্ছে। এদিকে রাজ্যের বাজেটেও সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছিল, কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। ফলে বর্তমান ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো নিয়ে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও তার চূড়ান্ত রূপ কমিশনের সুপারিশের উপর নির্ভর করবে।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও ডিএ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশের আওতায় বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির কথা রয়েছে। ৪ আগস্টের নির্দেশে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্যও ১ অক্টোবর থেকে ৩৮ শতাংশ ডিএ-র ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেবল নবান্নের সরাসরি কর্মীরাই নন, নির্দেশে উল্লেখিত অন্যান্য শ্রেণির কর্মীরাও এর আওতায় আসবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১৫ অক্টোবরের সময়সীমা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পুজোর আগে বেতন, পেনশন এবং নতুন হারে ডিএ বা ডিআর প্রদানের ফলে অক্টোবরের শুরুতেই রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক হিসাব বদলাতে চলেছে। এখন নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল নিষ্পত্তি এবং টাকা জমার প্রক্রিয়া কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তার দিকে। সরকারি নির্দেশ কার্যকর হলে দেবীপক্ষেই বহু কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে অক্টোবরের প্রাপ্য টাকা এবং নতুন হারে হিসাব করা মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস রিলিফ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Darjeeling barbecue accident, Nikita Saha burn injury | দার্জিলিঙে মধুচন্দ্রিমায় ভয়াবহ আগুন, বার্বিকিউয়ের সামনে ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিকিতা! স্বামীর অভিযোগ, ‘আগুনে তেলের ড্রাম ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল’




