সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: মাসে ১,৫০০ টাকা বিধবা ভাতা, নাকি ৩,০০০ টাকা অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, যোগ্য মহিলাদের সামনে এবার বেছে নেওয়ার সুযোগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর ঘোষণার পর সেই সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিল রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর। নির্দিষ্ট যোগ্যতার মধ্যে থাকা বিধবা ভাতার উপভোক্তাদের লিখিত ভাবে জানাতে হবে, তাঁরা পুরনো ভাতা চালিয়ে যেতে চান, নাকি সেটি ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিতে চান। এই ‘অপশন’ সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট প্রোফর্মাও তৈরি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, রাজ্যের বিধবা ভাতা প্রকল্পের আওতায় থাকা সব মহিলাকে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তর করা হচ্ছে না। যাঁরা নির্ধারিত বয়স ও অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে পড়ছেন, তাঁদের কাছ থেকেই আগে পছন্দ জানতে চাওয়া হবে। আবেদনপত্রে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, তাঁরা বিধবা ভাতা বজায় রাখতে চান, নাকি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহী। সেই তথ্য সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বিধবা ভাতার মাসিক সহায়তার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা। অন্য দিকে অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একই উপভোক্তার ক্ষেত্রে কোন প্রকল্পটি প্রযোজ্য হবে, তা তাঁর যোগ্যতা ও লিখিত পছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টালও ইতিমধ্যে চালু রয়েছে এবং সেখানে প্রকল্পের আবেদন ও উপভোক্তার তথ্য সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে ‘সমর্থ’ পোর্টালের তথ্যের ভিত্তিতে এমন বিধবা ভাতাপ্রাপকদের চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে, যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়তে পারেন। এরপর সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে তাঁদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় পছন্দ সংগ্রহ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে এই কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে একই ধরনের বয়সসীমা নেই। ফলে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন এমন কোনও মহিলার বয়স যদি অন্নপূর্ণা যোজনার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে এবং তিনি প্রকল্পটির অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করেন, তবেই তাঁর সামনে দুই প্রকল্পের মধ্যে পছন্দ জানানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই নিয়মের ফলে বয়সের বিষয়টি উপভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি বিধবা ভাতাপ্রাপক কেবল এই ‘অপশন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনায় চলে যেতে পারবেন, এমনটা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি। আবার ২৫ বছরের কম বয়সী বিধবা মহিলার ক্ষেত্রেও অন্নপূর্ণা যোজনার নির্ধারিত বয়সের কারণে যোগ্যতা তৈরি হবে না। তাই শুধু বিধবা ভাতা পাওয়া যথেষ্ট নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার নির্দিষ্ট মাপকাঠিও পূরণ করতে হবে। সম্প্রতি একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিধবা মহিলাদের বিধবা ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। সেই ঘোষণার পর এবার নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট করা হল।
অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা নিয়ে এর আগে একাধিকবার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক মহিলা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছেছে। পরে সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় আরও বড় সংখ্যক উপভোক্তার কাছে অর্থ পৌঁছনোর কথা জানানো হয়। বিধবা ভাতা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে তাই উপভোক্তার পছন্দের বিষয়টি এবার প্রশাসনিক নথিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কেউ যদি বিধবা ভাতা চালিয়ে যেতে চান, তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। আবার কেউ যদি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন এবং ৩,০০০ টাকার মাসিক সহায়তা নিতে চান, তিনিও লিখিত ভাবে সেই অপশন জানাতে পারবেন। দফতরের নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় এই তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিন্তু, বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা। যাঁরা মাসিক ১,৫০০ টাকা করে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দু’টি সুবিধার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ যোগ্য বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলারা দুই প্রকল্পের সুবিধাই পেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী আগেই এই ব্যবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। সেপ্টেম্বরের সরকারি ঘোষণাতেও এই বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ফলে নতুন ‘অপশন’ ব্যবস্থা নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে কয়েকটি বিষয় আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথমত, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কি না। দ্বিতীয়ত, অন্নপূর্ণা যোজনার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ হচ্ছে কি না। তৃতীয়ত, বিধবা ভাতা বজায় রাখা হবে, নাকি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা বেছে নেওয়া হবে। আর চতুর্থত, বিশেষ ভাবে সক্ষম উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে দুই প্রকল্প একসঙ্গে প্রযোজ্য কী না!
প্রশাসনের ক্ষেত্রে এখন সময়সীমাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের কাছ থেকে পছন্দ সংগ্রহ করার পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। ফলে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় স্তরের আধিকারিক এবং কলকাতা পুরসভাকে দ্রুত উপভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপভোক্তার তথ্য যাচাই এবং প্রকল্পভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি পোর্টালটি নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে উপভোক্তার আবেদন এবং অবস্থার তথ্য দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একই পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। যে মহিলা এত দিন বিধবা ভাতা হিসাবে মাসে ১,৫০০ টাকা পেতেন এবং অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্যতা পূরণ করে সেই প্রকল্প বেছে নেবেন, তাঁর মাসিক সরকারি সহায়তার অঙ্ক হবে ৩,০০০ টাকা। তবে এই পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয় নয়, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিখিত পছন্দ জানাতে হবে এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্প পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকর হবে।
অন্য দিকে, যাঁরা বিধবা ভাতাই চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রেও পছন্দটি নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন নির্দেশের মূল বিষয় হল উপযুক্ত উপভোক্তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ। সরকারি দফতর সেই পছন্দ সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে। দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সামনে আসছে। অন্নপূর্ণা যোজনার আওতা বাড়ানো, নতুন উপভোক্তা চিহ্নিত করা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের যোগ্যতার তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি এবার বিধবা ভাতার সঙ্গে এই প্রকল্পের সম্পর্কও নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা ঘিরে জেলা প্রশাসন এবং উপভোক্তাদের মধ্যে তৎপরতা বাড়তে চলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিধবা ভাতা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় যেতে ইচ্ছুক মহিলাদের নিজেদের পছন্দ লিখিত ভাবে জানাতে হবে। বয়স ও অন্যান্য যোগ্যতা মিলে গেলে ১,৫০০ টাকার বিধবা ভাতার পরিবর্তে ৩,০০০ টাকার অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নেওয়ার পথ খুলছে। আর বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে দুই সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার ব্যবস্থাও বহাল থাকছে। এখন নজর ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কতজন উপভোক্তা কোন প্রকল্প বেছে নেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ কী ভাবে নেয়, তার দিকে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Modi stops speech for Xi Jinping, Modi Xi Jinping BRICS Summit | ‘উনি ঠিক আছেন তো?’ জিনপিংকে দেখে বক্তৃতা থামালেন মোদী, ব্রিক্সের দ্বিতীয় দিনে ঐক্যের ডাক




