West Bengal One Lakh Recruitment 2026, Suvendu Adhikari Government | নবান্নে বড় নিয়োগের সিদ্ধান্ত! ৫৪ দফতরে এক লক্ষ চাকরি, পুলিশ-স্কুলেই নজরকাড়া নিয়োগ

SHARE:

চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসে সরকারি চাকরির দরজা আরও বড় পরিসরে খোলার পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal One Lakh Recruitment 2026)। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের ৫৪টি দফতরে মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হবে। অক্টোবর থেকে আগামী মার্চের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসে সরকারি চাকরির দরজা আরও বড় পরিসরে খোলার পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal One Lakh Recruitment 2026)। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের ৫৪টি দফতরে মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হবে। অক্টোবর থেকে আগামী মার্চের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : Divya Mittal IAS resignation : লন্ডনের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে IAS, ১৩ বছর পর আচমকাই পদত্যাগ দিব্যা মিত্তলের! কেন প্রশাসন ছাড়লেন এই অফিসার?

সরকারি দফতরের প্রয়োজন, শূন্যপদ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কর্মী চাহিদা অনুযায়ী নিয়োগের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘোষণার মধ্যে চাকরিপ্রার্থীদের নজর কেড়েছে পুলিশ ও স্কুলশিক্ষা দফতরের নিয়োগের পরিমাণ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police) চার হাজার এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে (West Bengal Police) ১২ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ দুই পুলিশ বাহিনী মিলিয়ে ১৬ হাজার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে প্রায় ৩৪ হাজার পদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এক লক্ষ নিয়োগের বড় অংশই পুলিশ ও শিক্ষাক্ষেত্রে যেতে পারে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে একসঙ্গে সব নিয়োগ সম্পন্ন না করে বিভিন্ন দফতরের চাহিদা অনুসারে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া চালানো হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোনও কোনও দফতরে নিয়োগের সংখ্যা সাত হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে হতে পারে। তবে কোন দফতরে ঠিক কত পদে নিয়োগ হবে, কোন পদে কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং নিয়োগের পৃথক সময়সূচি কী হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট দফতর ও নিয়োগকারী সংস্থার তরফে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন : Shivraj Singh Chouhan on Agriculture University Jobs, ICAR Agriculture Education : কৃষি পড়েও চাকরি অভাব! কর্মসংস্থানের হিসাব রাখবে বিশ্ববিদ্যালয়, বড় নির্দেশ শিবরাজের

চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এই ঘোষণার তাৎপর্য মূলত নিয়োগের মোট পরিমাণকে ঘিরে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বহু প্রার্থীর নজর এখন সম্ভাব্য বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিশেষ করে স্কুলশিক্ষা এবং পুলিশে বিপুল সংখ্যক নিয়োগের কথা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে কেবল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট পদে আবেদন শুরু হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, বয়সসীমা, সংরক্ষণনীতি, পরীক্ষার ধরন এবং অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ৩৪ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাটি আলাদা করে নজরে এসেছে। স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর প্রয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় থেকেছে। নতুন করে বিপুল সংখ্যক নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্কুলগুলিতে মানবসম্পদের ঘাটতি পূরণের জন্য তা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে কোন স্তরে কত শিক্ষক, কত শিক্ষাকর্মী এবং কোন কোন পদে নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ বাহিনীতেও বড় নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশে চার হাজার এবং রাজ্য পুলিশে ১২ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে যুক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতেই নিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে চলেছে। তবে এখানেও পদভিত্তিক নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক মাপকাঠি, পরীক্ষা এবং নিয়োগের ধাপ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে। উল্লেখ্য যে, এক লক্ষ কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও দু’টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সংবিধান প্রণেতা ভীমরাও আম্বেডকরের (Bhimrao Ambedkar) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য বিধানসভায় বিল আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজ্যের কোন এলাকায় তৈরি হবে, তার পরিকাঠামো কেমন হবে কিংবা কবে থেকে পঠনপাঠন শুরু হবে, সেই বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন : Thacker Dairy Investment, Uluberia New Dairy Plant | বাংলার দুগ্ধ শিল্পে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা! উলুবেড়িয়ায় ২৫০ কোটি টাকায় নতুন কারখানা ঠাকার ডেয়ারির, তৈরি হবে হাজার কর্মসংস্থান

আম্বেডকরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন সময়ে, যখন রাজ্য সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা সামনে আনছে। ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে জমি, পরিকাঠামো, বিষয়ভিত্তিক পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আরও সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরে বিধানসভায় বিল পেশের প্রক্রিয়াই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর পাশাপাশি রাজ্যে পৃথক আয়ুষ দফতর (AYUSH Department) তৈরির প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথির মতো ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিগুলিকে একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির প্রশাসনিক পরিচালনা, পরিকল্পনা এবং দফতরভিত্তিক কাজের জন্য আলাদা কাঠামো তৈরি হতে পারে।

চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসকে সামনে রেখে তাই একই সঙ্গে তিনটি বড় প্রশাসনিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। যেমন বৃহৎ পরিসরে সরকারি নিয়োগ, অম্বেডকরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এবং পৃথক আয়ুষ দফতর তৈরির প্রস্তুতি। নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশটি স্কুলশিক্ষা এবং পুলিশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আয়ুষ দফতরের ক্ষেত্রে আগামী দিনে বিধানসভা ও প্রশাসনিক স্তরে আরও প্রক্রিয়া এগোতে হবে। এক লক্ষ নিয়োগের ঘোষণার পরে এখন সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকে। কারণ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর বাস্তবে চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে। কোন দফতরে কোন পদ খালি রয়েছে, সেই পদগুলির শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, বয়সের শর্ত কী এবং নিয়োগের পরীক্ষা কী ভাবে হবে, এই তথ্যগুলি সামনে না আসা পর্যন্ত নিয়োগের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রশাসনিক দিক থেকেও আগামী কয়েক মাস ব্যস্ততার হতে চলেছে। ৫৪টি দফতরকে নিয়ে এক লক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোনোর অর্থ হল একাধিক স্তরে শূন্যপদ যাচাই, নিয়োগের কাঠামো তৈরি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ ও স্কুলশিক্ষার মতো বড় নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আলাদা ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ফলে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টি সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : Shreyas Iyer Ibrahim Zadran, India Afghanistan T20I 2026 : ট্রফি হাতে একা নন শ্রেয়াস, জাদরানকে পাশে টেনে ভারতের অধিনায়কের অন্যরকম জয় উদ্‌যাপন

চাকরির বাজারে সরকারি নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে আগ্রহ রয়েছে, তার মধ্যেই এই ঘোষণার ফলে নতুন করে নজর পড়েছে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার দিকে। তবে ঘোষিত এক লক্ষ পদ বাস্তবে কোন কোন ধাপে পূরণ হবে, কোন পদে কতজন নেওয়া হবে এবং নিয়োগের সময়সূচী কী হবে, তার উত্তর মিলবে পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তিগুলিতে। আপাতত নবান্নের মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসে সরকারি নিয়োগকে বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samantha Ruth Prabhu Workout | মাতৃত্বের নতুন পরে শারীরচর্চা, শরীরের কথা শুনছেন সমান্থা রুথ প্রভু

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন