Shreyas Iyer Backup, Gautam Gambhir World Cup Plan | শ্রেয়সের বিকল্প তৈরি করছে ভারত! বিশ্বকাপের আগে তিলককে নিয়ে বড় পরিকল্পনা গম্ভীর-আগরকরদের, নজরে অফ স্পিনও

SHARE:

সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : এক দিনের বিশ্বকাপ এখনও অনেকটা দূরে। কিন্তু তার আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট। ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দলের প্রথম ছয় ব্যাটারের বিকল্প তৈরি করার দিকে। সেই পরিকল্পনায় উঠে এসেছে তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার তিলক বর্মার নাম। শুধু ব্যাটিং নয়, তাঁর অফ স্পিনকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। ভারতের বর্তমান ওয়ান ডে দলের মিডল অর্ডারে শ্রেয়স আয়ার (Shreyas Iyer) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রতিযোগিতার কোনও একটি ম্যাচে চোট, ফিটনেস সমস্যা অথবা অন্য কোনও কারণে তাঁকে পাওয়া না গেলে দলের ব্যাটিং কাঠামো যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেই প্রস্তুতিই এখন থেকে করতে চাইছেন নির্বাচকেরা। সেই জায়গায় তিলককে সম্ভাব্য বিকল্প হিসাবে তৈরি করার ভাবনা সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিলককে শুধু একজন ব্যাটার হিসেবে নয়, প্রয়োজনে কয়েক ওভার বল করতে পারেন এমন ক্রিকেটার হিসাবেও গড়ে তুলতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আরও পড়ুন : Shubman Gill dropped from T20 World Cup | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভমন গিল নেই কেন? নীরবতা ভাঙলেন না গৌতম গম্ভীর, নির্বাচনের বার্তায় ইঙ্গিত স্পষ্ট

ভারতের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে ডানহাতি ব্যাটারের আধিক্য রয়েছে। সেই জায়গায় তিলকের বাঁহাতি ব্যাটিং দলের গঠনে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। একজন বাঁহাতি ব্যাটার থাকলে বিপক্ষ দলের বোলিং পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হয়। ফলে ব্যাটিং অর্ডারে শুধু একজন অতিরিক্ত ক্রিকেটার যোগ হবে না, গোটা একাদশের ভারসাম্য নিয়েও আরও বেশি বিকল্প পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন দল পরিচালনার সঙ্গে যুক্তরা। তিলকের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় নির্বাচকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাঁর অফ স্পিন। এখনও নিয়মিত বোলার হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট চায়, নিজের বোলিংয়ে আরও কাজ করুন তিলক। লক্ষ্য, প্রয়োজনে চার-পাঁচ ওভার ব্যবহার করার মতো নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি করা। কারণ ভারতের টপ সিক্সে এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কম, তিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত কয়েক ওভার কার্যকরভাবে বল করতেও পারেন।

বোর্ড সূত্রের একটি বক্তব্য অনুযায়ী, গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubman Gill) মনে করছেন মিডল অর্ডারের জন্য পর্যাপ্ত ব্যাকআপ এখনও তৈরি হয়নি। হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও নীতীশ কুমার রেড্ডির (Nitish Kumar Reddy) ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তাও পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে। ফলে প্রথম ছয়ের মধ্যে এমন একজনকে রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যিনি ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বলও করতে পারবেন। এই জায়গাতেই তিলক অন্য কয়েক জন ক্রিকেটারের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারেন। অক্ষর পটেল (Axar Patel) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) অবশ্যই ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর। কিন্তু তাঁদের মূলত নিচের দিকের ব্যাটিংয়ের জন্য ভাবা হচ্ছে। দলের প্রথম ছয়ের ব্যাটিং কাঠামোকে আলাদা করে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিলকের মতো বাঁহাতি ব্যাটারের গুরুত্ব তাই বাড়ছে।

নির্বাচকদের পরিকল্পনায় আরও একটি বিষয় রয়েছে। কোনও ক্রিকেটারকে তাঁর স্বাভাবিক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য পজিশনে খেলিয়ে সাময়িক সমাধান করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। যে ক্রিকেটার যে ভূমিকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তাঁকে সেই দায়িত্বেই তৈরি করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এই ভাবনার কারণেই তিলকের সম্ভাবনা আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে শ্রেয়স চোট পাওয়ার পরে ভারতীয় দলের ব্যাটিং বিন্যাসে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে যাতে বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় দলের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত না করে, তার জন্যই এখন থেকে বিকল্প তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। শ্রেয়স বর্তমান ওয়ান ডে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সহ-অধিনায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁর বিকল্প তৈরি করে রাখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বরং বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় একাধিক পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি হিসাবেই এই উদ্যোগ।

দলের বয়সের ভারসাম্যও নির্বাচকদের ভাবনায় রয়েছে। রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) এবং বিরাট কোহলি (Virat Kohli) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ মুখ হলেও তাঁদের বয়সের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হচ্ছে। লোকেশ রাহুলও (KL Rahul) ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের সময়ে ৩৫ বছরের বেশি বয়সি হয়ে যাবেন। রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja)-কে নিয়েও ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় বয়স ও ফিটনেসের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তাই এখন থেকেই তরুণ ক্রিকেটারদের তৈরি করে রাখার চেষ্টা চলছে।

২০২৭ বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায়। ফলে সেই অঞ্চলের পরিবেশ ও পিচের চরিত্রও দল গঠনের সময় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। গতি ও বাউন্স সামলাতে পারে এমন ব্যাটার, ফিল্ডিংয়ে দ্রুত ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার মতো ফিট ক্রিকেটার এই গুণগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পিছনে তাই শুধু বর্তমান দলের জায়গা পূরণ করার ভাবনা নেই, বিশ্বকাপের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এমন দল গড়ার লক্ষ্যও রয়েছে। তিলক ইতিমধ্যেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোটের কারণে তাঁকে বাইরে থাকতে হয়েছিল আর শ্রেয়সকে তাঁর পরিবর্ত হিসাবে রাখা হয়েছিল। পরে তিলক সুস্থ হয়ে দলে ফেরেন। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর সীমিত ওভারের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। কিন্তু ওয়ান ডে ক্রিকেটে এখনও তাঁর অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। ভারতের হয়ে তিনি পাঁচটি ওয়ান ডে খেলেছেন এবং মোট ৬৮ রান করেছেন। তাই তাঁকে বিশ্বকাপের বিকল্প হিসাবে ভাবা হলেও সামনে তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক সুযোগে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে হবে তাঁকে।

বিকল্প ওপেনার হিসাবেও কয়েক জন ক্রিকেটারকে নিয়ে ভাবনা চলছে। রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad) সেই তালিকায় রয়েছেন। শুভমন গিল চোট পাওয়ার সময় তাঁকে কয়েকটি ম্যাচে ওপেন করানো হয়েছিল। ফলে প্রয়োজনে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় দেবদত্ত পাডিক্কল (Devdutt Padikkal) -এর নামও রয়েছে। যদিও আপাতত তাঁকে ওয়ান ডে দলের পরিকল্পনায় তাড়াহুড়ো করে ঢোকানোর পক্ষপাতী নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের ওয়ান ডে সিরিজ ও তারপর অক্টোবরে নিউজ়িল্যান্ড সফর নির্বাচকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে সব প্রথম সারির ক্রিকেটারকে একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজে শ্রেয়স, তিলক, ঈশান কিশন (Ishan Kishan) ও অক্ষর পটেলের না থাকার সম্ভাবনার কথা রিপোর্টে উঠে এসেছে। একই সময়ে এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের পূর্ণ শক্তির টি-টোয়েন্টি দল পাঠানোর পরিকল্পনা থাকায় ক্রিকেটারদের ভাগ করে ব্যবহার করতে হতে পারে।

ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে যে দল খেলবে, সেটিকেই ২০২৭ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চেহারা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং সেই সময় নির্বাচকেরা নতুন ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন। কোন তরুণ ক্রিকেটার চাপের মধ্যে কতটা সফল, কে দীর্ঘ ইনিংস খেলতে পারেন, কে ফিল্ডিংয়ে দ্রুত এবং কে প্রয়োজনের সময়ে বল করতে পারেন, সেই সব দিকই লক্ষ্য থাকবে। উইকেটরক্ষক নিয়েও নতুন করে ভাবনা রয়েছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটের জন্য এমন একজন বিকল্প উইকেটরক্ষক প্রয়োজন, যিনি শুধু কিপিং নয়, ব্যাট হাতেও দায়িত্ব নিতে পারবেন। কারণ বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় চোট বা ফর্মের কারণে প্রথম পছন্দের ক্রিকেটারকে না পাওয়া গেলে দ্বিতীয় সারির প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

তিলকের ক্ষেত্রে তাই এখনকার লক্ষ্য সরাসরি শ্রেয়সকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে শ্রেয়স থাকলেও তিলকের মতো একজন ক্রিকেটারকে দলের ভারসাম্যের প্রয়োজনে প্রথম একাদশে জায়গা দেওয়া যায়। বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অফ স্পিন যোগ করতে পারলে তাঁর মূল্য আরও বাড়বে। ভারতীয় দলের নির্বাচকদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য এমন একটি দল তৈরি করা, যেখানে প্রথম একাদশের পাশাপাশি প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পজিশনের জন্য কার্যকর বিকল্প থাকবে। তিলক বর্মাকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা সেই বৃহত্তর প্রস্তুতিরই অংশ। তাঁর ব্যাটিং ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। এবার অফ স্পিনে কতটা উন্নতি করতে পারেন এবং ওয়ান ডে ক্রিকেটে নিজের জায়গা কতটা শক্ত করতে পারেন, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

বিশ্বকাপের আগে এখনও এক বছরেরও বেশি সময় রয়েছে। ফলে দলের দরজা কারও জন্য বন্ধ নয়, আবার কারও জায়গাও পাকাপাকি নয়। নির্বাচকদের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অন্তত একটি বিষয় সামনে এনেছে, ভারতীয় ওয়ান ডে দলে ভবিষ্যতের জন্য তরুণ, বহুমুখী এবং ফিট ক্রিকেটারদের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই তালিকায় তিলক বর্মার নাম এখন বেশ জোরের সঙ্গে উঠে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gautam Gambhir coach India | টানা হারে চাপে ভারত! শ্রেয়সদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ বোর্ড, কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন