Ratna Debnath Panihati | তোলাবাজি নিয়ে পানিহাটিতে বিজেপির কড়া অবস্থান, রত্নার নিশানায় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★কলকাতা : তোলাবাজি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন শাসক-বিরোধী চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন নিজের বিধানসভা এলাকায় কড়া অবস্থান নিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা চাইলে সেই দাবি কোনও ভাবেই মেনে না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শুধু টাকা না দেওয়াই নয়, যাঁরা তাঁর নাম করে টাকা চাইতে আসবেন, তাঁদের ছবি মোবাইলে তুলে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বিধায়ক। প্রয়োজনে তাঁর স্বাক্ষর করা অনুমতিপত্র বা বিধায়কের প্যাডে লিখিত নির্দেশ দেখতে চাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : Kiara Advani Pregnancy, Yash Kiara Toxic | অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে চোখে জল যশের, টক্সিক নিয়ে আবেগঘন কথা কিয়ারার

সোমবার নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে তোলাবাজি নিয়ে সরব হন রত্না। সেখানেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি আমার নাম করে টাকা চায়, তবে দেবেন না।’ একই সঙ্গে তাঁর নির্দেশ, কেউ বিধায়কের নাম করে টাকা চাইতে এলে তাঁর ছবি তুলে রাখতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তিকে বলতে হবে, বিধায়ক তাঁকে পাঠিয়ে থাকলে বিধায়কের স্বাক্ষর করা নথি নিয়ে আসতে হবে। অথবা বিধায়কের প্যাডে লিখিত অনুমতি দেখাতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের নাম ব্যবহার করে আর্থিক দাবি তোলার সম্ভাবনা ঠেকাতে দলীয় কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করলেন পানিহাটির বিধায়ক। তোলাবাজি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রত্নার এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজির অভিযোগকে সামনে এনে বিরোধীরা শাসকদলকে নিশানা করেছে। পাল্টা বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। কয়েক দিন আগে শিলিগুড়ির রাস্তায় মাইক হাতে নিয়ে তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। এবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতেও একই ইস্যুতে দলীয় বিধায়কের কণ্ঠে উঠে এল কড়া সতর্কতা।

রত্না দেবনাথ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলে চলবে না। কেউ রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম কিংবা বিধায়কের পরিচয় ব্যবহার করে টাকা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভয় না পেয়ে সাধারণ মানুষকে সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে।’ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এ ধরনের অভিযোগের মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি। তোলাবাজির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অবস্থানের কথাও নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, সরকারও তোলাবাজির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কোনও রাজনৈতিক নেতা কিংবা পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। যদিও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরকে আক্রমণ চলছে।

পানিহাটিকে আরও উন্নত ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও এ দিন কথা বলেন রত্না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘সুন্দর পানিহাটি’ গড়ার পরিকল্পনা। একই সঙ্গে এলাকায় ভয় দেখিয়ে রাজনীতি বা ‘থ্রেট কালচার’ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি। স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বেআইনি কাজের সুযোগ বন্ধ করাই তাঁর লক্ষ্য বলে বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন বিধায়ক। এই প্রসঙ্গেই নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) প্রসঙ্গ টেনে আনেন রত্না। নির্মল ঘোষ ও তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁরা জেলে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রাক্তন বিধায়ককে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে রত্না বলেন, ক্ষমতা হাতে থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না। তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপরে চাপ তৈরি করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

নির্মল ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে রত্না তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অতীতে পানিহাটির একাধিক বিষয় নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও মানুষের স্বার্থে কথা বলা থেকে তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলে জানান বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্যে বার বার উঠে আসে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয়টি। নিজের পরিবারের প্রসঙ্গও এ দিন বক্তব্যে আনেন রত্না। তাঁর কন্যা আরজি করের চিকিৎসক-ছাত্রী ছিলেন বলে জানান তিনি। কন্যার মৃত্যুর পরেও পানিহাটির তৎকালীন বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার কথা উল্লেখ করেন রত্না। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে কেউ যদি ভুল পথে যান, তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে পিছপা হব না।’ একই সঙ্গে মেয়েদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তিনি জানান।

রত্নার বক্তব্যে নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর কথায়, ‘মেয়েদের জন্য লড়াই আমি কোনও দিন ছাড়ব না।’ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তোলাবাজির বিরুদ্ধে সতর্কতার পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরার ঘটনাকে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পানিহাটির মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাঁদের অভিযোগ শোনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। বিধায়কের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তাঁর নাম ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রমাণ রাখার পরামর্শ। কোনও ব্যক্তি বিধায়কের প্রতিনিধি হিসেবে টাকা চাইলে তাঁর পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি ছবি তুলে রাখার কথা বলেছেন রত্না। বিধায়কের স্বাক্ষর কিংবা তাঁর দফতরের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও আর্থিক দাবি গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় স্তরে টাকা তোলার অভিযোগ ঠেকানোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভূমিকা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের রাজনীতিতে তোলাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই দুর্নীতি ও তোলাবাজিকে সামনে রেখে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। অন্য দিকে, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন। সেই আবহে পানিহাটির বিজেপি বিধায়কের প্রকাশ্য সতর্কতা রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, পানিহাটির স্থানীয় রাজনীতিতে রত্না দেবনাথের বক্তব্য আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে। কারণ, এক দিকে তিনি নিজের নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন, অন্য দিকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে সামনে এনেছেন। পাশাপাশি ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধ করার কথা বলে এলাকায় রাজনৈতিক পরিবেশ বদলের কথাও তিনি বলেছেন।

কিন্তু, তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখানেই থামবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় দুর্নীতি, তোলাবাজি, ভয় দেখানোর রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য আরও তীব্র হতে পারে। পানিহাটিতে রত্নার এ দিনের বক্তব্য সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই একটি অংশ। তবে তাঁর সরাসরি নির্দেশ, তাঁর নাম করে কেউ টাকা চাইলে টাকা দেওয়া যাবে না এবং প্রয়োজনে প্রমাণ রাখতে হবে, স্থানীয় স্তরে তোলাবাজি ঠেকানোর প্রশ্নে তাঁর অবস্থানকে সামনে এনে দিল। পানিহাটিকে ‘সুন্দর পানিহাটি’ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য বিধায়ক জানিয়েছেন, তার সঙ্গে দুর্নীতি ও ভয় দেখানোর রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকেও যুক্ত করেছেন তিনি। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপরে চাপ সৃষ্টি করা বা অর্থ দাবি করার চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না, এ দিনের কর্মসূচি থেকে এমনই অবস্থান তুলে ধরলেন বিজেপি বিধায়ক। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক লড়াই, নারী নিরাপত্তা এবং এলাকার মানুষের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সরব থাকার কথাও জানিয়ে দিলেন রত্না দেবনাথ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal old age pension 2000 rupees, Suvendu Adhikari pension announcement | বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা ২ হাজার টাকা! নতুন করে আবেদন বাধ্যতামূলক, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন