Howrah Police SI arrested for bribe, Bantala Police Station SI bribery case | ঘুষের টাকা হাতে নিয়েই ফাঁস! হাত ধুতেই বেরিয়ে এল গোলাপি রং, হাওড়ার থানার এসআই গ্রেফতার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হাওড়া, ১৭ আগস্ট ২০২৪ : ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার এক সাব-ইনস্পেক্টরকে (SI) হাতেনাতে গ্রেফতার করল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (Anti-Corruption Bureau)। অভিযোগ, বধূ নির্যাতনের একটি মামলা সামলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন ওই পুলিশকর্মী। সেই টাকা নেওয়ার পরেই দুর্নীতিদমন শাখার পাতা ফাঁদে ধরা পড়েন তিনি। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, অভিযোগ অস্বীকার করার পর হাত ধুতে বলা হলে জল পড়তেই তাঁর হাতে ফুটে ওঠে গোলাপি রং। তদন্তকারীদের দাবি, ঘুষের টাকা চিহ্নিত করার জন্য নোটগুলিতে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়াতেই হাতের রং বদলে যায়। গ্রেফতার হওয়া পুলিশকর্মীর নাম সুব্রত সরকার (Subrata Sarkar)। তিনি ব্যাঁটরা থানায় সাব-ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। সোমবার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে কী ভাবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠল এবং তার পর দুর্নীতিদমন শাখার অভিযানে কীভাবে ওই পুলিশকর্মী ধরা পড়লেন, তা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের

ঘটনার সূত্রপাত গত ১ আগস্ট। হাওড়ার কৈলাস দাস লেনের বাসিন্দা পূজা রুইদাস ব্যাঁটরা থানায় তাঁর স্বামী অভিজিৎ রুইদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁর স্বামীর বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পান সুব্রত সরকার। অভিযোগ, তদন্তের সময় অভিজিৎকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর কাছে নগদ ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। মামলা যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে এগিয়ে না যায়, সেই উদ্দেশ্যেই ওই টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন অভিজিৎ। পুলিশের কাছে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে তিনি যোগাযোগ করেন অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর সঙ্গে।

দুর্নীতিদমন শাখার কাছে অভিযোগ পৌঁছনোর পর শুরু হয় পরিকল্পিত অভিযান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আধিকারিকেরা অভিজিৎকে সহযোগিতা করেন। তাঁকে বলা হয়, অভিযুক্ত পুলিশকর্মী যে টাকা দাবি করেছেন, সেই টাকা তাঁর হাতে তুলে দিতে। সেই অনুযায়ী সোমবার নির্দিষ্ট টাকা নিয়ে ব্যাঁটরা থানায় পৌঁছন অভিজিৎ। তবে ওই টাকা ছিল সাধারণ নোট নয়। তদন্তকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নোটগুলিতে এমন একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পরে হাত ধুলে তার উপস্থিতির চিহ্ন দেখা যায়। উদ্দেশ্য ছিল, টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুব্রত সরকার সেই ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে টাকা নেওয়ার পুরো ঘটনাটির উপর নজর রাখছিলেন দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা। টাকা লেনদেনের পরেই তাঁরা থানায় পৌঁছে যান। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীরা যখন সুব্রতের কাছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। এরপরই তাঁকে হাত ধোয়ার জন্য বলা হয়। সাধারণ ভাবে জল দিয়ে হাত ধোয়ার সেই মুহূর্তেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। হাতে জল পড়তেই গোলাপি রং ফুটে ওঠে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা জানান, ঘুষের টাকা হিসেবে যে নোটগুলি দেওয়া হয়েছিল, তাতে রাসায়নিক প্রয়োগ করা ছিল। সেই নোট হাতে নেওয়ার ফলে রাসায়নিকের চিহ্ন সুব্রতের হাতে চলে যায়। হাত ধোয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় গোলাপি রং হিসেবে। তদন্তকারীদের কাছে সেটিই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে। এরপর আর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে সুব্রত সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। পুরো ঘটনায় ঘুষের টাকা গ্রহণ, টাকা লেনদেনের পদ্ধতি ও পুলিশকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পরে ফের প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিতরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে। কোনও মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে যদি অভিযোগকারী বা অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে, তা হলে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। যদিও এই ঘটনায় আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, বধূ নির্যাতনের অভিযোগের মতো একটি সংবেদনশীল মামলাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ সামনে এসেছে। পূজা রুইদাসের অভিযোগের ভিত্তিতে যে মামলা শুরু হয়েছিল, সেটির তদন্তের সময়ই ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে মূল মামলার পাশাপাশি এখন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তের আওতায় চলে এসেছে। অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর এই অভিযান নিয়ে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখার তরফে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। সরকারি কাজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেআইনি ভাবে টাকা চাওয়ার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে হাত ধোয়ার পর গোলাপি রং বেরিয়ে আসা। অভিযোগ অস্বীকার করার পরেই যে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এনে দেয় বলে জানা গিয়েছে। ঘুষের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে দুর্নীতিদমন শাখার এমন পরিকল্পিত অভিযানের ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পথও তৈরি হয়।

এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে টাকা লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়া, অভিযোগের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি। সুব্রত সরকার তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে ওই মামলায় কী কী পদক্ষেপ করেছিলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল এবং টাকা চাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে মামলার তদন্তের কী সম্পর্ক ছিল, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি পারিবারিক হিংসার মামলা থেকে শুরু হয়ে যে ঘটনা শেষ পর্যন্ত পুলিশকর্মীর গ্রেফতারে গড়াল, তার অভিঘাত ইতিমধ্যেই হাওড়ার পুলিশ মহলে পৌঁছেছে। ১৫ হাজার টাকার অভিযোগ, দুর্নীতিদমন শাখার পরিকল্পিত অভিযান এবং হাত ধোয়ার পর গোলাপি রং, এই তিনটি ঘটনাই এখন ব্যাঁটরা থানার এসআই সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামনে তদন্ত যত এগোবে, আরও কী তথ্য প্রকাশ্যে আসে, এখন সেদিকেই নজর।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Keshpur news | ‘ওদের জেলে দেখতে চাই’, কেশপুরে পুলিশকে কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর, ক্ষুদিরামের স্মৃতিভূমির উন্নয়নে ৫ কোটি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন