সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ১৭ আগস্ট : ডিম ছোড়া নিয়ে এবার সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ সোমবার নিজের সংসদীয় এলাকায় গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী কিংবা নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভের সময় ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কীর্তি বলেন, তাঁর দিকে কেউ ডিম ছুড়লে তিনি চুপ করে থাকবেন না। আত্মরক্ষার কথা তুলে পিস্তলের লাইসেন্স নেওয়ার কথাও তিনি জানান। তাঁর মন্তব্যের পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনীতিতে বিক্ষোভের একটি হাতিয়ার হিসেবে ডিম ছোড়ার ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী, বিক্ষোভকারীদের ডিমের নিশানা হতে হয়েছে অনেককেই। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra), সৌগত রায় (Saugata Roy)-এর মতো নেতাদের কর্মসূচী ঘিরেও ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে সোমবার নিজের ক্ষোভের কথা জানান কীর্তি।
আরও পড়ুন : Koel Mallick resignation news | রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েই দিল্লিতে তৎপর কোয়েল মল্লিক! ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপিতে যোগের জল্পনা তুঙ্গে
বর্ধমান-দুর্গাপুর এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে কীর্তি বলেন, স্কুলের পড়ুয়াদের খাবার হিসেবে ডিম দেওয়া বন্ধ করার অভিযোগ উঠছে, অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘আমরাও নিজের সুরক্ষার জন্য পিস্তলের লাইসেন্স নিচ্ছি।’ তাঁর বক্তব্য, অন্য কেউ আক্রমণ করলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার তাঁদেরও রয়েছে। কীর্তি আজাদের এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাংসদের বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রসঙ্গও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাঁরা ভয় পাওয়ার মতো মানুষ নন। দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে কীর্তি বলেন, তাঁরা ভারতের হয়ে মাঠে নেমেছেন ও দেশের মর্যাদার জন্য খেলেছেন। সেই জায়গা থেকেই কোনও ধরনের হামলা বা অপমানের সামনে পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন কীর্তি আজাদ। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসার পর দীর্ঘদিন তিনি ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্রিকেটজীবনের প্রসঙ্গও মাঝে মাঝে উঠে আসে। সোমবারও নিজের অতীতের কথা টেনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেন কীর্তি। সোমবার কীর্তি আজাদের বক্তব্যে বিজেপির পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) প্রসঙ্গও উঠে আসে। ঋতব্রতকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, তাঁর করা বিভিন্ন কাজ ও ফোনে কথোপকথনের বিষয়ে তাঁরা অবগত। কার চাপের মুখে কে কী করেছেন, সেটিও তাঁরা জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদিও কীর্তির এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে কীর্তি ‘রাক্ষসরাজ’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়ার মন্তব্যটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সোমবার বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক এলাকায় ঘোরেন তৃণমূল সাংসদ। স্থানীয় কর্মসূচি ও সংগঠনের নানা বিষয় নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। সন্ধ্যায় দলের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের কথাও জানান। মঙ্গলবারও তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান সাংসদ।
দুর্গাপুজোর পরে তৃণমূল আরও বড় পরিসরে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বলেও জানান কীর্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর পর দলীয় কর্মসূচি আরও বাড়ানো হবে। অর্থাৎ উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে ফের সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু কীর্তি আজাদের বক্তব্যের অন্য একটি অংশ নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বাংলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এমনকি আফ্রিকার সঙ্গেও বাংলার পরিস্থিতির তুলনা টানেন তিনি। জলদস্যু প্রসঙ্গ তুলে কীর্তির বক্তব্য, সমুদ্রে জলদস্যু থাকার কথা শোনা যায়, কিন্তু বাংলায় শহর থেকে গলি, সব জায়গাতেই ‘জলদস্যু’ এবং ‘ডাকাত’ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের এই বক্তব্যের পর বিজেপির তরফেও পাল্টা আক্রমণ এসেছে। বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় (Chandrashekhar Banerjee) কীর্তির আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কীর্তি যদি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কথা বলেন, তা হলে তাঁকে ‘হাইড্রা’ করে তুলে বিহার পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কীর্তি আজাদ বিহারের বাসিন্দা, এই পরিচয়কে সামনে রেখেই বিজেপি বিধায়কের এমন মন্তব্য।
দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধের ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এক দিকে কীর্তি আজাদ আত্মরক্ষার অধিকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা তুলে পিস্তলের লাইসেন্স নেওয়ার কথা বলছেন, অন্য দিকে বিজেপি তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাল্টা রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। ফলে ডিম ছোড়ার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনীতিতে বিক্ষোভের ধরন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। নেতাদের সভা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্লোগান, কালো পতাকা, জুতো বা ডিম ছোড়ার মতো প্রতিবাদের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে। তবে তার পাল্টা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠে এলে তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। কীর্তি আজাদের বক্তব্যে যদিও আত্মরক্ষার কথাই সামনে রাখা হয়েছে, তবু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর মন্তব্যকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা নিয়েই এখন নজর। এদিকে বর্ধমান-দুর্গাপুরে সাংসদের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের সংগঠনও সক্রিয় হচ্ছে। পুজোর পরে আরও বড় কর্মসূচির প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কীর্তি। ফলে আগামী দিনে তাঁর বক্তব্য এবং দলীয় কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে। আপাতত ‘ডিম’ থেকে ‘পিস্তল’ কীর্তি আজাদের একটি মন্তব্যই রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madan Mitra defection, Bengal political crisis, TMC internal conflict | ‘সরি’ মেসেজের পরই বড় সিদ্ধান্ত! ইডি তলবের আবহে ঋতব্রত শিবিরে মদন, তৃণমূলে ভাঙনের নতুন অধ্যায়
Kirti Azad pistol license statement | ‘ডিম মারলে পিস্তল বার করব!’ কীর্তি আজাদের হুঁশিয়ারিতে বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড়, পাল্টা কড়া জবাব বিজেপির
Sasraya News
FOLLOW US:
SHARE:
সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ১৭ আগস্ট : ডিম ছোড়া নিয়ে এবার সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ সোমবার নিজের সংসদীয় এলাকায় গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী কিংবা নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভের সময় ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কীর্তি বলেন, তাঁর দিকে কেউ ডিম ছুড়লে তিনি চুপ করে থাকবেন না। আত্মরক্ষার কথা তুলে পিস্তলের লাইসেন্স নেওয়ার কথাও তিনি জানান। তাঁর মন্তব্যের পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনীতিতে বিক্ষোভের একটি হাতিয়ার হিসেবে ডিম ছোড়ার ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী, বিক্ষোভকারীদের ডিমের নিশানা হতে হয়েছে অনেককেই। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra), সৌগত রায় (Saugata Roy)-এর মতো নেতাদের কর্মসূচী ঘিরেও ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে সোমবার নিজের ক্ষোভের কথা জানান কীর্তি।
আরও পড়ুন : Koel Mallick resignation news | রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েই দিল্লিতে তৎপর কোয়েল মল্লিক! ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপিতে যোগের জল্পনা তুঙ্গে
বর্ধমান-দুর্গাপুর এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে কীর্তি বলেন, স্কুলের পড়ুয়াদের খাবার হিসেবে ডিম দেওয়া বন্ধ করার অভিযোগ উঠছে, অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘আমরাও নিজের সুরক্ষার জন্য পিস্তলের লাইসেন্স নিচ্ছি।’ তাঁর বক্তব্য, অন্য কেউ আক্রমণ করলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার তাঁদেরও রয়েছে। কীর্তি আজাদের এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাংসদের বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রসঙ্গও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাঁরা ভয় পাওয়ার মতো মানুষ নন। দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে কীর্তি বলেন, তাঁরা ভারতের হয়ে মাঠে নেমেছেন ও দেশের মর্যাদার জন্য খেলেছেন। সেই জায়গা থেকেই কোনও ধরনের হামলা বা অপমানের সামনে পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন কীর্তি আজাদ। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসার পর দীর্ঘদিন তিনি ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্রিকেটজীবনের প্রসঙ্গও মাঝে মাঝে উঠে আসে। সোমবারও নিজের অতীতের কথা টেনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেন কীর্তি। সোমবার কীর্তি আজাদের বক্তব্যে বিজেপির পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) প্রসঙ্গও উঠে আসে। ঋতব্রতকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, তাঁর করা বিভিন্ন কাজ ও ফোনে কথোপকথনের বিষয়ে তাঁরা অবগত। কার চাপের মুখে কে কী করেছেন, সেটিও তাঁরা জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদিও কীর্তির এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে কীর্তি ‘রাক্ষসরাজ’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়ার মন্তব্যটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সোমবার বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক এলাকায় ঘোরেন তৃণমূল সাংসদ। স্থানীয় কর্মসূচি ও সংগঠনের নানা বিষয় নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। সন্ধ্যায় দলের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের কথাও জানান। মঙ্গলবারও তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান সাংসদ।
দুর্গাপুজোর পরে তৃণমূল আরও বড় পরিসরে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বলেও জানান কীর্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর পর দলীয় কর্মসূচি আরও বাড়ানো হবে। অর্থাৎ উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে ফের সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু কীর্তি আজাদের বক্তব্যের অন্য একটি অংশ নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বাংলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এমনকি আফ্রিকার সঙ্গেও বাংলার পরিস্থিতির তুলনা টানেন তিনি। জলদস্যু প্রসঙ্গ তুলে কীর্তির বক্তব্য, সমুদ্রে জলদস্যু থাকার কথা শোনা যায়, কিন্তু বাংলায় শহর থেকে গলি, সব জায়গাতেই ‘জলদস্যু’ এবং ‘ডাকাত’ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের এই বক্তব্যের পর বিজেপির তরফেও পাল্টা আক্রমণ এসেছে। বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় (Chandrashekhar Banerjee) কীর্তির আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কীর্তি যদি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কথা বলেন, তা হলে তাঁকে ‘হাইড্রা’ করে তুলে বিহার পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কীর্তি আজাদ বিহারের বাসিন্দা, এই পরিচয়কে সামনে রেখেই বিজেপি বিধায়কের এমন মন্তব্য।
দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধের ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এক দিকে কীর্তি আজাদ আত্মরক্ষার অধিকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা তুলে পিস্তলের লাইসেন্স নেওয়ার কথা বলছেন, অন্য দিকে বিজেপি তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাল্টা রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। ফলে ডিম ছোড়ার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনীতিতে বিক্ষোভের ধরন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। নেতাদের সভা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্লোগান, কালো পতাকা, জুতো বা ডিম ছোড়ার মতো প্রতিবাদের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে। তবে তার পাল্টা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠে এলে তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। কীর্তি আজাদের বক্তব্যে যদিও আত্মরক্ষার কথাই সামনে রাখা হয়েছে, তবু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর মন্তব্যকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা নিয়েই এখন নজর। এদিকে বর্ধমান-দুর্গাপুরে সাংসদের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের সংগঠনও সক্রিয় হচ্ছে। পুজোর পরে আরও বড় কর্মসূচির প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কীর্তি। ফলে আগামী দিনে তাঁর বক্তব্য এবং দলীয় কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে। আপাতত ‘ডিম’ থেকে ‘পিস্তল’ কীর্তি আজাদের একটি মন্তব্যই রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madan Mitra defection, Bengal political crisis, TMC internal conflict | ‘সরি’ মেসেজের পরই বড় সিদ্ধান্ত! ইডি তলবের আবহে ঋতব্রত শিবিরে মদন, তৃণমূলে ভাঙনের নতুন অধ্যায়
Author: Sasraya News
Sunil Gavaskar on India vs New Zealand Test: শুভমন গিলদের গাওস্করের ব্যাটিং টোটকা! ‘দেরিতে খেলো, ধৈর্য ধরো’
Sourav Ganguly, Delhi Capitals | অমিত মিশ্রকে স্পিন কোচ করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
Koel Mallick, Mallik Bari Durga Puja | মল্লিকবাড়ির সিঁদুরখেলায় কোয়েল মল্লিক, বিজয়ার সাবেকি সাজে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী
Ranbir Kapoor Yash | Suvendu Adhikari : রাবণ দহনের মঞ্চে রাম-রাবণ একসঙ্গে! সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রণবীর-যশের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি’
Harmanpreet Kaur, Indian Women’s Cricket | অধিনায়কত্ব হারানোর যন্ত্রণা, ব্যাট হাতে জবাব! ৪১ বলে ৯১ রান করেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন হরমনপ্রীত কৌর