সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan) -এর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। কিন্তু ইস্তফার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav) -এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-তে যোগ দিতে চলেছেন কোয়েল?
দিল্লিতে এই ধারাবাহিক ঘটনার সময়সূচী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রথমে ইমেলের মাধ্যমে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠালেও নিয়ম মেনে সশরীরে হাজির হয়ে তা জমা দিতে হয় কোয়েলকে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে উপরাষ্ট্রপতির দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ‘রুক্মিণী’ নামেও, তবে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি কোয়েল নামেই বেশি পরিচিত। ইস্তফা জমা দেওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন করে জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। সম্প্রতি ভূপেন্দ্র যাদবের উদ্যোগে বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদের দলবদল রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি করেছিল। এর আগেই চলতি মাসে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) ও প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দল পরিবর্তনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের বিজেপির তরফে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় এবং কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও তাঁরা সংসদে ফেরেন।
এই প্রেক্ষাপটে কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ এবং ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। একই কৌশল কি এবার তাঁর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে চলেছে? তিনি কি বিজেপির হয়ে পুনরায় রাজ্যসভায় ফিরতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু ঘটনাপ্রবাহ অনেককেই সেই দিকেই ভাবতে বাধ্য করছে। কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁর সঙ্গে একই সময়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar), প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) ও আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy)। মনোনয়নের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নিজে মল্লিক পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলেও জানা যায়।
রাজ্যসভায় শপথ নেওয়ার সময় কোয়েলের বক্তব্যও সে সময় যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে সম্মানের।’ সেই বক্তব্যের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক দলবদলের ধারা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তার সঙ্গে কোয়েলের পদক্ষেপের যোগ থাকতে পারে। আবার অন্য অংশের মতে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও হতে পারে, যার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। তবে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক এই জল্পনাকে আরও জোরদার করেছে।
এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দু, সুস্মিতা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা নজরে রেখেই অনেকে কোয়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুমান করছেন। তাঁদের মতোই কি কোয়েলও নতুন দলে গিয়ে পুনরায় সংসদে ফিরবেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক অন্দরে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তৃণমূলের তরফে কোয়েলের এই পদত্যাগকে কীভাবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবু এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও কোয়েলের এই পদক্ষেপ নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একদিকে তাঁর জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে সাম্প্রতিক দলবদলের ধারা, দুই মিলিয়ে এই ঘটনা জাতীয় স্তরেও নজর কেড়েছে। এখন দেখার, কোয়েল মল্লিক পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি সম্পূর্ণ অন্য কোনও পথ বেছে নেবেন, এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IRCTC new website launch 2026, train ticket booking seat selection India | ট্রেন টিকিট বুকিং! IRCTC -এর নতুন ওয়েবসাইটে মিনিটে দেড় লাখ টিকিট, আগেই বেছে নেওয়া যাবে সিট



