Karoline Leavitt resignation | দুই শিশুসন্তানকে সময় দিতে ট্রাম্পের প্রেস সচিবের পদত্যাগ! ২৮ বছরেই হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়লেন ক্যারোলিন লেভিট

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: দুই শিশুসন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান। সেই কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ক্যারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt)। মাত্র ২৮ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসের (White House) প্রেস সচিবের দায়িত্ব পাওয়া লেভিট ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রশাসনের নীতির পক্ষে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখা থেকে শুরু করে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে। তবে এবার সেই দায়িত্ব থেকে নিজেই সরে দাঁড়ালেন লেভিট। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রেস সচিবের পদ ছাড়লেও পুরোপুরি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না লেভিট। প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। ফলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বজায় থাকবে।

আরও পড়ুন : Donald Trump News, Trump Secret Flight | এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠেও গন্তব্যে পৌঁছলেন না ট্রাম্প! ইরানের হামলার আশঙ্কায় কেটারিং ট্রাকে গোপনে বদল বিমান

আরও পড়ুন : Ayushman Bharat Name Mismatch, Ayushman Bharat Card West Bengal | ‘মুখার্জি-মুখোপাধ্যায় হলেও আয়ুষ্মান ভারত থেকে নাম কাটবে না!’ SIR -এর অভিজ্ঞতার পর নবান্নের বড় নির্দেশ

ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট পদে প্রত্যাবর্তনের পর লেভিটকে প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২৬ বছর বয়সি লেভিট হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হন। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই পদে বসার নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। অল্প বয়সেই এত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার কারণে শুরু থেকেই তাঁকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগ্রহ ছিল। প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে লেভিটকে দেখা যেত। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া, প্রেসিডেন্টের অবস্থান তুলে ধরা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার জবাব দিতেও একাধিক বার প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও নতুন নয়। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারপর্বে ট্রাম্পের প্রচারদলের হয়ে সক্রিয় ভাবে কাজ করেছিলেন লেভিট। সেই সময় থেকেই ট্রাম্পের আস্থাভাজন তরুণ মুখ হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়। নির্বাচনে ট্রাম্প জয় পাওয়ার পরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর নিয়োগ সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছিলেন লেভিট। গত মে মাসে তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর কিছু সময় মাতৃত্বকালীন ছুটিতেও ছিলেন তিনি। পরে আবার হোয়াইট হাউসের কাজে ফিরে আসেন। কিন্তু ফের কাজে যোগ দেওয়ার পরই বুঝতে পারেন, প্রেস সচিবের মতো উচ্চচাপের দায়িত্ব সামলে সন্তানদের যে পরিমাণ সময় দিতে চান, তা সম্ভব হচ্ছে না।

ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানানোর পর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন লেভিট। সেখানে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, মাতৃত্বের সময়টিকে নিজের ইচ্ছেমতো উপভোগ করতে চান। একই সঙ্গে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও যথাযথ ভাবে পালন করতে হয়। দুটি ভূমিকার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই পরিবারকে আরও বেশি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লেভিটের এই সিদ্ধান্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটছে না। প্রেস সচিবের পদ থেকে সরে গেলেও ট্রাম্পের যোগাযোগ সংক্রান্ত বিভাগের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন তিনি। ফলে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকবে। তবে আগের মতো প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে প্রেস ব্রিফিং করার দায়িত্ব আর তাঁর থাকবে না।

লেভিটের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্পও। সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রেস সচিবের প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, লেভিট হোয়াইট হাউসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারেও লেভিটের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের হয়ে সংবাদমাধ্যম এবং জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে সেই ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়। মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রেস সচিবের দায়িত্ব নেওয়া লেভিটের রাজনৈতিক উত্থান মার্কিন রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোচিত। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন। রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর পরিচিতিও তৈরি হয়েছিল। প্রেস সচিব হওয়ার পরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের নীতি তুলে ধরতেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কখনও অভিবাসন নীতি, কখনও অর্থনীতি, কখনও বিদেশনীতি, আবার কখনও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রশাসনের অবস্থান রক্ষায় তাঁর দৃঢ় বক্তব্য তাঁকে ট্রাম্প শিবিরের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করেছিল। কিন্তু, লেভিটের পদত্যাগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। নিজের পারিবারিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাই জানিয়েছেন তিনি। দুই সন্তানের মা হিসেবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে এনেছেন ২৮ বছর বয়সী এই আধিকারিক। বিশেষ করে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর দায়িত্বের চাপ তাঁর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সন্তানদের দেখাশোনার মধ্যে সময় ভাগ করে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। সেই কারণেই প্রেস সচিবের মতো পূর্ণকালীন এবং অত্যন্ত ব্যস্ত পদ ছেড়ে পরামর্শদাতার দায়িত্ব নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

লেভিটের সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নানা আলোচনা শুরু হলেও তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকার প্রশংসাই করেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তাঁর প্রতি আস্থার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ফলে আগামী দিনেও ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজে লেভিটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই পদত্যাগ হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সচিব কে হবেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। নতুন প্রেস সচিবকে শুধু প্রশাসনের নীতি ব্যাখ্যা করলেই হবে না, ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানও সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে হবে। ফলে লেভিটের উত্তরসূরি বাছাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। লেভিটের ক্ষেত্রে অবশ্য দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে রাজনীতি নয়, পরিবারই সামনে এসেছে। প্রেস সচিবের পদে থেকে যে সময় ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়, তার সঙ্গে দুই শিশুসন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে নতুন ধরনের ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ক্যারোলিন লেভিটের মেয়াদ তাই আপাতত শেষ হল। কিন্তু ট্রাম্পের যোগাযোগ সংক্রান্ত পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক যাত্রা অব্যাহত থাকছে। ফলে পদ বদল হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | মোদীর পর কে? ২০৩৪-এর ভারত, বিজেপির উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা, যুব নেতৃত্ব বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন