সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: মেয়েকে রাস্তায় দেখলেই কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছিল এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন এমন আচরণ চললেও বার বার সতর্ক করেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তরুণীর পরিবারের। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তরুণীর মা। অভিযোগ, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার সময় ওই প্রৌঢ়কে হাতেনাতে ধরে তাঁর জামার কলার চেপে ধরেন তিনি। তার পর একটি টোটো ভাড়া করে অভিযুক্তকে তাতেই বসিয়ে নিজে পাশে বসেন। গন্তব্য একটাই, কান্দি থানা। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার নতুনপাড়া এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার এক তরুণীকে রাস্তায় বেরোলেই এক প্রৌঢ় অনুসরণ করতেন বলে অভিযোগ। শুধু পিছু নেওয়া নয়, তাঁকে লক্ষ্য করে নিয়মিত কটূক্তি এবং অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি তরুণীর পরিবারের নজরে আসার পর তাঁর মা ওই ব্যক্তিকে কয়েক বার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের তরফে অভিযোগ, তরুণী বাড়ির বাইরে বেরোলেই অভিযুক্ত তাঁর পিছনে যেতেন। কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে মন্তব্য করতেন, কখনও আবার তরুণীকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের অশালীন কথা বলতেন। কয়েক দিন ধরে এমন আচরণ চলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। মেয়েকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে দেখে মা ওই প্রৌঢ়কে সাবধানও করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ফের একই আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালেও নাকি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আর তখনই পরিস্থিতি বদলে যায়। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান তরুণীর মা। আর কোনও কথা না বাড়িয়ে তাঁর জামার কলার ধরে ফেলেন তিনি। অভিযুক্তকে সেখান থেকে ছেড়ে না দিয়ে টোটো ভাড়া করেন। এর পর জোর করে তাঁকে টোটোয় তুলে থানার দিকে রওনা দেন মহিলা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাটি দেখে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। টোটোয় অভিযুক্তকে বসিয়ে নিজেও সেখানে ওঠেন ওই মহিলা। তবে অভিযুক্তের জামার কলার তাঁর হাতেই ছিল। যেন মাঝপথে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে না পারেন, সে দিকেও নজর রাখছিলেন তিনি। নতুনপাড়া এলাকা থেকে টোটোটি কান্দী থানার দিকে এগিয়ে যায়। স্কুলের সামনের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে টোটোটি কান্দি থানার সামনে পৌঁছনোর পর অভিযুক্তকে নিয়ে সোজা পুলিশের কাছে চলে যান মহিলা। থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা পুলিশকর্মীদের জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, ওকে ছাড়বেন না। আমার মেয়ে আসছে অভিযোগ করতে।’
পুলিশের তরফে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলা হলে মহিলা জানান, তাঁর মেয়ে থানায় এসে অভিযোগপত্র জমা দেবেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল। একাধিক বার অভিযুক্তকে সাবধান করা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই এ বার আর বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার পথে না গিয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। ঘটনার পর কান্দি থানার পুলিশ ওই প্রৌঢ়কে আটক করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, তরুণীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনাটি কোথায় এবং কী ভাবে ঘটেছে, সেই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি অভিযুক্তের আচরণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তারও তদন্ত করা হবে। মেয়েকে রাস্তায় বেরোনোর সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। তাঁদের অভিযোগ, বার বার সতর্ক করার পরেও অভিযুক্ত নিজের আচরণ বদলাননি। ফলে মঙ্গলবার সকালে ফের একই ঘটনা ঘটার পর তরুণীর মা আর অপেক্ষা না করে সরাসরি তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার ধরন দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারি চালানোর কথা জানানো হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, মহিলাদের উত্ত্যক্ত করা বা তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হয়। এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশের তরফে মহিলাদেরও কোনও ধরনের হয়রানি বা কটূক্তির ঘটনা ঘটলে দ্রুত থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কান্দীর নতুনপাড়ার এই ঘটনা আরও এক বার সামনে এনে দিল, রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলির উদ্বেগ কতটা গভীর। অভিযোগ উঠলে অনেক সময় তা নিয়ে দীর্ঘদিন মুখ খোলেন না পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু এই ঘটনায় তরুণীর মা নিজেই অভিযুক্তকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পথ বেছে নিয়েছেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তরুণীর লিখিত অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
মুর্শিদাবাদের কান্দীতে মঙ্গলবারের এই ঘটনা তাই শুধু এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেয়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক মায়ের সরাসরি পদক্ষেপ স্থানীয় এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন পুলিশের তদন্তে অভিযোগের কতটা সত্যতা মেলে ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee protest, Kanchrapara incident | কাঁচরাপাড়ায় উত্তাল পরিস্থিতি, মমতার গাড়িতে কাদা-চটি নিক্ষেপ, চোর স্লোগানে ঘিরে বিক্ষোভ




